বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

স্বামী রাব্বির সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে বান্ধবীকে হত্যা করেন সাহিদা

স্বামী রাব্বির সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে বান্ধবীকে হত্যা করেন সাহিদা

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
রাজধানীর সবুজবাগে ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী নামে এক তরুণীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলায় তার বান্ধবী নুসরাত জাহান সাহিদাসহ দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, সাহিদার স্বামী রাব্বির সঙ্গে ফালানীর সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন স্বামী রাব্বির সঙ্গে ফালানীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলেন সাহিদা। পরে তিনি ছুরি দিয়ে ফালানীকে হত্যা করেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তাদের মধ্যে ফালানীর বান্ধবী নুসরাত জাহান সাহিদা ও তার ‘পাতানো ভাই’ কবির হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তা রেকর্ড করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই সঙ্গে অপর চার আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

কারাগারে যাওয়া বাকি চার আসামি হলেন ফারুক ওরফে জামাই ফারুক, সুজন, মামুন, রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি ও রকি। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মমিনুল ইসলাম।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তার দাবি, সাহিদার স্বামী রাব্বির সঙ্গে তার বান্ধবী ফালানীর সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলেন সাহিদা। এরপর ছুরি দিয়ে আঘাত করে ফালানীকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সাহিদার সঙ্গী শাওন নিহতের মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। শাওন ও সাহিদার স্বামী রাব্বি বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ৬ আগস্ট সবুজবাগের মাদারটেক বাগানবাড়ির একটি গরুর খামারসংলগ্ন সেতুর নিচ থেকে একটি খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ছবি দেখে নিহতের মা-বাবা দেহাংশটি ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীর বলে শনাক্ত করেন।

১৯ বছর বয়সী ফালানী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে। এ ঘটনায় ওইদিনই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ২১ আগস্ট ফালানীর বান্ধবী সাহিদাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্যদিকে স্বীকারোক্তি দেওয়া কবিরকে গত মঙ্গলবার খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, মামলাটির তদন্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz