প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৪৫
•
অনলাইন সংস্করণ
প্রবাসে বাংলাদেশিদের সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে দেশটির হাউস অব কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তানভীর শাহনাওয়াজ। টরন্টোর বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসনের উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে তানভীর শাহনাওয়াজ হয়েছেন কানাডার পার্লামেন্টে নির্বাচিত দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি। তাঁর বিজয় শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়; প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মূলধারার রাজনীতি, নীতিনির্ধারণ ও নেতৃত্বের জায়গায় ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তানভীরের এই অর্জনের সঙ্গে নিউইয়র্কের ঠিকানা পরিবারেরও রয়েছে বিশেষ এক আবেগের সম্পর্ক। তাঁর বাবা শাহনেওয়াজ একসময় নিউইয়র্কে ‘ঠিকানা’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই পরিবারের সন্তান আজ কানাডার জাতীয় সংসদে বাংলাদেশি পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, ঠিকানা পরিবারের জন্যও এটি বিশেষ আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত।
ইলেকশনস কানাডার প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, তানভীর শাহনাওয়াজ পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩৬১ ভোট, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিপির শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮ হাজার ৫১২ ভোট বা ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তানভীর জয় পেয়েছেন প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে।
টরন্টোর ক্রিসেন্ট টাউন এলাকায় বেড়ে ওঠা তানভীর দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় কমিউনিটি ও কানাডার মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের সাবেক এমপি নাথানিয়েল আর্সকিন-স্মিথের কার্যালয়েও তিনি কাজ করেছেন। আর্সকিন-স্মিথ পদত্যাগ করলে শূন্য হওয়া আসনে লিবারেল পার্টি তানভীরকে প্রার্থী করে।
জয়ের পর তানভীর বলেন, বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। তিনি ভোটার, স্বেচ্ছাসেবক এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং এলাকার প্রতিটি মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল নেতা মার্ক কার্নি তানভীরকে তাঁর বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এর আগে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। তানভীর শাহনাওয়াজের বিজয়ের ফলে বর্তমানে কানাডার হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপির সংখ্যা দাঁড়াল দুই।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে পশ্চিমা বিশ্বের জাতীয় রাজনীতিতে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। সে বিবেচনায় তানভীরের বিজয় বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।
এটি এমন এক প্রজন্মের গল্প, যাদের শিকড় বাংলাদেশে, বেড়ে ওঠা প্রবাসে, কিন্তু যাদের নেতৃত্ব ও সাফল্য এখন নিজ নিজ দেশের জাতীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
তানভীর শাহনাওয়াজের বিজয় তাই একজন ব্যক্তির নির্বাচনী জয় ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের অর্জন ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকার রক্ষা এবং স্থানীয় এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাই তানভীর শাহনাওয়াজকে এই উপনির্বাচনে বড় জয় এনে দিতে সাহায্য করেছে।
তানভীর শাহনাওয়াজের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ইস্ট ইয়র্কে। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক পলিসি, সিটি স্টাডিজ এবং পাবলিক ল’-এর ওপর ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেন। এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি প্রায় এক দশক ধরে এই এলাকায় লিবারেল পার্টির হয়ে কাজ করেছেন।
তানভীরের গর্বিত বাবা শেখ শাহনাওয়াজ ঠিকানাকে জানান, আমার ছেলের এই বিজয় বহির্বিশ্বে সকল বাংলাদেশি বাবা-মায়ের বিজয়। আমি আমার ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষের মত মানুষ করেছি। সে লেখাপড়া শিখে মানুষের জন্য কাজ করেছে। সেই কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছে। বাবা হিসাবে আজ আমি গর্বিত।
শেখ শাহনাওয়াজের গ্রামের বাড়ি খুলনায়। একসময় নিউইয়র্কে ছিলেন। বর্তমানে সপরিবারে থাকেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশে। নব্বই দশকের মাঝামাঝি তিনি ঠিকানায় বার্তা সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।