বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার কর্মী

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার কর্মী

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। সরকারের দাবি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও অনিয়মমুক্ত একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ শ্রমবাজার চালু হচ্ছে এবং এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটির সরকার।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দার-এর সঙ্গে সরাসরি এ বিষয়ে আলোচনা করেন। সরকারের ভাষ্য, এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

সরকার জানায়, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রথম ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। এ কর্মীদের বিমান ভাড়াসহ কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হবে না।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারকের আওতায় রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব মালয়েশিয়া সরকারের হাতে থাকায় বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শর্ত পরিবর্তন সহজ ছিল না।

তবে ছয় মাসের ধারাবাহিক আলোচনার পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নির্বাচিত হয়েছে এবং অতিরিক্ত ৩১২টি এজেন্সি অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে। এর সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল যুক্ত হওয়ায় মোট ৩৩৮টি এজেন্সি এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।

সরকারের দাবি, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এজেন্সিগুলোর যাচাই-বাছাই করেছে এবং এতে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা ছিল না।

শ্রমবাজার দ্রুত চালুর স্বার্থে বিতর্কিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে আপাতত ১৬টি অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করবে।

এ ছাড়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের হয়রানি বন্ধ, মালয়েশিয়ায় সরাসরি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে যোগদান, শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্কও চালু করা হবে।

মন্ত্রণালয় শ্রমবাজার ঘিরে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন, মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা দেওয়া যাবে না।

সরকারের মতে, এ শ্রমবাজার চালু হলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz