Thikana News
১৪ জুলাই ২০২৪
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

ব্রাসেলস ও ব্রুজ

ব্রাসেলস ও ব্রুজ
আজ আমরা সকালে ব্রাসেলসের উদ্দেশে রওনা দিলাম। ব্রাসেলসে পৌঁছেই আমরা থামলাম, দূর থেকে আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো সুন্দর একটি স্থপতি। সেটা হলো Atomium। ১৯৫৮ সালে ব্রাসেলসে বিশ্ব মেলা উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে। স্থপতি জিন পোলাক ও আন্ত্রে পোলাক ১৯৫৭ সালে এটি নির্মাণ শুরু করেন। নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৫৮ সালে। এটির উচ্চতা ৩৩৫ ফুট। Atomium হলো ব্রাসেলস ও বেলজিয়ামের সিম্বল। এখানে বছরে ছয় লাখ ভিজিটরস আসে। এটি রাতে সুন্দর লাগে, কেননা সুন্দর করে লাইট দিয়ে সাজানো, ২০ ইউরো দিয়ে ঢোকার টিকিট লাগে, ভেতরে স্যুভেনিয়রের স্টোর ও মিউজিয়াম আছে। একটি জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট আকর্ষণ Atomium। আধুনিক স্থপতি আরও হলো মানবসমাজের বিকাশে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপযুক্ত স্থান।
এবার আমরা গোলাম গ্র্যান্ড প্লেস। এত সুন্দর মনোমুগ্ধকর সব বিল্ডিং দিয়ে পরিবেষ্টিত যে এক মুহূর্তে এত সৌন্দর্যে বাক্যহারা হয়ে গেলাম। এটি মধ্যযুগের ইতিহাসে ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর একটি স্কয়ার। ব্রাসেলস শহরের কেন্দ্রে সপ্তদশ শতাব্দীতে তৈরি ঐতিহাসিক ইমারতগুলো যেমন বারোক কারুকার্যে তৈরি গিল্ডহল, ব্রাসেলসের টাউন হল এবং সিটি মিউজিয়াম অলংকারিত্ব করেছে এই গ্র্যান্ড প্লেসকে। চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত গ্র্যান্ড প্লেস আনুষ্ঠানিকভাবে পরিকল্পনা করে তৈরি হয়নি। তাই প্রয়োজনে পরে বেশ কয়েকটি বিল্ডিং ভাঙা হয়েছে। ব্রাসেলসের টাউন হলটি ১৪০১ ও ১৪৫৫ সালের মধ্যে স্কয়ারে নির্মিত হয়েছিল। এটি ডুকাল ক্ষমতার একটি অনুরূপ প্রতীক দ্বারা পূরণ হয়েছিল, যখন ডিউক অব ব্রাবান্ট টাউন হল থেকে একটি ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেন। এটি রাজার বাড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে। গ্র্যান্ড প্লেস ইউনেসকোর বিশ^ ঐতিহ্যবাহী স্থান।
যুক্তি সাপেক্ষে এমনও বিবেচনা করা হয় যে শুধু ইউরোপ নয়, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে অপূর্ব সুন্দর একটি স্কয়ার এটি। স্কয়ারটি চওড়ায় ২২৩ ফুট এবং লম্বায় ৩৬১ ফুট। পুরো স্কয়ারটি ইট বিছানো। প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন ইমারত গোথিক স্টাইলে তৈরি এক অসম্ভব জাঁকজমকপূর্ণ সুদৃশ্য ইমারতরাজি। নিঃসন্দেহে এটি অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষণ। ফ্রান্স যুদ্ধে (১৬৯৫) ফ্রান্স আর্মিদের বোমাবর্ষণে গ্র্যান্ড প্লেসের অধিকাংশ করা হয় বিল্ডিংগুলো, যা নাকি আজকের এই চমকপ্রদ গ্র্যান্ড প্লেস। বিভিন্ন রকম সামাজিক আমোদ-প্রমোদ, উৎসব ও সাংস্কৃতিক কাজকর্ম এখানে এই বিশাল পরিসরে করা হয়। বিশেষ করে, খ্রিষ্টমাস ও ইরেজি নববর্ষে এই স্কয়ারে খ্রিষ্টমাস গাছ লাগানো শুরু হয়। প্রতিবছর নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ক্যালেন্ডারের অংশ হিসেবে স্কয়ারের কেন্দ্রে একটি বড় ফুলের কার্পেট স্থাপন করা হয়।
গ্র্যান্ড প্লেসে আমি দু-তিনটি বিল্ডিংয়ের ভেতরে গেলাম। বাইরে যেমন কারুকার্যময়, বিল্ডিংয়ের ভেতরেও চমৎকার কারুকার্যময়। মিউজিয়ামে কিছুক্ষণ ঘুরে দেখলাম। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হলো, আসলে ভেতরে মানুষ যত না ঢোকে, বাইরে থেকে বিল্ডিংগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করে অনেক বেশি মানুষ। এই গ্র্যান্ড প্লেস বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের প্রতীক ছিল।
গ্র্যান্ড প্লেস থেকে বেরিয়ে আমরা গাইডের সঙ্গে গেলাম এমন এক স্থানে, যার সম্বন্ধে আমার আগে জানা ছিল, তবে তা কোন শহরে তা জানা ছিল না, তা হলো ‘Manneken Pis fountain। এটি একটি ন্যাকেড বাচ্চা ছেলের পেশাব করার মূর্তি। প্রায় ২২ ইঞ্চি বড় ব্রোঞ্জের তৈরি একটি ছেলে ফাউন্টেনের বেসিনে পেশাব করার মূর্তি। আমরা গল্পে জানি যে শহরের একটি অনুষ্ঠানের ভিড়ে ছেলেটি হারিয়ে গেলে তার গার্জিয়ান সারা দিন খুঁজে বেড়িয়েছে। অবশেষে তারা ছেলেকে খুঁজে পেয়েছে এক কর্নারে পেশাব করা অবস্থায়। ব্যবসায়ী পিতা স্থির করল, এখানে একটি ঝরনা তৈরি করবে। এই বর্ণনা থেকে বুঝলাম, মজা করতেই এই মূর্তিটি তৈরি মূলত। মূর্তিটি গ্র্যান্ড প্লেস থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সামনে একটি গলি দিয়ে কিছুদূর সামনে গেলেই দেখা যাবে। তবে এই পথে যেতে আমি আরও একটি অপূর্ব সুন্দর ভাস্কর্য দেখতে পেলাম, যা নাকি Julien Dillens ভাস্করের তৈরি। এটি ব্রোঞ্জের তৈরি, শায়িত অবস্থায় ভাস্কর্যটি  Charles Buls স্ট্রিটের ধারে। আসা-যাওয়ার পথে সবার নজরে আসে। এই মনুমেন্টটি হলো ‘Everard T Serclaes’ এর। এই পথে চলার সময় খুব সুন্দর গোথিক ডিজাইনে তৈরি কারুকার্যময় চমৎকার ইমারত দেখলাম। যে পথেই যাই না কেন, চমৎকার সব বিল্ডিং, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, বার, চিত্তাকর্ষক দোকানপাট, স্যুভেনির শপ ইত্যাদি দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না।
লাঞ্চে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে এখানকার নামকরা ওয়াফল চকলেট খেলাম। ওয়াফলের স্বাদ আসলেই মজাদার ছিল। এখানে প্রচুর স্যুভেনির শপ, ঘুরতে বেশ ভালো লাগছিল। কিছু স্যুভেনির কিনলাম, চকলেট, থলিব্যাগ যাতে ব্রাসেলসের নানা প্রসিদ্ধ বিল্ডিং, সেই ন্যাকেড ছেলেটির ছাপানো ছবিসংবলিত একটি ব্যাগও কিনলাম।
এবার আমরা গাইডের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলাম। আসলে না হাঁটলে শহর ভালো করে দেখা হয় না। চলার পথে একটি বিল্ডিংয়ের গায়ে কয়েকটি সাইকেল আটকে রাখা দেখলাম। আরও কিছুদূর যেতে পেলাম নানা রঙের মাথার টুপি একটি উঁচু বিল্ডিংয়ে লাগানো হয়েছে। ঠিক এই রকমভাবে নানা রঙের ছাতাও একটি বিল্ডিংয়ের দেয়ালে আটকানো দেখলাম। আশ্চর্য লাগে বৈকি, এ রকমটি আগে কোথাও দেখিনি। দলের অনেককে দেখেছি হোটেলে ফিরে তারা ফ্যামিলি নিয়ে আবার বেরোয়। আমি একা ছিলাম বলে আমার তেমন ঘোরাঘুরি হয়নি। গাইড একটু হাঁটতে নিয়ে গেল বলে কিছুটা দেখা হলো। গাইডের সঙ্গে হাঁটলে কম হেঁটে বেশি কিছু দেখা যায়। তারা শুধু দেখার মতো স্থানে ঘোরায় বলে এটি সম্ভব।
আমস্টারডাম, বেলজিয়াম ঘোরার সময় হালকা জ্যাকেট বা সোয়েটারের প্রয়োজন পড়ে এবং যখন তখন বৃষ্টি পড়ে বলে ছাতারও প্রয়োজন পড়ে। তবে এই সাত দিনের ভ্রমণে আমরা এক দিনও বৃষ্টি পাইনি। খুব সুন্দর আবহাওয়া ছিল। একটি ভ্রমণকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সুন্দর আবহাওয়ার দাম রয়েছে শত ভাগ।
আমি ইউরোপের ভিন্ন ভিন্ন দেশে গিয়েছি ২০১৬ সাল পর্যন্ত। তারপর ছয় বছর আমার স্বামীর অসুস্থতার কারণে একেবারে বাইরে যাইনি। ২০২৩ সালের জুন মাসে যখন আমস্টারডাম ও বেলজিয়াম গেলাম, সেখানে যা দেখলাম তা আগে কখনো দেখিনি। ফুটপাতে যত্রতত্র দুই চাকার স্কুটার রাখা। গাইড বলল, এসব স্কুটার সরকারিভাবে নানা স্থানে জনসাধারণের সুবিধার্থে রেখে দেওয়া হয়েছে। যার যখন প্রয়োজন ব্যবহার করে কাজ শেষে ফুটপাতে রেখে দেওয়াটাই নিয়ম। নিজস্ব হলে তা সারা দিন নিজেকেই বহন করা লাগে এবং নিজ দায়িত্বে রাখা লাগে। কিন্তু এসব আপনার আমার দায়িত্বে নেই, তবু যে কেউ একদম ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারছে। নিউইয়র্কে বাইসাইকেল দেখেছি পথে সাইকেল স্ট্যান্ডে, তা যে কেউ চালাতে পারবেন, তবে যেখানে ছাড়বেন বাইসাইকেল স্ট্যান্ডেই রেখে দিতে হবে। কিন্তু ফ্রিতে স্কুটারের দেখা এখনো পাইনি। ব্যবস্থাটি মন্দ নয়।
আমরা আজকে রাতে থাকব ব্রুজের একটি হোটেলে। ব্রাসেলসকে বিদায় জানিয়ে আমরা ব্রুজের পথে চললাম। পথে অনেক আধুনিক উইন্ডমিল চোখে পড়ল, রাইন নদীর সাতটি শাখার একটি শাখা ব্রাসেলসে আমার দেখা হলো। পথে আমরা থামছি চা, কফি ও ওয়াশরুমের জন্য। এখনই দেখলাম নদীটি। এ ছাড়া চলার পথে এক স্থানে আমরা পোলাম স্ট্যাচু অব লিবার্টি। নিউইয়র্কে যেটি আছে তার থেকে ছোট এবং নিচুতে।
দেখতে দেখতে আমরা এসে গেলাম হোটেল নভোটেল ব্রুজ স্ট্রোমে। ঘরের চাবি নিয়ে লাগেজ রেখেই আবার বেরোব আশপাশের এলাকা দেখতে। হাঁটার পথেই আমরা পেলাম মার্কেট স্কয়ার ও বেলফ্রি টাওয়ার। টাওয়ারে উঠতে অনেক সিঁড়ি, তা-ও আবার বাঁকানো। তা দেখলেই আমার মাথা ঘোরে। আমরা এই মার্কেট স্কয়ারে কিছু সময় অতিবাহিত করলাম। চারপাশে লোকে লোকারণ্য, বসার সুন্দর ব্যবস্থা আছে। আমরা কিছু ছবি তুলে হাঁটা শুরু করলাম টাউন হল স্কয়ার ও ব্যাসেলিকা অব দ্য হোলিব্লাড দেখতে।
পবিত্র রক্তের ব্যাসেলিকা হলো বেলজিয়ামের সুন্দর শহর ব্রুজেসের একটি রোমান ক্যাথলিক ব্যাসেলিকা। গির্জায় পবিত্র রক্তের একটি ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অ্যারি ম্যাথিয়ার জোসেফ তা সংগ্রহ করেছিলেন এবং পবিত্র ভূমি থেকে আলসেসের থিয়েরি, কাউন্ট অব ফ্যান্ডাসের দ্বারা এনেছিলেন। গির্জাটির উইন্ডোগুলো খুব সুন্দর রঙিন কাচের মাধ্যমে যিশু, মাতা মেরি ও জোসেফের ছবি এবং ভিন্ন ভিন্ন ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে গির্জাটি মধ্যযুগীয় রোমান গোথিক ডিজাইনে তৈরি। গির্জাটি সত্যিই মনকাড়ার মতো সৌন্দর্যে ভরপুর। খুবই ভালো লাগল গির্জাটি দেখে। কেউ কেউ বসে গেল প্রার্থনা করতে, তাদের জন্য আমরা নিচে অপেক্ষা করলাম। ফেরার পথে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে ডিনার করলাম। এই এলাকাটিতে অনেক ঘোড়ার গাড়ি ট্যুরিস্টদের জন্য অপেক্ষা করে। ট্যুরিস্টরা ঘোড়ার গাড়িতে অন্য রকম এক আনন্দ উপভোগ করার জন্য আশপাশ এলাকায় ঘুরে থাকে। ঘোড়াদের পানি খাওয়ার জন্য একটি কাউন্টেন দেখলাম। চারদিক থেকে পানি পড়ছে। সেখানে পিতলের তৈরি ঘোড়ার মুখ, পানি ঘোড়ার মুখ থেকে পড়ার ব্যবস্থা। কত রকম যে কৌশল, যত দেখি ততই অবাক হই। একটি খোলামেলা ঘেরা দেওয়া জায়গায় কয়েকটি হরিণ দেখলাম ঘাস খাচ্ছে। জানি না কাদের তত্ত্বাবধানে আছে এই হরিণগুলো। এ ছাড়া সামনে একটি জলাশয়ে প্রচুর হাঁস মনের আনন্দে ভাসছে। হোটেলের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। কাল সকালে আমাদের বাস ছাড়বে সকাল আটটায়, তার আগেই নাশতা খেয়ে তৈরি থাকতে হবে, ৮টা মানে ৮টা, প্রতিদিনই কারও না কারও জন্য দেরি হয়, তাই গাইড বারবার মনে করিয়ে দিলেন। এখানে সন্ধ্যা হয় ৯টায়, তাই অনেকে হোটেলে না ফিরে নিজেরা ঘুরতে চলে গেলেন। আজ সকালে আমরা হেঁটেই চলে এলাম চার্চ দেখতে-OUR LADYÕS CHURCH. এত সুন্দর একটি চার্চ দেখার সৌভাগ্য হলো। চার্চটি ভেতরে-বাইরে ফ্লোর ঝাড়বাতি, কলাম, উইন্ডো, ভাস্কর্য ও আর্চ সব মিলিয়ে সত্যিই অপূর্ব গোথিক স্টাইলে তৈরি। পৃথিবীর বিখ্যাত স্থপতি মাইকেল অ্যাঞ্জিলোর তৈরি ম্যাডোনা ও চাইল্ড দেখে মন ভরে গেল। সাদা মার্বেলের তৈরি ম্যাডোনার মূর্তি নষ্ট বা চুরির ভয়ে দুবার এখান থেকে সরিয়ে প্যারিসে লুকিয়ে রাখা হয়। প্রথমবার সরানো হয় দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের সময় ও দ্বিতীয়বার সারানো হয় ফ্রান্স রেভল্যুশন যুদ্ধে। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ম্যাট্রেস দিয়ে মুড়িয়ে রেড ক্রসের গাড়িতে করে সারানো হয়।
ব্রুজেসের চার্চ অব আওয়ার শেডি হলো একটি চিত্তাকর্ষক মধ্যযুগীয় চার্চ। এই চার্চটির উচ্চতা ৪০০ ফুটেরও বেশি। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম চার্চ। এর চূড়া বেলজিয়ামের সকল চার্চের থেকে উঁচু। এই চার্চে অন্যান্য আকর্ষণীয় দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে চালর্স দ্য বোল্ড এবং তার কন্যা মেরি অব বারগান্ডির ষষ্ঠদশ শতকের চিত্তাকর্ষক সমাধি, যিনি ১৪৮২ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিম্ন দেশগুলোকে শাসন করেছিলেন।
ব্রুজেসের চার্চ অব আওয়ার লেডির সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত উপাদান হলো ‘ম্যাডোনা ও শিশুর’ সাদা মার্বেলের ভাস্কর্য, যা মাইকেল অ্যাঞ্জেলো প্রায় ১৫০৪ সালে তৈরি করেছিলেন। এটি ইতালির বাইরে পাওয়া মাইকেল অ্যাঞ্জেলের কয়েকটি মুষ্টিমেয় ভাস্কর্যের মধ্যে একটি। ৫০ ইঞ্চি বড় এই ভাস্কর্য সত্যিই অপূর্ব। চিত্তাকর্ষক এই চার্চটি দেখে মন ভরে গেল।
চার্চ অব আওয়ার লেডির ছিমছাম রাস্তা পার হলেই আমরা পেয়ে গেলাম ক্যানেলে বোটে চড়ার ঘাট। আমরা বড় একটা বোটে ৪২ জন মানুষ ঘুরতে বেরোলাম। ঘণ্টাখানেকের মতো ঘুরে ফিরতে না ফিরতে গাইড আমাদের সবার হাতে চকলেট দিল। কাছেই চকলেট শপে চকলেট কেমন করে তৈরি করে তা দেখতে গেলাম, চকলেট টেস্ট করলাম, অবশেষে বাড়ির জন্য বেশ কিছু চকলেট কিনলাম।
বেলজিয়াম ছেড়ে আসতে মন না চাইলেও আসতে হলো। প্রায় ৫৫ বছর আগে আমার খালা এখানে থাকতেন। খালু ফরেন সার্ভিসে কাজ করতেন, সেই সৌজন্যে ফ্যামিলি নিয়ে তিন বছর এখানে ছিলেন। সুন্দর সুন্দর ছবি পাঠাতেন আমার খালা, তখন থেকে বেলজিয়াম শহরের প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল।
বেলজিয়াম থেকে শহরের ঐতিহ্যবাহী সিরামিকের সাদা ব্লু রঙের সুন্দর প্রিন্টের কুকি (বিস্কুট) রাখার পাত্র সুন্দর ঘড়ি, চায়ের কাপ সেট কিনলাম। তবে দোকানদার খুব সুন্দর করে প্যাক করে দিল, যা নাকি নিরাপদে নিউইয়র্কে নিয়ে এসেছি কোনো ড্যামেজ ছাড়া। পরিচিতদের জন্য কিছু চকলেট এনেছি। আমার অনেক দিনের শখ ছিল ব্রাসেলস ও আমস্টারডাম ঘুরতে যাওয়ার, তাই খুব আনন্দ লাগছে। কাল সকালে আমরা রওনা দেব আলোর শহর প্যারিসের উদ্দেশে। তবে এর আগেও আমি ও আমার ছেলে ছয় দিনের জন্য এসেছিলাম। তখন বয়স কম ছিল, অনেক ঘুরেছি। ট্রেনে ও ট্যুর বাসে মনভরে ঘুরেছি। এই ট্যুরের সঙ্গে প্যারিস যুক্ত বলে আসা আর কি। তবে ট্যুরের মাধ্যমে ঘোরা মানে ট্যুর বাস দিয়ে ঘোরা, কষ্ট কম। বয়স হলে ধকল পড়বে না শরীরের ওপর।
আমার খুব ইচ্ছা আছে পরে মরক্কো যাওয়ার। সবকিছু ঠিক থাকলে আল্লাহর হুকুম হলে আবার লিখব মরক্কো শহর নিয়ে কিছু।

কমেন্ট বক্স