স্বপ্নভঙ্গের শেষ অধ্যায় : বিশ্বকাপ ছাড়াই নেইমারের বিদায়
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬
•
অনলাইন সংস্করণ
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম নেইমার। প্রায় দেড় দশক ধরে দেশের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেওয়া এই তারকা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেন না। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে জাতীয় দলকে বিদায়ের ইঙ্গিত দেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি... এখানেই শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।” এই সংক্ষিপ্ত কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির ইঙ্গিত।
নেইমারের জাতীয় দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে, একই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। গোলের দিক থেকে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্থানে উঠে যান এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন।
তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা থেকে গেল বিশ্বকাপ। ২০১৪ সালে চোটে ছিটকে যাওয়া, ২০১৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়, ২০২২ সালে টাইব্রেকারে হার এবং ২০২৬ সালে শেষ ষোলো থেকেই বিদায়—প্রতিবারই ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন ভেঙেছে। ব্রাজিলও ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, ফলে ২০৩০ সালে তাদের শিরোপা-খরা ২৮ বছরে পৌঁছাবে।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের একমাত্র বড় শিরোপা ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ। ক্লাব ফুটবলে তিনি বহু ট্রফি জিতলেও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি তার হাতছাড়া রয়ে গেল।
ব্রাজিলের সমর্থকদের কাছে নেইমার শুধু একজন গোলদাতা নন, ছিলেন এক প্রজন্মের আশা-ভরসার প্রতীক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার বিদায়ের গল্প লেখা হলো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে নয়, বরং অপূর্ণ স্বপ্নের বেদনায়। ফুটবল ইতিহাসে তিনি থাকবেন ব্রাজিলের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে—যার ক্যারিয়ার ছিল অসাধারণ, কিন্তু যার সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি অধরাই থেকে গেল। সূত্র : রয়টার্স