গর্ভাবস্থায় টিকা নিয়ে ২০২৬ সালের নতুন সূচিকে সমর্থন নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেটের
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৫
•
অনলাইন সংস্করণ
নিউইয়র্ক সিটি ও নিউইয়র্ক স্টেট ২০২৬ সালের মাতৃ টিকাদান সূচিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস বা এসিওজি প্রকাশিত এই সূচি অনুযায়ী গর্ভবতী, সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়ে থাকা এবং বুকের দুধ খাওয়ানো ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় টিকা নিয়মিত চিকিৎসাসেবার অংশ হিসেবে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্ট এবং নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ সোমবার যৌথভাবে এ সমর্থনের কথা জানায়। দুই স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, গর্ভাবস্থায় যথাযথ টিকাদান মা ও শিশুকে গুরুতর এবং টিকায় প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায়।
এসিওজির ২০২৬ সালের সূচিতে গর্ভাবস্থায় নিয়মিতভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু, কোভিড-১৯, টিড্যাপ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য আরএসভি টিকা দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। টিড্যাপ টিকা টিটেনাস, ডিফথেরিয়া ও পারটুসিস বা হুপিং কাশি থেকে সুরক্ষা দেয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এই টিকা নেওয়ার মাধ্যমে জন্মের পর শিশুকে হুপিং কাশির গুরুতর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ
এসিওজি বলেছে, প্রত্যেক গর্ভাবস্থায় টিড্যাপ টিকা নেওয়া উচিত এবং সাধারণভাবে ২৭ থেকে ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব তা দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। একই সঙ্গে শরৎ ও শীতের শ্বাসতন্ত্রের রোগের মৌসুমে গর্ভবতীদের বার্ষিক ফ্লু ও কোভিড-১৯ টিকা এবং যোগ্যদের আরএসভি টিকা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন সূচিতে নির্দিষ্ট রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতীদের জন্য আরও কয়েকটি টিকার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া, মেনিনগোকক্কাল মেনিনজাইটিস এবং হেপাটাইটিস এ ও বি প্রতিরোধী টিকা। কোন টিকা কখন প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি, গর্ভাবস্থার সময়কাল ও অন্যান্য চিকিৎসাগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।
নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিস্টার এফ. মার্টিন বলেন, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে নিউইয়র্কবাসীর নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁর মতে, এসিওজির ২০২৬ সালের মাতৃ টিকাদান সূচি নিউইয়র্কের পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই নির্দেশিকা চিকিৎসক ও কমিউনিটিকে প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে আগাম ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে।
নিউইয়র্ক স্টেট হেলথ কমিশনার ড. জেমস ম্যাকডোনাল্ড বলেন, গর্ভাবস্থায় টিকা নেওয়া মা ও শিশুকে এমন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দেয়, যখন তারা কিছু গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট চিকিৎসকদের সর্বশেষ প্রমাণভিত্তিক নির্দেশনা দেওয়া এবং পরিবারগুলোর জন্য সুপারিশকৃত টিকার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।
এসিওজির মাতৃ টিকাদান সূচি পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর তৈরি। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন এই সূচিকে একাধিক শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থন করেছে। এসিওজির নিজস্ব ওয়েবসাইটে বর্তমানে ১৪টি চিকিৎসা সমিতি ও স্বাস্থ্য সংস্থার সমর্থনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুপারিশকৃত টিকাগুলো বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেইড এবং যোগ্য শিশুদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনস ফর চিলড্রেন বা ভিএফসি কর্মসূচির আওতায় কভারেজ পেতে থাকবে। তবে ব্যক্তিগত বিমা পরিকল্পনা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কভারেজ ভিন্ন হতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের গর্ভবতী রোগীদের সঙ্গে প্রথম দিকের প্রি-নাটাল ভিজিট থেকেই প্রয়োজনীয় টিকা নিয়ে আলোচনা করতে উৎসাহিত করেছে এসিওজি। চিকিৎসকের কার্যালয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে রোগীদের যেন দ্রুত এমন কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র, ফার্মেসি বা টিকাদান কেন্দ্রে পাঠানো হয় যেখানে প্রয়োজনীয় টিকা পাওয়া যায়, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে টিকা নেওয়ার স্থান খুঁজতে বাসিন্দারা এনওয়াইসি হেলথ ম্যাপ ব্যবহার করতে পারেন অথবা স্থানীয় ফার্মেসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বসবাসকারীরা স্থানীয় ফার্মেসি বা কাউন্টি ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে টিকা গ্রহণের সুযোগ খুঁজতে পারবেন। চিকিৎসকদের রোগীদের সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগ রেখে নির্ধারিত সব টিকা ও প্রয়োজনীয় ডোজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেও উৎসাহিত করা হয়েছে।
এসিওজির মতে, গর্ভাবস্থায় টিকা শুধু মাকে সুরক্ষা দেয় না, কিছু ক্ষেত্রে মায়ের শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরেও পৌঁছে যায়। ফলে জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে শিশুর নিজস্ব টিকাদান পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট সংক্রমণের বিরুদ্ধে কিছু সুরক্ষা তৈরি হতে পারে। এই কারণেই মাতৃ টিকাদানকে নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।
নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেটের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বার্তা হলো, গর্ভাবস্থায় কোন টিকা কখন নেওয়া উচিত, তা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনির্ভরযোগ্য উৎসের পরিবর্তে চিকিৎসক, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অথবা অনুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিউইয়র্কের দুই স্বাস্থ্য সংস্থার এই সমর্থন এমন সময়ে এলো, যখন জাতীয় পর্যায়ে টিকা নীতি নিয়ে পরিবর্তন ও বিতর্কের মধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবী চিকিৎসা সংস্থা নিজেদের প্রমাণভিত্তিক টিকাদান নির্দেশনা প্রকাশ করছে। এসিওজির ২০২৬ মাতৃ টিকাদান সূচির লক্ষ্য গর্ভবতী, প্রসবোত্তর ও স্তন্যদানকারী ব্যক্তিদের জন্য একটি সুস্পষ্ট এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যনির্ভর নির্দেশনা দেওয়া।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো টিকা নেওয়া গর্ভবতী ব্যক্তি ও নবজাতকের গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী জটিলতার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই মাতৃ টিকাদানকে নিয়মিত প্রি-নাটাল ও পোস্ট-পার্টাম চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখার আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট।