শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে কুরাসাওকে ৭–১ গোলে হারাল জার্মানি

ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে কুরাসাওকে ৭–১ গোলে হারাল জার্মানি

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
মাঠে বল গড়ানোর আগে দুই কোচের বয়সের বিশাল ব্যবধান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল ঢের। তবে মাঠের লড়াই শুরু হতেই জার্মানি ও কুরাসাওয়ের মধ্যকার ফুটবলীয় দূরত্বের ব্যবধানটাই ফুটে উঠল স্পষ্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।

স্কোরলাইন দেখে ব্রাজিল-ভক্তদের মনে পড়বে ২০১৪ বিশ্বকাপের বেলো হরিজন্তের সেই ঐতিহাসিক রাতের স্মৃতি। সেবার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের জালে সাত গোল দিয়েছিল জার্মানি, এবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির বিপক্ষে সেই পুনরাবৃত্তি ঘটাল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

হিউস্টন স্টেডিয়ামে রোববার (১৪ জুন) ম্যাচের শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের রক্ষণকে চেপে ধরে জার্মানি। সাফল্য আসতেও সময় লাগেনি। মাত্র ৬ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভাইর্টসের নিখুঁত নো-লুক পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক কার্লিং শটে দলকে এগিয়ে নেন ফেলিক্স এনমেচা।

চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম এই গোলের ধাক্কা সামলে অবশ্য দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে কুরাসাও। ম্যাচের ২১ মিনিটে লড়াকু ফুটবল খেলে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেয় মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার এই দেশ। লিভানো কোমেনেনসিয়ার একটি দূরপাল্লার শট অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করলে সমতায় ফেরে কুরাসাও। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই প্রথম গোলের দেখা পেয়ে বুনো উল্লাসে মাতে ক্যারিবীয়রা।

সেই আনন্দের স্থায়িত্ব বেশি হতে দেয়নি জার্মানি। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা। ৩৮ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের নিখুঁত কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে জার্মানিকে আবারও লিড এনে দেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৫ মিনিটে) এনমেচাকে ডি-বক্সে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। সফল স্পটকিকে স্কোরলাইন ৩–১ করেন কাই হাভার্টজ।

বিরতির ঠিক পরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের মুঠোয় পুরে নেয় জার্মানরা। ৪৭ মিনিটে একক নৈপুণ্যে চমৎকার কোনাকুনি শটে গোল করেন চোট কাটিয়ে ফেরা জামাল মুসিয়ালা। ৪–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর নাগেলসমান বেঞ্চের গভীরতা পরীক্ষা করতে শুরু করলেও জার্মানির আক্রমণের ধার কমেনি একটুও।

৬৮ মিনিটে পঞ্চম গোলটি করেন বদলি নামা নাথানিয়েল ব্রাউন। এর পর থেকে ম্যাচটি পুরোপুরি একপেশে হয়ে দাঁড়ায়। ৭৭ মিনিটে কিমিচের নিখুঁত পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর থেকে আলতো ফিনিশিংয়ে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উন্দাভ । ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে, ৮৮ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। উন্দাভ চমৎকার এক থ্রু পাস বাড়ান হাভার্টজের উদ্দেশে। কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক ইলোয় রুম এগিয়ে এলে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তার মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোলটি করেন কাই হাভার্টজ। আর তাতেই নিশ্চিত হয় সেই চিরচেনা ৭-১ ব্যবধানের পুনরাবৃত্তি। পুরো ম্যাচে ৭১ শতাংশ বল দখল রেখে এবং ২৪টি শট নিয়ে ম্যাচ শেষ করা জার্মানি বড় জয়ে বড় বার্তাই দিল।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz