প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮
•
অনলাইন সংস্করণ
বাঁ থেকে গুলশান বিভাগের ডিসি এম তানভীর আহমেদ ও গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল এবং পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনার পাঁচ দিন পর গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ ও গুলশান মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাদের ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সই করা পৃথক অফিস আদেশে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ডিসি এম তানভীর আহমেদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
গত শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন একটি সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন আব্দুর রহিম ও আরাফাত। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর দায়ের করা মামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাটিকে ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের কথা বলে কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ওই সময় তারা এমন কিছু করতে পারে—পুলিশ হয়তো তা আন্দাজ করতে পারেনি।
গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মীর ঝটিকা মিছিল, পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ এবং পরে ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই গুলশান বিভাগের ডিসি ও গুলশান থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো।