বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

যে ছোট অভ্যাসেই মিলতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা

যে ছোট অভ্যাসেই মিলতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা

ছবি : সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
সকালের শুরুটা কেমন হবে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে সারাদিনের কর্মক্ষমতা ও শরীরের অবস্থা। পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের প্রথম খাবারে স্বাস্থ্যকর নির্বাচন শুধু তাৎক্ষণিক শক্তিই জোগায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবন গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান ব্যস্ত নগরজীবনে অনেকেই সকালের নাশতা এড়িয়ে যান বা তাড়াহুড়ার কারণে পুষ্টিগুণহীন খাবার খেয়ে দিন শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

ম্যাক্স হেলথকেয়ারের ডায়েটেটিকস বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান রিতিকা সমাদ্দার বলেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য জটিল কোনো নিয়মের প্রয়োজন নেই। বরং এমন কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার, যা প্রতিদিন অনুসরণ করা সম্ভব। তার মতে, সকালে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সুষম নাশতার অংশ। সকালের নাশতায় বাদাম, ফল কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার যুক্ত করা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

দিল্লির এআইআইএমএসের পুষ্টিবিদ মনিতা গাহলোট জানান, সকালের প্রথম খাবার শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে, শক্তি জোগাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে। তার মতে, দিনের শুরুতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, পূর্ণ শস্য, ফল এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি খাওয়া হলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। এর ফলে সারাদিন ভালো খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও সহজ হয়। তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয় ডায়েট ট্রেন্ড বা কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণের চেয়ে নিয়মিত সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেক বেশি কার্যকর।

বর্তমান নগরজীবনে কাজের চাপ ও সময়ের অভাবে অনেকেই নাশতা না খেয়েই বের হয়ে যান। পরে ক্ষুধা মেটাতে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত কিন্তু কম পুষ্টিকর খাবারের ওপর নির্ভর করেন। এআইআইএমএসের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ অঞ্জলি ভোলা বলেন, সকালে না খেয়ে থাকার ফলে মানুষ পরে অতিরিক্ত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতায় ভোগে। এতে ওজন বৃদ্ধি, পুষ্টির ঘাটতি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সকালের নাশতায় যেসব রাখবেন:  বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সকালের খাবারে রাখতে পারেন—
  • ডিম, দুধ, দই বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
  • ওটস, লাল আটার রুটি বা হোল গ্রেইন খাবার
  • মৌসুমি ফল
  • বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার
  • পর্যাপ্ত পানি
  • ছোট পরিবর্তন, বড় উপকার

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য হঠাৎ বড় ধরনের খাদ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস যেমন সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: মিড ডে

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz