শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• নেতানিয়াহু যা-ই করুন, সরকার গঠন করতে পারবেন না : ইয়ার লাপিদ • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়েছে : হুমায়ুন কবির • কিছু লোকের ধাওয়ায় তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেয় : পিবিআইকে দ্বীপ • ইরানে হামলার প্রস্তুতি জোরালো, ইসরায়েলে মার্কিন বিমানের বহর • এক শর্তে জয়া আহসানের সঙ্গে কফি খাওয়ার সুযোগ • ওরেগনে মাঝ আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ৩ • ফাইনালে হেরে বিশ্বকাপে ১৩০তম হলো বাংলাদেশ • ‘পুলিশের লোকের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় তাহসিফ, আমি পালিয়ে আসি’ • প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, তদন্তে কমিটি • প্রতিদিনের যে ৫ অভ্যাস নীরবে আপনার লিভারের ক্ষতি করছে

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্য, অভিবাসী পরিবারে উদ্বেগ

কিশোর গ্যাংয়ে বাংলাদেশিরা

কিশোর গ্যাংয়ে বাংলাদেশিরা

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন এক উদ্বেগের নাম হয়ে উঠছে ‘কিশোর গ্যাং’। স্কুলপড়ুয়া কিংবা সদ্য কৈশোর পেরোনো তরুণদের কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে সংঘবদ্ধ মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র বহন, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের ওপর হামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ‘গ্যাং সংস্কৃতিতে’। সম্প্রতি নিউইয়র্ক পুলিশের এক অভিযানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে গ্রেপ্তারের তথ্য মিলেছে। 
ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো কিশোর-দুষ্টুমি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিউইয়র্ক পুলিশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এবং কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির একের পর এক মামলার নথি বলছে, সামগ্রিকভাবে শহরে গুলির ঘটনা কমলেও সহিংস অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততার হার উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে।
২০২৫ সালে নিউইয়র্কে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের ১৪ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে। একই সময়ে পুলিশের হিসাবে গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের ১৮ শতাংশই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক, ২০১৮ সালে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর যা সর্বোচ্চ হার। অর্থাৎ নিউইয়র্কে সামগ্রিক বন্দুক সহিংসতা কমলেও কিশোরদের একটি ছোট অংশ ক্রমেই ভয়ংকর সহিংস অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। কিশোরদের কীভাবে গ্যাংয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার একটি ভয়াবহ উদাহরণ উঠে এসেছে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির সাম্প্রতিক মামলায়।
গত ৩০ জুন কুইন্সের প্রসিকিউটররা কথিত ব্লিটজ গ্যাং-৪ এর ২২ সদস্যের বিরুদ্ধে ৯৭ দফার অভিযোগপত্র ঘোষণা করেন। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৩ সাল থেকে এই গ্যাং এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর সংঘর্ষে অন্তত ১১টি গুলির ঘটনা ও একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়- প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ক্যামব্রিয়া হাইটসের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে এক বিরোধের সময় একজন বয়স্ক গ্যাং সদস্য ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে প্রতিপক্ষকে গুলি করার নির্দেশ দেয়**। ওই কিশোর একাধিক গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ। 
এটি দেখিয়ে দেয়, অপরাধী চক্রে কিশোররা শুধু অনুসারী নয়; কখনো কখনো তাদের সরাসরি ‘শুটার’ হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিশোর সহিংসতার ঘটনাগুলো শুধু তথাকথিত গ্যাং-এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকছে না।
২০২৫ সালের মে মাসে ফ্ল্যাশিং-এর কিসেনা পার্কে দুই কিশোরকে বনের ভেতর নিয়ে গিয়ে বেসবল ব্যাট দিয়ে পেটানো, লাথি ও ঘুষি মারা এবং একজনকে অচেতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনায় সাতজন ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে অ্যাটেম্পেটেড মার্ডার, গ্যাং অ্যাসাল্ট ও রোবারিসহ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করে কুইন্সের প্রসিকিউটররা। 
এস্টোরিয়ায় একটি সাবওয়ে স্টেশনেও ১৫ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে একটি দল টেজার দিয়ে আঘাত, লাথি, ঘুষি এবং পদদলিত করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় দুই ১৬ বছরের কিশোরীকে মধহম ধংংধঁষঃ ও ৎড়ননবৎু-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীরা একই হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। 
আর চলতি বছরের এপ্রিলে কুইন্সের রয় উইলকিনস পার্কে কিশোরদের একটি বড় জমায়েতে ১৫ বছর বয়সী জাদেন পিইরে প্রথমে দলবদ্ধ হামলার শিকার হয় এবং পরে গুলিতে নিহত হয়। এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে মার্ডার ও গ্যাং অ্যাসাল্ট এবং ১৬ বছরের আরেক কিশোরের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ।
আজকের কিশোর গ্যাংয়ের একটি বড় পার্থক্য হলো- গ্যাংয়ের ‘এলাকা’ এখন শুধু রাস্তার মোড় নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও তার অংশ।
নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের মতে, ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ভিডিও, গান এবং অনলাইন ‘ডিস’ বা অপমান এখন বাস্তব জগতের সংঘর্ষকে উসকে দিচ্ছে।
একাধিক সাম্প্রতিক গ্যাং তদন্তে প্রসিকিউটররা দেখিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে পোস্ট দেওয়া, নিহত প্রতিদ্বন্দ্বীকে ব্যঙ্গ করা, গুলি চালানোর ইঙ্গিতপূর্ণ ইমোজি ব্যবহার করা কিংবা ফৎরষষ-ৎধঢ় ভিডিওর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার পর বাস্তবে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। ইৎড়ড়শষুহ-এর একটি গ্যাং মামলার সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গ্যাং সহিংসতা উসকে দেওয়ার অন্যতম বড় মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেন। 
সাউথইস্ট কুইন্স-এর ফ্লস মানি বলারস ও ব্লিটজ গ্যাং ৪-এর সংঘর্ষের তদন্তেও কর্মকর্তারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে উসকানি দেওয়া হয়েছিল। 
অনলাইনে কয়েক সেকেন্ডের ‘সম্মান রক্ষার’ লড়াই তাই কখনো কখনো রাস্তায় গুলি, ছুরি কিংবা দলবদ্ধ হামলায় গড়াচ্ছে।
অনেক অভিভাবকের ধারণা, গ্যাং বলতে ব্ল্যাডস ক্রিপস বা এমএস ১৩-এর মতো বড় কোনো সংগঠনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান বোঝায়।
আজকের নিউইয়র্কে অনেক কিশোর গ্যাং ছোট ছোট ফ্রেন্ড-গ্রুপ বা নেইবরহুড ক্রু হিসেবে তৈরি হয়। একই স্কুল, একই ব্লক, একই হাউজিং ডিভেলপমেন্ট কিংবা একই সোস্যাল মিডিয়া সার্কল থেকে বন্ধুত্ব শুরু হয়ে পরে সেটিই আলাদা পরিচয় নেয়।
কখনো একজনের সঙ্গে অন্যজনের ব্যক্তিগত বিরোধ পুরো গ্রুপের বিরোধ হয়ে যায়। কারও ওপর হামলা হলে বন্ধুদের ‘প্রতিশোধ’ নিতে হয়। এরপর প্রতিপক্ষ পাল্টা প্রতিশোধ নেয়।
২০২৫ সালে সাউথইন্ট কুইন্স-এর একটি বড় তদন্তে ১২ কথিত ফ্লস মানি বলারস সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউটরদের দাবি, একটি ম্যাকডোনাল্ডস-এর বাইরে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধপরায়ণ সহিংসতা দ্রুত বাড়তে থাকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কথিত প্রতিপক্ষের বাড়িতে গুলি চালানো হয়। 
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় অংশ কুইন্স ও ব্রুকলিনে বসবাস করে। দ্বিতীয় প্রজন্মের হাজার হাজার বাংলাদেশি শিশু-কিশোর এখানকার পাবলিক স্কুলে বড় হচ্ছে। তাদের অধিকাংশই স্বাভাবিক শিক্ষা ও পারিবারিক জীবনে যুক্ত। কয়েকজনের অপরাধে পুরো বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে সন্দেহের চোখে দেখা যেমন ভুল, তেমনি সমস্যাটি অস্বীকার করাও বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ও নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক মামলাগুলো থেকে কয়েকটি কমন রিস্ক ফ্যাক্টর সামনে আসে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাওয়া, স্কুলে অনুপস্থিতি, হঠাৎ নতুন ও গোপন ফ্রেন্ড সার্কল, বাড়ির বাইরে রাত কাটানো, অজানা উৎস থেকে টাকা বা দামি জিনিস আসা, মারামারির ভিডিও ধারণ, অস্ত্রের ছবি বা গ্যাং রিলেটেড সিম্বল পোস্ট করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট রিভাল গ্রুপ নিয়ে নিয়মিত হুমকি বা অপমান।
তবে এসব আচরণের একটিমাত্র লক্ষণ দেখেই কোনো কিশোরকে ‘গ্যাং সদস্য’ বলা যায় না। বরং একাধিক পরিবর্তন একসঙ্গে দেখা দিলে অভিভাবকদের দ্রুত স্কুল, কাউন্সেলর এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে ১৮ বছরের নিচে হলেই গুরুতর অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, এ ধারণাও সঠিক নয়।
রাজ্যের রেইজ দ্য এজ’ আইনে সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ফৌজদারি বিচারের বয়স ১৮ করা হয়েছে। কিন্তু ১৬ ও ১৭ বছর বয়সে ফেলোনি অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে অভিযুক্তকে ‘কিশোর অপরাধী’ হিসেবে প্রথমে ক্রিমিনাল কোর্টের বিশেষ ইয়ুথ পার্টে তোলা হতে পারে। অস্ত্র ব্যবহার, গুরুতর শারীরিক ক্ষতি কিংবা নির্দিষ্ট ভায়োলেন্ট ফেলোনির ক্ষেত্রে মামলা ক্রিমিনাল কোর্ট থেকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। 
অর্থাৎ একটি বন্দুক, একটি ছুরি কিংবা কয়েক মিনিটের দলবদ্ধ হামলা একজন কিশোরের জীবনের গতিপথ স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র অফিস অব ক্রিমিনাল জাস্টিস-এর বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালে শহরের মোট ফেলোনি ও ভালেয়ালেন্ট-ফেলোনি অ্যারেস্ট-এর মধ্যে কিশোরদের অংশ ২০১৮ সালের তুলনায় বাড়েনি। সবচেয়ে গুরুতর সহিংস ফেলোনি কিশোর গ্রেপ্তারের প্রায় ৫ শতাংশের মতো ছোট একটি অংশ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে গুরুতর সহিংস অপরাধের অংশ কিছুটা বেড়েছে। অর্থাৎ ‘সব কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে’-এমন কোনো তথ্য নেই। বরং উদ্বেগের জায়গাটি অন্যখানে: খুব ছোট একটি অংশ ক্রমেই বেশি সহিংস হয়ে উঠছে।
২০২৪ সালে নিউইয়র্কে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রায় ১,৫০০ জন রোবারি-এর শিকার হয়েছিল এবং শিশু-কিশোরদের ওপর প্রায় ২,৪০০ ফেলোনি অ্যাসাল্ট তদন্ত করে এনওয়াইপিডি। একই সময়ে রোবারি, অ্যাসাল্ট ও গান ভায়োলেন্স-এ কিশোর গ্রেপ্তারও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছিল। অর্থাৎ কিশোররা শুধু অপরাধী নয়—বড় সংখ্যায় তারাই অপরাধের শিকার।
পুলিশের অভিযান হয়তো একটি গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়- এরপর?
একজন ১৪ বা ১৫ বছরের কিশোর কেন এমন একটি দলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা খুঁজছে, যেখানে ‘সম্মান’ প্রমাণ করতে কাউকে মারতে কিংবা অস্ত্র বহন করতে হয়? কেন একটি ইনস্ট্যাগ্রাম কমেন্ট কিংবা কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও স্কুলের বন্ধুত্বকে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে পরিণত করছে? কেন বাবা-মা অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের গ্রেপ্তার হওয়ার পর জানতে পারছেন, সে কয়েক মাস ধরে অন্য এক জীবন যাপন করছিল?
পরিবার, স্কুল, কমিউনিটি সংগঠন, মসজিদ-মন্দির-চার্চ, স্থানীয় ইলেকটেড অফিসিয়িাল  এবং ইয়ুথ সার্ভিস এজেন্সিজ, সব পক্ষকেই এখানে ভূমিকা নিতে হবে। কারণ একজন কিশোরকে অপরাধের জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে ভালো সময় তার হাতে বন্দুক ওঠার পর নয়, তার অনেক আগে।
আর বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারগুলো যদি কোনো সতর্কবার্তা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি হলো-নিউইয়র্কে সন্তানকে শুধু ভালো স্কুলে ভর্তি করানো এবং ঘরে ফেরার সময় জিজ্ঞেস করাই যথেষ্ট নয়। সে কার সঙ্গে মিশছে, অনলাইনে কী দেখছে, কী পোস্ট করছে এবং তার আচরণ কীভাবে বদলাচ্ছে, সেগুলোও এখন অভিভাবকত্বের অংশ। কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা কোনো একটি জাতিগোষ্ঠীর সমস্যা নয়। কিন্তু বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণদের নাম যদি সেই তালিকায় ঢুকতে শুরু করে, কমিউনিটির জন্য বিষয়টি আড়াল করার নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নানা কারণে বাবা-মায়ের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। বহুজাতিক সংস্কৃতির সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে অভিভাবকেরা ঠিকমত বাঙালি সংস্কৃতি উপস্থাপন করতে পারছেন না। আবার বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি খুবই কম। বিশেষ করে অনুষ্ঠানগুলোর মান ও মঞ্চের অতিথিদের বক্তৃতাবাজি তাদেরকে পরবর্তী অনুষ্ঠানে যেতে বিমুখ করছে। এসব কারণে খুব সহজেই নতুন প্রজন্ম বিজাতীয় সংস্কৃতি রপ্ত করছে। কেউ কেউ সঠিক পথ হারাচ্ছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz