মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা

​টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা

বিজ্ঞাপন


কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে সয়লাব করছে পানি। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলে বসবাস করা লোকজন।

৮ জুলাই (বুধবার) দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখা গেছে।

নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। এতে খাদ্য সংকটে পড়ছেন ওইসব বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে অনেক পরিবার।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, মুরাদপুর, হাজি পাড়া, লালদিঘির পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড়, গোলপাহাড় কাজিরহাটসহ নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে।

নগরীর কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হয়েছে। কয়েকটি দোকানের আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। 

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার আমার বাসায় পানি ছিল না। রাতের বৃষ্টিতে সকাল থেকে পানি বেড়ে গেছে। এখন আমার বাসায় কোমর সমান পানি। বাসার মালামাল পাশের একটি বাসায় রাখছি। পানি না কমলে আপাতত কোনো আত্মীয়ের বাসায় রাত কাটাতে হবে।     

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আকলিমা বলেন, বাসা নিচতলায় হওয়ায় সমস্যায় পড়েছি। বাসায় এখন হাঁটু সমান পানি। রান্নাঘরও ডুবে গেছে। সকাল থেকে পরিবারের সবাই শুকনো খাবার খেয়ে আছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। 

আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আরও দুদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলোশহর এলাকায় আটকে পড়ার পর প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার শেষে রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ট্রেনে থাকা প্রায় এক হাজার যাত্রী দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে স্টেশনে আটকে থাকেন। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেনটি আর কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।



ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz