জনম দু:খের জনম সাথী
জন্ম দু:খী মা,
দু হাত তুলে মায়ের কান্দন
ত্রি-ভূবনের সীমা।
আমি যখন কান্দি কোলে
মা বলে নয়নমনি,
তুই আমার সাত রাজার ধন
হীরা মানিকের খনি।
দশ মাস ধরে মায়ের পেটে
সন্তান চুষে রক্ত,
অস্থি মজ্জা মাংস খেয়ে
মায়ের গর্ভে শক্ত।
সন্তান জন্মে মায়ের কান্দন
সন্তান জন্মে সুখ,
সন্তান যদি দুঃখে থাকে
মায়ের চোঁখে দুখ।
শৈশবের এই পথ পেরিয়ে
যৌবনের রঙিন দিন,
ভালবাসার বাঁধন ছিঁড়ে
ভুলো না মায়ের ঋণ।
ফেসবুকে ঝড় উঠে
যখন মাতৃদিবস আসে,
প্রোফাইল জুড়ে মা বন্দনা
মা বৃদ্ধাশ্রমে কাঁশে।
জনম ধরে মায়ের আঁচল
মুছে চোঁখের জল,
মা কেন যায় বৃদ্ধাশ্রম
ভুলো না কর্মফল।
বৃদ্ধাশ্রমের খোলা মাঠ জুড়ে
মায়ের বুকে হাহাকার,
যদিও মা বৃদ্ধাশ্রমে যায়
সন্তানের সুখে একাকার।
চিরবিদায়ের দূর যাত্রায়
মা চলে পরপারে,
ছেলে-মেয়েরা মায়া কান্নায়
বলে, ভালো থেকো ওপারে।
মায়ের শেষ যাত্রায় আরো
যদি পরপারে বাবা,
মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় হয়
রসনা বিলাসে মারহাবা।
বেঁচে থাকতে যত্ন নিতে
হয় না কোনো ক্ষতি,
ধর্মের ঢোল আপনা বাজে
যত্নে মা-বাবার প্রতি।
ছেলের জন্মে মা যেমন কাঁদে
মেয়ের জন্মেও তা,
দায়িত্ব যখন কাঁধে আসে
মেয়ে বলে, “আমি বিয়াতা।”
মায়ের যত্নে সমান সমান
ছেলে-মেয়ের অধিকার,
দায়িত্ব পালনে কেন বলেন
সব কর্তব্য ভাইয়ার?
মা মানে কুল দেবী,
বাবা মানে স্বর্গ,
সন্তান যদি হয় কৃতজ্ঞবা
বাবা-মায়ের গর্ব।