মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৩
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সহায়তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। তিনি জানান, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজীকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য বেসরকারি খাতনির্ভর, নিয়মভিত্তিক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ রূপান্তরে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় সরকার।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে মার্কিন বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং পরামর্শক সেবার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সরকার আগ্রহী।
২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্রাধিকার খাতে প্রণোদনা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
রাজনীতিতে আসার আগে নিজে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণে সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশের গুরুত্ব তিনি ভালোভাবেই বোঝেন। তিনি সফররত ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়ে শুনতে, সাড়া দিতে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।