‘বাদ যাবে না একটি শিশুও’বিজ্ঞাপনের মতো বুলিংয়ের দশায় বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির নেতা-নেত্রীরা। সঙ্গে তাদের স্বামী-স্ত্রী-কন্যাসহ সন্তানেরাও। নীল ছবি বা ব্লু ফিল্ম স্টাইলে নারী-পুরুষ মিলিয়ে জনা কয়েক মন্ত্রী-এমপি তথা শীর্ষ নেতার আংশিক-পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবির মহরত শেষ। সেই আয়োজন এগিয়ে এখন মুক্তির অপেক্ষায়। অবস্থা বেগতিক বুঝে লাগাম টানতে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ে তাগিদ বোধ হলেও ইমেজ, ফুটেজ, অডিও-ভিডিও রোখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
আগামী দিন কয়েকের মধ্যে রিলিজ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। রাজনীতির ময়দানে তা কারও জন্য শঙ্কার, কারও জন্য সম্ভাবনার। আর কারও জন্য বিনোদন জমানো ও চব্বিশের বেনিফিশিয়ারিদের চরিত্র হননের মোক্ষম সময়। সাকল্যে রাজনীতির জন্য এক নীল ঝড়। এ ঝড়ে রেহাই মিলল না যশোরের জামায়াত নেতা গোলাম রসুল এমপির মেয়েরও। তার বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ জমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগÑএই কন্যা প্রায়ই মাতাল অবস্থায় গভীর রাতে বাসায় ফেরেন। গত সোমবার রাতে মাতাল অবস্থায় বাসার ঢোকার সময় পাশের একটা মাদ্রাসার ছাত্রকে মারধর করেছেন। অধ্যক্ষ এগিয়ে গেলে তাকেও উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের উপযুক্ত তথ্য ও প্রচার। যথারীতি এলাকাবাসী তার বাড়ি ঘিরে তা-ই করেছে।
ব্যক্তিগত বিশেষ গোপন সম্পর্ক, কেবল নারী নয়, নারী-পুরুষ মেলানো কেলেঙ্কারি, বুলিং ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার, অতিপ্রচার বিএনপি-জামায়াত উভয় দলের কিছু নেতাকে ভেতরে ভেতরে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তারা বুঝতে পারছেন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে নিজেদের পচার শেষ থাকবে না। পরিবারের নারীরাও নিরাপদ থাকবেন না। এ জন্য তারা একে অপরকে দায়ী করলেও নোংরা খেলাটা এখন আর তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এই বুলিং শো আয়োজনের একটা বড় অংশ চলে গেছে আওয়ামী লীগের কব্জায়। মেকিংয়ের সমান্তরালে প্রচার-প্রসারে দলটির সাইবার টিম মাঠে নেমেছে বিশেষভাবে। সঙ্গে যোগ হয়েছে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় বাম ঘরানার কিছু অলস মেধা। বাজেট বেশ বড়। পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য তা ঝড়ে আম পড়ার মতো মৌসুমের। নেতিবাচক ও চটকদার কনটেন্ট দ্রুত ছড়ায়।
মুখে ছি ছি করলেও এর অডিয়েন্স প্রচুর। বিভিন্ন বয়সীদের কাছে তা উপভোগ্যের। আর উপভোগ্য বলেই সাতক্ষীরার জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের কনটেন্ট যারপরনাই আকর্ষণীয়। বৃহত্তর সিলেট বিএনপির এক এমপির উলঙ্গ ভাইরাল ভিডিও খুঁজে খুঁজে বের করছে মানুষ। আরও অনেকে নেতা-নেত্রীর ভিডিও কলের কণ্ঠ শুনছে মজা করে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন জিয়া পরিষদের সভাপতি রিপনুজ্জামানের এক নারী কাস্টমারের কাছে ফেঁসে যাওয়ার পুরোনো ছবি দেখতেও অন্য রকম আমেজ। চট্টগ্রাম মহানগরের এনসিপির নেত্রী লিমা আক্তারের ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিওও বেশ ভাইরাল। হিউজ ভিউ। ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ওবায়দুর রহমান ও এক নারীর অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল ও ভাইরালের পর তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেও নিপাতন থেকে রক্ষা নেই। যেমন জামায়াত রক্ষা পাচ্ছে না সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করেও।
এই কুধারার টর্গেট পয়েন্ট চলে গেছে আরও ওপরের দিকে। ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার নীলকাণ্ডের কনটেন্ট এখন রিলিজের অপেক্ষায়। এ তালিকায় আছেন সংরক্ষিত আসনের কয়েকজন নারী সদস্যও। গোটা অবস্থাটি বেগতিক। তা প্রচার না হওয়ার নানা দৌড়ঝাঁপেও কুলানো যাচ্ছে না। জুলাই আন্দোলনের এ স্পর্শকাতর সময়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুজন নেতার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক ভিডিও ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর দলগুলো তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েও ইস্যু থামাতে পারেনি। এসব ভিডিও ফাঁসের নেপথ্যে কারা, তা দলগুলো জানলেও এখন হজম করা ছাড়া আর করার কিছু নেই। এসব ভিডিওকে একান্তই ব্যক্তিগত বলে জায়েজ করার অবস্থা নেই। বরং নোংরামির একটা নতুন অ্যাভিনিউ তারা নিজেরাই খুলে দিয়েছে। একাধিক সূত্রের আভাস, আগামী কিছুদিনে একের পর এক আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ্যে আসতে থাকবে।
অপেক্ষমাণ এসব কনটেন্টের একটির চেয়ে আরেকটি হবে আরও বাজার গরম করার মতো। সূত্র এও জানিয়েছে, এগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানানো বলে নিস্তার মেলার অবস্থা হবে না। সেখানে থাকতে পারে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগও। গোপন, বানানো বা আংশিক ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস, নৈতিকতা এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে নতুন করে কেবল আলোচনা নয়, আরও অনেক কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে। মাস কয়েক আগে রাজধানীর জিগাতলা পুরাতন কাঁচা বাজারের পাশে একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে এনসিপি নেত্রী জান্নাত আক্তার রুমীর মৃত্যুর পেছনে ছিল সাইবার বুলিং। পুলিশের সহায়তা চেয়েও পাননি তিনি। এ নীল খেলার সঙ্গে সামনের কয়েক দিন নতুন করে আবার ফটোকার্ডের ধুম পড়ার আভাস রয়েছে। বিভিন্ন জনপ্রিয় গণমাধ্যমের লোগো ও ডিজাইন নকল করে নিয়মিতভাবে সম্পাদিত ফটোকার্ড একটা সময়ে গিয়ে ফ্যাক্ট চেক করে সত্যতা মিললেও কিছু সময়ে ব্যাপক ভাইরালে গোলযোগ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট।