গুতেরেসের স্বাগত প্রাতরাশে প্রধানমন্ত্রী ও জুবাইদা রহমান
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩১
•
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্র এখন নিউইয়র্ক। যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু সংকট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বহুমুখী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের পর্বে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের মঞ্চে তাঁর প্রথম উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের স্বাগত প্রাতরাশে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। একই দিনে তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বেও যোগ দেন।
মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে সমবেত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সঙ্গীদের সম্মানে এই প্রাতরাশের আয়োজন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
প্রাতরাশের পর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী, এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য এবারের নিউইয়র্ক সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে এবং তাঁর জন্য ১৫ মিনিট বক্তব্যের সময় বরাদ্দ রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাবে। যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফর শুধু জাতিসংঘের ভাষণে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সফরসূচিতে রয়েছে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গেও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে টেকসই সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও তিনি অংশ নেবেন। পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও সফরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধানসহ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের বিষয় সামনে আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান ও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মহাসচিবের প্রাতরাশ থেকে শুরু করে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্ব, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের বহুল প্রত্যাশিত ভাষণ—সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কয়েক দিনের সফর বাংলাদেশের জন্য এক ব্যস্ত কূটনৈতিক অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।