মেরুদণ্ডটা বিক্রি করেছি সস্তা কোনো হাটে,
এখন আমার দিন কেটে যায় বড় সাহেবের বাটে।
যোগ্যতা আজ বন্দী ঘরে, লজ্জা গেছে চুলায়,
সায়েব বললে ‘দিন’কে ‘রাত’, আমিই নামাই ধুলায়।
বিবেক আমার বাক্সবন্দী, বুদ্ধি গেছে ছুটি,
চাটুকারিতার জোরেই জোটে গরম গরম রুটি।
হুজুর যখন কাশেন জোরে, আমিই বলি ‘বা’,
টাকা খেয়ে চাটছি আমি হুজুরের চড়াই পা।
ন্যাজ নাড়ানোয় পিএইচডি, তৈলমর্দন কাজ,
চামচামিতেই বিশ্বজয়ী, নেইকো কোনো লাজ।
তেলের শিশি বগলদাবায়, মুখে খই ফোটে,
এই কৌশলেই পকেট আমার ফেঁপে ফেঁপে ওঠে।
পিঠ বাঁচিয়ে চলাই দায়, যদি না দিই হাজিরা,
চামচামিতেই বিশ্বজয়-জানে তেলবাজ পাজিরা।
মান-সম্মান ধুলোয় লুটিয়ে হাসছি দাঁত কপাটি,
বাঙালির এই তৈল-তত্ত্বে আমিই সেরা পার্টি।
খাঁটি সোনার দরকার কী? যদি থাকে তেল,
চামচামিতেই পাস হয়ে যায় কঠিন সব ফেল।
পদলেহনই শ্রেষ্ঠ শিল্প, এই আমাদের নীতি,
মেরুদণ্ডহীন বেঁচে থাকাই বাঙালির আসল প্রীতি।