সব সময়ই একটু নজর দিলে দেখা যাবে, আমরা বিশেষত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রবাসী স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে অধিক লেখালেখি করে থাকি। এর বাইরে কখনো কখনো লেখালেখি হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় বা আমরা কম গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তেমনি একটি সংবাদ ‘নিউইয়র্কে সোনার বার প্রতারণার নতুন ফাঁদ’। মানে সোনার বারে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে নিউইয়র্কের একটি স্বর্ণ প্রতারক চক্র। সংবাদটি ঠিকানার ১২ আগস্ট সংখ্যায় শেষ পৃষ্ঠায় সিঙ্গেল কলামে প্রকাশিত হয়েছে। কারও চোখে সংবাদটি পড়তে পারে, নাও পারে। তবে যারা স্বর্ণপ্রিয় মানুষ, যারা ঘরে নগদ টাকা না রেখে সোনা রাখতে পছন্দ করেন, তারা সোনা কিনে রাখেন। কেউ কেউ সোনা কিনে ব্যাংকের লকারে রাখতেও নিরাপদ ভাবেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত-বাংলাদেশের নারীদের গহনায় পছন্দের শীর্ষে সোনা। বিশেষ করে, যারা নগদ অর্থে কাজ করেন, তারা ব্যাংকে টাকা জমা রাখার পরিবর্তে লকারে সোনা রাখেন। কোনো বিবাহ, জন্মদিন, বার্ষিকী উদ্্যাপনে ঝলমলে সোনা পরে আমাদের দেশের মেয়েরা হাজির হতে খুব পছন্দ করেন। তা ছাড়া তারা মনে করেন, অন্য সব অস্থায়ী সম্পদ পুনর্বিক্রির মূল্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম হলেও সোনার মূল্য সাধারণত কমতে দেখা যায় না। তাই তো দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষে সোনার ভরি ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন বাংলাদেশে সেই সোনা কিনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করতে হয়। তার পরও বাজারে অন্য সব পণ্যের চড়া দামে ক্রেতারা কিনতে দ্বিধায় ভুগলেও স্বর্ণের দোকানে এখনো বেশ ভিড় এবং কেনা-বেচা করতে দেখা যায়।
মানুষের এই স্বর্ণপ্রেমের ফায়দাটা ভালোই তুলছে নিউইয়র্কের স্বর্ণ প্রতারক চক্র, এমনটাই খবরে বলা হচ্ছে। সোনার মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে নিউইয়র্কে নতুন কৌশল নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি প্রতারক চক্র। সঞ্চয়প্রিয় নাগরিক এবং বয়স্ক মানুষকে টার্গেট করে প্রতারক চক্র ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’ বা সোনার বার প্রতারণা করে তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নিচ্ছে বলে নিউইয়র্কবাসীকে সতর্ক করেছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।
গত ৭ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস প্রতারক চক্র কীভাবে প্রতারণার ফাঁদ পাতে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এদিকে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তদন্তে জানা গেছে, গত দুই বছরে এ ধরনের গোল্ড বার প্রতারণার ১০০টিরও বেশি ঘটনার তদন্ত করেছে তারা। এসব স্ক্যামে মোট আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০ কোটি ডলারেরও বেশি। অ্যাটর্নি জেনারেল এসব প্রতারণাকে নির্মম নিষ্ঠুরতা বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, কষ্টার্জিত অর্থ, যা সঞ্চয়ের লক্ষ্যে ব্যাংকে রাখা হয়, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে কোনোভাবেই যাতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া না হয়। প্রতারক চক্রের কোনো নির্দেশ না মেনে বা ভয়ে ভীত না হয়ে তাদের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে ব্যাংকে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকেও জানাতে পারবেন। বিপৎকালে এসব পরামর্শ মনে রেখে আপনি আপনার সোনা অন্যের হাতে তুলে দেবেন না। স্ক্যামাররা নিত্যনতুন ফন্দি আঁটবে। আপনাকেও সেভাবে সতর্ক থাকতে হবে।