শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• নেতানিয়াহু যা-ই করুন, সরকার গঠন করতে পারবেন না : ইয়ার লাপিদ • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়েছে : হুমায়ুন কবির • কিছু লোকের ধাওয়ায় তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেয় : পিবিআইকে দ্বীপ • ইরানে হামলার প্রস্তুতি জোরালো, ইসরায়েলে মার্কিন বিমানের বহর • এক শর্তে জয়া আহসানের সঙ্গে কফি খাওয়ার সুযোগ • ওরেগনে মাঝ আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ৩ • ফাইনালে হেরে বিশ্বকাপে ১৩০তম হলো বাংলাদেশ • ‘পুলিশের লোকের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় তাহসিফ, আমি পালিয়ে আসি’ • প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, তদন্তে কমিটি • প্রতিদিনের যে ৫ অভ্যাস নীরবে আপনার লিভারের ক্ষতি করছে

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
পুলিশের গুলিতে হামলাকারীর মৃত্যু

টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে  ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা এরিন পিয়াচেন্তি (বাঁয়ে) এবং হামলাকারী পামেলা সিসনেরোস। ছবি: সংগৃহীত।

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারে দিনের ব্যস্ত সময়ে এক নারীর এলোপাতাড়ি ছুরি হামলায় ৩২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। হামলার পর দুই হাতে ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে এনওয়াইপিডির দুই কর্মকর্তা গুলি চালান। পরে হাসপাতালে হামলাকারীরও মৃত্যু হয়।
ছুরিকাঘাতে নিহত এরিন পিয়াচেন্তি (৩২) নিউজার্সির চেস্টারের বাসিন্দা এবং ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত ব্যক্তিকে টাক কাম (৬৮) বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনি রোড আইল্যান্ডের বাসিন্দা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল। 
ঘটনাটি ঘটে ৩১ আগস্ট সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ম্যানহাটনের সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ও ওয়েস্ট ৪১ থেকে ৪৩ স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকায়, যা প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ও নিউইয়র্কবাসীর পদচারণায় মুখর থাকে।
এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে কুইন্সের বাসিন্দা পামেলা সিসনেরোস (৪৯) হিসেবে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দুই ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় বা কোনো ধরনের বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ‘আকস্মিক ও উসকানিবিহীন’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। 
পুলিশ কমিশনারের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেল আনুমানিক ৪টা ২৪ মিনিটে ৬৮ বছর বয়সী টাক কাম তার স্ত্রীকে নিয়ে সাবওয়ে থেকে বের হন। ওয়েস্ট ৪১ স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের কাছে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরো জানায়, ওই সময় পামেলা সিসনেরোস একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ থেকে দুটি বড় ছুরি বের করেন। প্রথমে তিনি ছুরিগুলো নাড়াতে থাকেন এবং হঠাৎ কাম-এর দিকে এগিয়ে গিয়ে তার পেটের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করেন।
হামলার সঙ্গে ভুক্তভোগীর কোনো কথোপকথন বা বিরোধ হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
গুরুতর আহত অবস্থায় কামকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তিনি গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন। 
প্রথম ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করার পর হামলাকারী সিসনেরোস সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে যান।
পুলিশ বলছে, প্রথম হামলার মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই ওয়েস্ট ৪২ স্ট্রিটের কাছে তিনি ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তির কাছে গিয়ে তাকেও পেটে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 
পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, নিউজার্সির চেস্টারের বাসিন্দা এরিন পিয়াচেন্তি ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিজনেস সিলেকশন ও কনফ্লিক্টস) পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরে ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে গত ১০ আগস্ট তিনি তার দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছিলেন। ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সম্পূর্ণ অপরিচিত এক ব্যক্তির হাতে তার আকস্মিক মৃত্যু নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 
দ্বিতীয় হামলার পর সিসনেরোস আরও উত্তর দিকে এগিয়ে টাইমস স্কয়ারের এনওয়াইপিডি সাবস্টেশনের দিকে যেতে থাকেন। এ সময় ঘটনাস্থলের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কর্মকর্তারা সিসনেরোসকে দুই হাতে ছুরি নিয়ে দেখতে পান।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, কর্মকর্তারা তাকে প্রায় চার মিনিট ধরে বারবার ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সিসনেরোস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, তিনি কিছুই ফেলবেন না এবং বরং তাদের হত্যা করবেন। এরপরও পুলিশ প্রথমে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
এনওয়াইপিডি কর্মকর্তারা সিসনেরোসকে থামাতে একাধিকবার টেজার বা ইলেকট্রনিক স্টান গান ব্যবহার করেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপরও দুই হাতে ছুরি ধরে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। তখন দুই কর্মকর্তা তাদের সার্ভিস অস্ত্র থেকে গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিসনেরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
এনওয়াইপিডি কমিশনার জানিয়েছেন, পামেলা সিসনেরোসের কোনো পূর্ববর্তী গ্রেপ্তারের ইতিহাস ছিল না। তবে তার বিষয়ে পুলিশের কাছে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুটি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত ছিল।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি এবং হামলাকারী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেছিলেন বলেও এখন পর্যন্ত প্রমাণ মেলেনি। 
পুরো পুলিশি মুখোমুখি অবস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা বডি-ওর্ন ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, ঘটনার নিয়মিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে এবং বডিক্যাম ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
মেয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, তাদের পদক্ষেপ আরও ভয়াবহ প্রাণহানি ঠেকিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিহত ব্যক্তি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশও ঘটনাটিকে একটি অর্থহীন ও ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে বর্ণনা করেন। 
ঘটনার পর নিউইয়র্কে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান সেবা এবং সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই তাদের শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মেয়র মামদানি সম্প্রতি জরুরি পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা বাড়াতে কমিউনিটি সেফটি দপ্তর গঠন করেছেন।
তবে মেয়র বলেন, টাইমস স্কয়ারের এই পরিস্থিতি সেই ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া দলের আওতায় পড়ত না। কারণ সন্দেহভাজন ইতোমধ্যেই দুই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন এবং তখনও দুই হাতে অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্যদের জন্য তাৎক্ষণিক প্রাণঘাতী হুমকি সৃষ্টি করছিলেন। 
ঘটনাটি এমন একটি স্থানে ঘটেছে, যেটি শুধু নিউইয়র্ক নয়, বিশ্বের অন্যতম পরিচিত এবং সবচেয়ে বেশি পুলিশি নজরদারিতে থাকা পর্যটন এলাকা।
প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক টাইমস স্কয়ারে আসেন। ঘটনাস্থলের কাছেই রয়েছে ওয়ান টাইমস স্কয়ার এবং নিউ ইয়ারস ইভ বল ড্রপের স্থান।
ব্যস্ত বিকেলে প্রকাশ্যে এমন হামলা এবং পরবর্তী পুলিশি গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে থাকা পর্যটক ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর কিছু সময় সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশ বন্ধ রেখে তদন্ত চালানো হয়। পরে সড়কটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশি গুলি চালানোর বিষয়টিও নিয়ম অনুযায়ী পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz