শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• জামায়াত কোনোদিনই জাতীয় স্বার্থে রাজনীতি করেনি : রিজভী • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা, উদ্বেগ জাতিসংঘের • মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী • সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার কঠোর নিন্দা জানাল বাংলাদেশ • জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন • ভূমধ্যসাগরে ঝুঁকিতে পড়া ১০১ অভিবাসীকে উদ্ধার • বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ • প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১ মাসের ক্ষমতা চাইলেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব • হলিউডের সম্মাননা আসরে গাইবেন পপ তারকা টেইলর সুইফট • যে ৫ ভিটামিনের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

পুরোনো ও নতুন সন্ধিক্ষণে বিশ্বকাপ ২০২৬

পুরোনো ও নতুন সন্ধিক্ষণে বিশ্বকাপ ২০২৬

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত পুরুষদের ২৩তম দ্য ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে গত ১৯ জুলাই এক আনন্দঘন উত্তেজনায় ভরপুর হই-উল্লাসের মধ্য দিয়ে। নিউজার্সিতে অবস্থিত নিউইয়র্ক-নিউজার্সি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ছিল ফিফার ফাইনাল খেলা। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। দ্বিতীয়বারের এ বিজয় অর্জন তাদের মধ্যে এক অনাবিল আনন্দের ঝড় এনে দিয়েছিল।

বিশ্ববাসী দেখেছে স্পেনের চোখ-ধাঁধানো সুশৃঙ্খল সুন্দর একটি খেলা। যে খেলাটির নাটকীয় কলাকৌশল মেসিসহ তাঁর সমগ্র টিমকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল। আর্জেন্টিনা দুর্ভাগ্যবশত হেরে যাওয়ার কষ্টকে মেনে নিল। তারাও বিগত সময়ে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। গ্লোবালি ওই চূড়ান্ত খেলার টেলিভিশনের দর্শক ছিল অ্যারাউন্ড ১.৮ বিলিয়ন। সশরীরে নিউজার্সিস্থ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে সাড়ে ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শক সরাসরি খেলার আনন্দ উপভোগ করেছে।

খেলাধুলায় হারজিত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই অংশগ্রহণ করতে পারেনি। যে দেশগুলো অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের নিজস্ব সমর্থক ছিল বলেই সমর্থকেরা স্বদেশের পক্ষে জয়-পরাজয়ে সুখে-দুঃখে মেতে উঠেছিল। কিন্তু যেসব সমর্থক তাদের নিজ দেশের অনুপস্থিতির কারণে অন্য দেশের সমর্থকদের ভিড়ে মিশে গিয়ে উল্লাসিত বিনোদনে শামিল হয়েছিল, সেখানেও বিশ্ববাসী এক বিস্ময়কর উৎফুল্লিত জনতাকে দেখেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেকটা ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা গেলেও তাতে অবাক হওয়ার মতো নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র জনগোষ্ঠী বিশ্বকাপ দর্শক। সেই দর্শকগোষ্ঠী আবার দুই প্রধান খেলার টিম নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। ফুটবল অনুরাগী সমর্থক আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত। তবে ওই দুই দলের সমর্থক ছাড়াও যে ৩য় সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, তার সংখ্যা নিতান্তই কম। বিনিদ্র রজনী জেগে জেগে খেলা তারা দেখবেই, অন্তত সময়সূচিতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের খেলা থাকলেই হলো। প্রতিযোগী মনোভাব নিয়ে রেষারেষি, মারামারি সমস্ত দেশের কোথাও না কোথাও সংঘটিত হবেই। এমনকি রেষারেষি কোনো একসময় খুনোখুনিতেও রূপ নেয়।

বাংলাদেশ যেহেতু বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেহেতু দেশাত্মবোধের তাড়নায় আমাদের কোনো টিম ছিল না। বিশ্বকাপের তালিকায় আমাদের দেশ নেই, এ নিয়ে লজ্জার কিছু নেই কিন্তু কেন নেই এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন তুলে আগ্রহের উদ্দীপনাকে নিষ্প্রভ করে রাখারও কোনো মানে হয় না। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার দর্শক-শ্রোতা। লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমিক যারা অর্থের তোয়াক্কা না করে সরাসরি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে বসে ফুটবল খেলার কলাকৌশল-ভরা নৈপুণ্যের বিনোদন চরিতার্থ করছে। যাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষ বিনোদনের দিকে, তারা ‘আর্জেন্টিনা’ ‘আর্জেন্টিনা’ বলে হইচই রবে খেলাকে উপভোগ করেনি। তাদের আনন্দ তাদের নিজ নিজ দেশের আনন্দকে ঘিরে সমগ্র খেলোয়াড়দের ভিড়ে অভিনব কলাকৌশল দেখে, শেখার মতো কিছু একটা দেখে। দৃশ‍্যমান অধুনা অভিজ্ঞতা চিন্তাশীল মননে অনুপ্রেরণার মতো সংরক্ষিত করে তা পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের সময় প্রয়োগ করে দলকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করে তোলে।

মাত্র সাড়ে পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ ‘কেপ ভার্দে’। পৃথিবীর প্রায় কেউই জানে না এই ছোট্ট দেশটির কথা। বিশ্ব প্রতিযোগিতায় আফ্রিকার এই দেশটি প্রথমবারের মতো খেলতে এসেছিল। এবারের বিশ্বকাপে এই ছোট্ট দেশটির সকার খেলার সাহসী ক্রীড়া নৈপুণ‍্য বিশ্ববাসীর মননে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে দিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে সঠিক অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই, যদি সদিচ্ছা থাকে। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী চ্যাম্পিয়ন টিমের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ৩-২ গোলে হেরেছে। ওই খেলার ১১১ মিনিটের আগ পর্যন্ত উভয় দল ১-১ গোলে ড্র থেকেছে। জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ ১১০ মিনিটের পর হয়েছে। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ‘ভোজিনহা’ যে সুনিশ্চিত গোলগুলো ফিরিয়ে দিয়েছে, তা বিশ্ববাসীর চোখে সাড়াজাগানো তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। বিশ্বখ্যাত স্পেনের দক্ষ খেলোয়াড়দেরকেও তারা খেলা দেখিয়েছে। কেউ কাউকে গোল না করে ০-০ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এই সেই কেপ ভার্দের টিম দারিদ্র্যের চরম সংকটে থেকেও দেশটি বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতিযোগিতার জন‍্য প্রস্তুত করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিল। ২০২৬-এর বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে গিয়ে বিদায় নিলেও বিশ্ববাসীর হৃদয় থেকে প্রস্থান করেনি। এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কিছু অংশ তুলে ধরলাম : ‘Cape Verde returned home as heroes on Sunday after World Cup campaign that saw them capture the imagination in a way no other team has managed at this tournament.’

ফিফা বিশ্বকাপ পৃথিবীর বৃহত্তম জনপ্রিয় একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। যে প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বিশ্ববাসীর মধ্যে বিনোদনের আনন্দঘন উৎসবমুখর উন্মাদনা, সেখানে শ্রেষ্ঠত্বের উত্তেজনা দেশে দেশে ছড়িয়ে থাকবে। নিজ নিজ দেশের দেশাত্মবোধক চেতনায় প্রতিযোগী প্রতিক্রিয়ায় উন্মাদনার হইচই থাকবেই, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু যেখানে নিজের দেশকে প্রতিযোগিতার তালিকায় অনুপস্থিত রেখে শুধু শুধু আনন্দ-উল্লাসে অন‍্য দেশের জার্সি শরীরে জড়িয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। কোনো একটা টিমকে সাপোর্ট করে হই-উল্লাসে মেতে ওঠায় কোনো ক্ষতি নেই বটে, তবে আমার দেশের কেন আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার তীব্র আকাক্সক্ষার মানসিকতা থাকবে না? প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপে পুরোনো বিশ্বখ‍্যাত ফুটবলারদের সাথে নতুন নতুন দক্ষ তরুণ প্লেয়ার দেখছি, যারা আর্জেন্টিনার মেসি বা ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় ৪৮টি টিম অংশগ্রহণ করেছিল। ৩৯ দিনব‍্যাপী অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে প্রায় সব কটি দেশের টিমগুলো ভালো খেলেছে। সারা বিশ্বের দর্শকদের মধ্যে যারা সচেতন, তারা অবশ্যই দিব্যি চোখ দিয়ে খেলা থেকে শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে রেখেছে, যার সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের অনুশীলনকে আরও পরিশীলিত করে তুলতে সক্ষম হবে। ২০২৬-এর চ‍্যাম্পিয়ন স্পেন মাঠে যে ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়েছে, তা থেকে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অনেক শেখার জায়গা আছে। যারা অনুসন্ধিৎসু উৎসাহ নিয়ে দক্ষ খেলোয়াড়দের কলাকৌশলের দিকে মনোযোগ রাখে, তারাই সাফল্যের সম্ভাবনা দেখে এবং দেখবে।

ফিফা বিশ্বকাপের ৯৭ বছরের ইতিহাসে বিশ্ববাসী অনেক বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড় দেখে আসছে এবং আজও সেই ‘ফিফা’ নামক প্রতিষ্ঠানটি উন্নত মানের খেলা দেখিয়ে পুরোনোদের মধ্যে নতুনদেরকে আবিষ্কারের চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছে। ফুটবলের কিংবদন্তি পেলে, ম‍্যারাডোনা, রোনালদো, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় জোগান দিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ববাসী প্রতিটি খেলায় নতুন নতুন সম্ভাবনাদেরকে দেখছে।

এবারের খেলায় আরেক নতুন চমক বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে। বিশ্বকাপে আলোড়ন সৃষ্টিকারী স্পেনের তরুণ ফুটবলার ‘লামিন ইয়ামাল’। মাত্র ১৯ বছর বয়সী ফুটবলার লামিন ইয়ামাল। অনুষ্ঠিত প্রতিটি খেলায় অনবদ্য দূরদর্শিতার পারফরম্যান্স দেখিয়ে পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এক সাধারণ গরিব পরিবারে তার জন্ম। দারিদ্র্যের চরম সংকটে থাকা এই সেই বালক, যার বাম পায়ের শক্তি, ড্রিবলিং আর সাহসী মনোবল নিয়ে ফুটবলশৈলীকে কাজে লাগিয়ে স্পেনকে খেলার প্রতিটি পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। লামিন ইয়ামাল এখন বিশ্বের চোখে নজরকাড়া ফুটবল তারকার সম্ভাবনাময় হাতছানি দেখছে।

বিশ্ববিখ্যাত হয়ে থাকার জায়গাটি ক্ষণস্থায়ী বলেই সেখানে নতুনদের জন্য স্থানটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্থলাভিষিক্ত হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, তা থেকে বিশ্বশিরোপা অর্জনের যোগ্যতা অর্জনের সদিচ্ছা সবার মধ্যে জেগে উঠুক। -নিউইয়র্ক

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz