একদিন আমিও থাকিব না আর
এইখানে; এইসব রোদমাখা সোনালি বিকেলে;
অথবা বিকেল গড়িয়ে এইসব রঙিন সন্ধ্যায়;
তোমাদের ভালোবাসা গায়ে মেখে এই কোলাহলে;
শীতলক্ষ্যা নদীটির তীর ধরে
আমি আর কোনো দিন হেঁটে যাব নাকো
শীতের কুয়াশায় ভিজে;
শিশিরের জল ভেঙে; অড়হর ক্ষেতের আইল ধরে
আর কোনো দিন আমি হেঁটে যাব নাকো;
কোনো দিন আমি আর দেখিব না
জিয়াসকুড়ির বিলে
সেই উঁচু ঢিবিটির পাশে
হিজলের লাল ফুল ফুটে আছে জলের ছায়ায়;
মুক্তোর মালার মতো ফুটে আছে শামুকের ডিম
বিলের কিনার ধরে ফসলের মাঠে;
আম-কাঁঠালের ছায়াঢাকা
লালরঙা আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে
হেঁটে আর যাব নাকো আমি;
কচুরিপানার তলে হিমেল জলের ভেতর
মিশে থাকা লালবুক কৈ
কোনো দিন জালি দিয়ে ধরিব না আর
শীতের সকালে;
দোয়েলের শীষ আর বউ কথা কও
ভুলে যাবে হঠাৎ তাদের গান;
আর কি বাঁজিবে কানে ধূসর ঘুঘুর ডাক
নির্জন উদাস দুপুরে আর কোনোকালে;
হয়তো আমিও তাদের মতো কোনো একদিন
শান্তির পরশ মেখে ঘুমায়ে পড়িব;
নিঃশব্দ নির্জন ভোরে
স্মৃতি হয়ে যাব কোনো দিন;
আসিব না ফিরে আর এই পৃথিবীতে
সব গান মিশে যাবে প্রাণহীন বিষাদ নিশীথে
গতকাল রাতের মতন আদিম আঁধারে।