বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​প্রভাব-বলয় বজায় রাখতে ট্রাম্পের উত্তরাধিকার ভাবনা

​প্রভাব-বলয় বজায় রাখতে ট্রাম্পের উত্তরাধিকার ভাবনা

বিজ্ঞাপন
আর দুই বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬১তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। এ দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৪ বছর পরপর, সব সময় নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার। সে হিসাবে ২০২৮ সালের ৭ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ বছরের বেশি বয়সী ভোটাররা ৬১তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪৬তম ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকেই নির্বাচনী বাজনা শুরু হয়ে যাবে। দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রাইমারিতে নেমে নিজ দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীদের হারিয়ে বিজয়ী হতে হবে। এর পরও দলের মনোনয়নবঞ্চিত দু-একজনকে চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধে মোকাবিলা করতে হয় অনেক সময়। এর পরে তো প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীরা আছেনই।

২০২৭ সালের শুরু থেকেই প্রার্থীরা চূড়ান্ত প্রচারণায় নামবেন। বিতর্ক, জনমত জরিপের ফল নিয়ে বহুমুখী আলোচনা হবে। এমনি করেই প্রার্থীদের প্রচারণা, বিতর্কের মধ্য দিয়ে আসবে ২০২৮ সালের নভেম্বরের ৭ তারিখ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে দুবারের অধিক কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সে হিসেবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে আর প্রার্থী হতে পারবেন না-এমনটাই সংবিধানের বিধান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধ্যান-ধারণা ভিন্ন। তিনি একজন বিলিয়নিয়ার ধনকুবের ব্যবসায়ী। তার বিশ্বাস, গণতান্ত্রিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রেও অর্থ দিয়ে সব সুযোগ-সুবিধা কেনা যায়। তাই তিনি ফাঁক-ফোকর বের করার চেষ্টা যে কম করবেন না, তা নিশ্চিত। একান্তই যদি তিনি ফাঁক-ফোকরের সন্ধান না-ই পান, সে ক্ষেত্রেও তার ব্যাকআপ প্ল্যান মাথায় রেখেছেন ঠিকই।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ঘোরতর ব্যস্ত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চিন্তা মাথায় নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, সে ভাবনা কাজে লাগেনি। উল্টো বুমেরাং হয়েছে। ইরান যুদ্ধ এখন তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বের করতেও পারছেন না; গিলতেও পারছে না। পাশাপাশি রয়েছে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্ট বিতাড়ন ভাবনা। তিনি চান কাগজপত্রহীন ইমিগ্র্যান্টদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণরূপে ইমিগ্র্যান্ট-মুক্ত করতে এবং একই সঙ্গে তারা যেন পুনরায় কোনো ফাঁক দিয়ে আর প্রবেশ করতে না পারেন। কিন্তু কিছুতেই তিনি পেরে উঠছেন না। ট্রাম্প বিস্মৃত হয়ে গেছেন, তার নিজের পূর্বপুরুষেরাও ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী দলভুক্ত। এ দেশের জন্মলগ্ন থেকেই এই আদর্শ মান্য পেয়ে এসেছে, যারা নিজ দেশে অত্যাচারিত, নিগৃহীত, তারা কোনোভাবে এ দেশে ঢুকতে পারলেই একটু আশ্রয় পাবেন। কাজ করে দু’মুঠো অন্ন সংগ্রহ করতে পারবেন।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামনে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যদি একান্তই তিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে তিনি দেখতে চান ক্ষমতার আসনে তারই কোনো উত্তরাধিকরীকে। যাতে তিনি সরাসরি ক্ষমতায় না থাকলেও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) এই দর্শন এগিয়ে তিনি ক্ষমতার বাইরে থেকেও যেন ভূমিকা রাখতে পারেন। সেই সূত্র ধরেই এখন তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে আলোচিত হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের নাম। তাই যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনে ট্রাম্প জুনিয়র প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। ট্রাম্প পরিবারের রাজনীতি এবং ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তার নামটাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে আলাপ-আলোচনায়। অবশ্য এসব বিষয়ে শেষ কথা বলা যায় না। শেষ কথা কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই বলতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz