বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠান • ১২ অক্টোবর জানা যাবে ইউপি ভোটের তফসিল ও ধাপ : ইসি সানাউল্লাহ • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন • বিশ্বের চোখে বাংলাদেশের  মর্যাদা ব্যাপক ক্ষুণ্ন করছে শাহজালাল বিমানবন্দর! • শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার চাইলেন রাশেদ খাঁন • জঙ্গল সলিমপুরে হবে পুলিশ একাডেমি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী • নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মরদেহ উদ্ধার • চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই • বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মরদেহ উদ্ধার

নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ৭ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তার মৃত্যু হয়েছিল। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান স্থানীয় সময় গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর থেকে খোকনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও কমিউনিটির লোকজন বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধান করছিলেন। হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তার বাসায়ও পুলিশ যায়।

পরে জানা যায়, খোকনকে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিচয় ও স্বজনদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার (OCME)-এর কাছে পাঠায়। মরদেহটি ব্রুকলিনের ৫৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটে অবস্থিত OCME-এর ফরেনসিক প্যাথলজি অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির OCME সাধারণত আকস্মিক, সন্দেহজনক, অজ্ঞাত বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে এবং প্রয়োজন হলে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তেও সহায়তা করে।

পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন

খোকনের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রথমে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে। গত ৫ অক্টোবর তার নিখোঁজের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ৬ ও ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকার বাসায় একা থাকতেন তিনি। কর্মস্থলে কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকার পর পরিচিতজনেরা তার খোঁজ শুরু করেন।

স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ তার বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। তার নাম নিউইয়র্ক পুলিশের নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

খোকনের নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কি না, কিংবা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসের হাতে আটক হয়েছেন কি না—এমন নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে সময় পর্যন্ত আইসের হাতে তার আটকের বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, এসব ছিল আশঙ্কা ও গুঞ্জন; নিশ্চিত তথ্য নয়।

জ্যাকসন হাইটসে পরিচিত মুখ

কাজী আজিজুল হক খোকন দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসা খোকনের দেশের বাড়ি মাগুরা জেলায়। তিনি কুইন্সের কিউ গার্ডেনসে একা বসবাস করতেন।

জ্যাকসন হাইটস এলাকায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্তোরাঁর পাশে অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন তিনি। নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াত এবং কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ তাকে চিনতেন।

রাজনীতির সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাগুরা জেলা সোসাইটির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।

৩ অক্টোবর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর থেকে খোকনের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিচিতজনেরা তার কর্মস্থলে যোগাযোগ করেও তাকে পাননি। পরে তার বাসায় খোঁজ নেওয়া হয়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত তার ফোন সচল ছিল এবং ফোনে রিং হলেও তিনি তা ধরেননি। গত ৫ অক্টোবর পুলিশ তার বাসায় গিয়ে তাকে না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ে।

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও তার সন্ধানে তৎপর হন। হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত ৭ অক্টোবর রাতে জ্যাকসন হাইটসে খোকনের নিখোঁজের ঘটনা এবং করণীয় নিয়ে কমিউনিটির নেতাদের একটি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

মৃত্যুর কারণ এখনো অজানা

খোকনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলেও তার মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার মৃত্যু স্বাভাবিক, দুর্ঘটনাজনিত, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা মেডিকেল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি।

মরদেহ চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কাছে থাকার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির OCME আকস্মিক, অস্বাভাবিক, সন্দেহজনক বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া ঘটে যাওয়া মৃত্যুর তদন্ত করে। প্রয়োজন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। ফলে খোকনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

‘আইসের হাতে আটক’ গুঞ্জনের অবসান

খোকন নিখোঁজ হওয়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল—তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হয়েছেন কি না। তার বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—এমন দাবিও স্থানীয় প্রতিবেদনে এসেছে। এ কারণে অনেকে ধারণা করেছিলেন, তাকে হয়তো আইস আটক করেছে।

কিন্তু এখন তার মৃত্যুর খবর সামনে আসায় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সেই জল্পনা আর টেকসই নয়। প্রকাশিত তথ্যে বরং বলা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তিনি হাসপাতালে মারা যান এবং পরে পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান নিশ্চিত না হওয়ায় মরদেহ মেডিকেল এক্সামিনারের কাছে পাঠানো হয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে—খোকন কীভাবে হাসপাতালে পৌঁছালেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগের কয়েক ঘণ্টায় তার সঙ্গে কী ঘটেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে পুরো ঘটনার চিত্র পরিষ্কার হবে।

কমিউনিটিতে শোক

খোকনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যারা কয়েক দিন ধরে তার সন্ধান করছিলেন, তাদের কাছে মৃত্যুর খবরটি একই সঙ্গে স্বস্তি ও গভীর বেদনার। স্বজন ও পরিচিতরা এখন তার মরদেহ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন এবং শেষকৃত্যের ব্যবস্থা নিয়ে এগোবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মৃত্যুর সঠিক কারণ, মৃত্যুর সময় এবং মৃত্যুর আগে তার অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে খোকনের পরিবার ও কমিউনিটি। নিউইয়র্ক সিটির চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশের পরই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz