Thikana News
৩০ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
দেশি রাজনীতিতে ফের বিদেশি ভজঘট ♦ মাথায় তুলে আছাড়ের দশায় বিএনপি রোমান্টিজমে আওয়ামী লীগ ♦ ক্ষমাপ্রার্থনার রেসে জাপা ♦ উড়ালে জামায়াত-এনসিপি

ডিফিকাল্ট রাজনীতি টিপিক্যাল নির্বাচন

ডিফিকাল্ট রাজনীতি টিপিক্যাল নির্বাচন
বরাবরের মতো দেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশ গিয়ে কথা বলার রেওয়াজ এবারও বহাল রেখেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূস। মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি জানিয়েছেন, মধ্য ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ। তার প্রশংসা করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় খুব খাটছেন ড. ইউনূস। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ৮ জুলাই পরিষ্কার করার পর মালয়েশিয়ায় গিয়ে আবার উচ্চারণের ফের বেশ গভীরে। সংস্কার ও নির্বাচনের ফয়সালা এখনো বিদেশ-নির্ভর, বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণাধীন।
বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এমনকি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির ঝানু রাজনীতিকেরাও এর রহস্য জেনে দৌড়াচ্ছেন কূটনীতিকদের দরবারে। কয়েক কূটনীতিকও দেনদরবার করছেন নেতাদের সঙ্গে। কারণ জনগণের কাছে যাওয়ার অবস্থা এখনো হয়নি বলে নিশ্চিত হয়েই রাজনীতিকদের এ তৎপরতা। এ রকম অবস্থায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দলের নেতাকর্মীদের আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তার ৯-১০ মাস আগে দেওয়া বক্তব্য : আগামী দিনের রাজনীতি খুব কঠিন হবে, নির্বাচন হবে আরও কঠিন।
সরকার, প্রধান উপদেষ্টা বা নির্বাচন কমিশন থেকে যত সাবলীলে নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছে, ভেতরের অবস্থা তা নয়। জামায়াতের ইসিতে গিয়ে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে অনাপত্তি জানানোর ভেতরেও ভিন্ন খেলা। তা এনসিপির একটু দম ধরার মাঝেও। এই ফাঁকে নানা তত্ত্ব ও গবেষণার ধুম বাজারে। একসময় ‘জনস্বার্থে ব্র্যাক’ শিরোনাম করা প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিআইজিডি ‘পালস সার্ভে ৩’-এর ফলাফল ছাড়া হয়েছে তুরুপের তাসের মতো। জরিপের ফলাফল তুলে ধরে জানানো হয়েছে : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন- এই প্রশ্নে ১২ শতাংশ বিএনপি, ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ জামায়াতে ইসলামী এবং ২ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষ এনসিপির কথা বলেছে। আট মাস আগে গত অক্টোবরে একই প্রশ্ন করা হলে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ বিএনপি, ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন- এই প্রশ্নে সিদ্ধান্তহীন মানুষের হার আরও বেড়েছে। গত বছরের অক্টোবরে ৩৮ শতাংশ সিদ্ধান্তহীনতার কথা জানালেও সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে হয়েছে ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। ইন্টারেস্টিং তথ্য হচ্ছে, ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ বলছেন, কাকে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। কাকে ভোট দেবেন, তা বলতে চান না ১৪ দশমিক ৪০ শতাংশ মানুষ। আর ভোট দেবেন না বলেছেন ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ ফলাফলের একটা বিশেষ দিক হলো, যারা ক্ষমতায় চলে গেছেন ভাবছেন, তাদের পক্ষে জনগণ নেই। বাকিটা কৌশলের খেলা। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া অবস্থানকালে মঙ্গলবার সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সংবাদ সম্মেলন করে দিয়েছে আরেক আওয়াজ। যে আকাক্সক্ষায় জুলাই আন্দোলনে দুই হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে, চার হাজার মানুষ চোখ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার পঙ্গুত্ববরণ করেছে, কেবল ক্ষমতার পালাবদলে সেই আকাক্সক্ষা পূরণ সম্ভব নয়। সুজনের ব্যানারে এনে তা বলানো হয়েছে বিশিষ্টজনদের দিয়ে, যা এনসিপি বলে আসছে ‘নির্বাচনের জন্যই ৫ আগস্টের বিপ্লব হয়নি’ ভার্সনে।
এসবের রসায়নে কেবল বিএনপি নয়, দলটির সমমনা পরিচয়ে মাঠ দাবড়ানো বাম ও মধ্যপন্থীদের জন্যও ভালো খবর নেই। সবাইকে ফেলে দেওয়া হয়েছে ডিফিকাল্ট পজিশনে। একটি টিপিক্যাল নির্বাচনের নমুনা তাদের সামনে। বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখা নেতাদের স্বপ্নে পানি ঢেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জোট হলেও দলগুলোকে নিজ প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে। ধানের শীষ প্রতীক না পেলে এই দলের নেতাদের কী দশা হবে- এ ভাবনায় তারা অনেকটা বেতাল। আরপিও সংশোধন করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের একগুচ্ছ চালাকি বুঝেও বিএনপিসহ তাদের সমমনাদের জোর গলায় কিছু বলার অবস্থা নেই। জোট হলেও যার যার নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জামায়াতকে সুবিধা দেবে। বাংলাদেশে ধানের শীষ-নৌকা-লাঙ্গল ও দাঁড়িপাল্লার সংখ্যার পার্থক্য থাকার পরও একটা ভোটব্যাংক আছে। অনেকের অনুমান, বিএনপি তার জোটসঙ্গীদের যত আসন ছাড়বে, সবগুলোতে জামায়াত জিতে আসবে। তা পরিকল্পনা করেই ঠিক করা কি না, তার ধারণা মেলে জামায়াতের কিছুদিনের ওড়াউড়িতে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ‘না’ ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা, কোনো অনিয়ম হলে পুরো আসনের ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনাসহ কিছু সিদ্ধান্তের পরতে পরতে সেই গুচ্ছকর্ম দেখছেন ঝানু রাজনীতিকেরা।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য মিথ্যা প্রমাণ হলে বিজয়ী হওয়ার পরও প্রার্থিতা বাতিলের মতো বিধানে কোন দল বেশি আক্রান্ত হবে, কে লাভবান হবে, তাও অফ দ্য রেকর্ডে সবার জানা। তবে এ-সংক্রান্ত কাজ এখনো বাকি। নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো প্রস্তাবনা আকারে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। এর আগ পর্যন্ত করার অনেক কিছু রয়েছে। সরকারের শীর্ষমহলকে আয়ত্ত করা ছাড়া তা সম্ভব নয়। বিএনপি অন্তরালে সেই পথে হাঁটছে। বেশি বেশি করে বলছে, ক্ষমতায় গেলে এ সরকারের ইনডেমনিটি লাগবে। তা দেবে বিএনপি। যেমনটি ওয়ান ইলেভেন সরকারের সব কর্ম ও দুষ্কর্মকে পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার বৈধতা দিয়েছে। গোটা আবহটি আওয়ামী লীগের জন্য এনজয় করার মতো। পরিবেশটি তাদের জন্য রোমান্টিসিজমে ভরা। নানা অগণতান্ত্রিক চর্চা ও আর্থিক খাত লুটপাট ও লন্ডভন্ড করে যাওয়া নেতারা তাদের সেই অর্থের কিছু অংশ ছেড়ে বেশ ফুরফুরে মুডে। এতে মিলছে দিল্লির প্রণোদনা। ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়াও দেশ-বিদেশের ভালো জোগাড় হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভারত শাখায়। আওয়ামী লীগকে ছাড়া ইনক্লুসিভ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়- এ হাইপ তোলার কাজেও ভালো ফান্ড জোগান দেওয়া হচ্ছে।
আলামত বুঝে জাতীয় পার্টির কয়েক নেতা মিলে জন্ম দিয়েছেন জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার নাটকীয়তা। এমন কঠিন সময়েও বেশ ঘটা করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত ও দলছুট নেতারা। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে দলের নেতারা বলেছেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সঙ্গে নির্বাচনে গিয়ে জাতীয় পার্টি অপরাধ করে থাকলে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান তারা। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সতর্ক করে বলেছেন, দেশ এখন যেভাবে চলছে, তাতে সংঘাত অনিবার্য। কাউন্সিলে দলের নতুন চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মজিবুল হক চুন্নু এবং রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। যোগ হয়েছেন কাজী ফিরোজ রশিদও। রাজধানীতে এ আনুষ্ঠানিকতার পর ক্ষমা চাওয়ার পাইপলাইনে ঢুকেছেন জাপার মফস্বল পর্যায়ের চালাক-চতুর কিছু নেতাকর্মীও। বেশ কিছু জায়গায় স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে তাদের একটি মেলবন্ধন চলে আসছে ৫ আগস্টের পর থেকেই।

কমেন্ট বক্স