অভিবাসীদের ভয়ের মধ্যে বসবাস : নিউইয়র্ক আর অভয়ারণ্য নয়, আতঙ্কের নাম
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:২৫
•
অনলাইন সংস্করণ
বাঙালিদের এ মৌসুমে বনভোজনের ধুম পড়েছে। কোনো শনিবার এবং রোববার বাদ নেই, যেদিন একাধিক বনভোজনে বাঙালিরা সপরিবারে বনভোজনে অংশ নিচ্ছেন না। নিউইয়র্ক সিটির দূরের-কাছের সব পার্ক নারী-শিশু-পুরুষের কলকাকলিতে মুখরিত থাকছে। কিন্তু এত আনন্দের মধ্যেও অনেকের মধ্যেই বিষাদের ছায়া লক্ষ করা যাচ্ছে। এমন অনেকে আছেন, যারা অতীতে বনভোজন আয়োজনের অগ্রভাগে ছিলেন, হাসি-আনন্দে মেতে উঠতেন, নিজেরা আনন্দ ভোগ করতেন, অন্যদেরকেও আনন্দে ভাসিয়ে দিতেন। এবারের বনভোজনে অনেকের মাঝে সেই আনন্দ এবং উচ্ছলতা অনুপস্থিত। বিভিন্ন সংগঠন এবং এলাকার বনভোজনে চিরচেনা অনেক প্রিয়মুখকে এবার দেখাও যাচ্ছে না।
এই বিষাদ, ভয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তাদের মধ্যে অধিক, যাদের এ দেশে বসবাসের বৈধ কাগজপত্র নেই। যে নিউইয়র্ক ছিল বৈধ এবং কাগজপত্রহীন সব অভিবাসীর জন্য অভয়ারণ্য, সেই নিউইয়র্ক যেন হয়ে উঠেছে আনডকুমেন্টেড অভিবাসীদের জন্য এক ভয়ংকর আতঙ্কের জায়গা। যেকোনো পত্রিকার যেকোনো সংখ্যায় অভিবাসী তাড়ানোর একাধিক সংবাদ মিলবে না, তা হবে না। ঠিকানার ৫ আগস্ট সংখ্যাতেও অভিবাসন-বিরোধী একাধিক খবর দেখা যায়। ৭০ পৃষ্ঠার প্রধান খবরটিই ইমিগ্র্যান্ট-বিরোধী। শিরোনাম : ‘অভিবাসনে নজিরবিহীন কড়াকড়ি। জুলাইয়ে আটক ৪৬ হাজারের বেশি’। খবরের শুরু, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে দেশজুড়ে ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসীকে আটক করেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা।’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে অভিবাসী আটকের এটাই সর্বোচ্চ ঘটনা। তথ্যটি সিবিএস জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ সরকারি তথ্য ভিত্তি করে।
এ থেকে খুব সহজেই ধরে নেওয়া যায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কত অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হয়তো কোনো সুযোগ পাবেন না। এই ভাবনা থেকেই তিনি হয়তো যুক্তরাষ্ট্র থেকে যত বেশি সম্ভব অভিবাসী তাড়ানোর প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছেন। তিনি ভুলে গেছেন নিজের পিতৃপুরুষের অভিবাসন ইতিহাস। ভুলে গেছেন বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট-বান্ধব ইতিহাস। যুক্তরাষ্ট্রের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা সবকিছুরই আজ যে অবস্থান, তার পেছনে রয়েছে অভিবাসীদের অবদান।
ঠিকানার একই সংখ্যার শেষ পৃষ্ঠায় প্রধান সংবাদটিও অভিবাসী-বিরোধী। সেই সংবাদটি অভিবাসীদের জন্য একটি আতঙ্কের নাম। রীতিমতো ভীতিকর। সকল আনন্দ হরণ করে নেয় এমন সংবাদ। শিরোনাম দেখলেই পিলে চমকে যায়। শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে। মনে হয়, এখনই বুঝি আইসের হাত ঘাড়ে এসে পড়ে। অভিবাসীদের জন্য এমন আতঙ্কের পরিবেশ সত্যি অকল্পনীয়। শিরোনামের মধ্যেই রয়েছে আতঙ্ক। শিরোনামটি হচ্ছে : ‘আইসের বেপরোয়া অভিযান, ধরপাকড় এড়াতে আত্মগোপনে অনথিভুক্তরা/ ইমিগ্র্যান্টদের আতঙ্কের নগরী নিউইয়র্ক’। খবরটির সূচনাতেই পরিষ্কার বুঝতে পারা যায়, আসলেই সংবাদটি কত ভয়ংকর অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য। বলা হচ্ছে : ‘যে শহর দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের নিরাপদ আশ্রয় ও স্বপ্নের ঠিকানা বলে পরিচিত ছিল, সেই নিউইয়র্ক এখন বহু অভিবাসীর কাছে পরিণত হয়েছে ভয়, অনিশ্চয়তা ও প্রতিদিন গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কার নগরীতে।’
অথচ এই নিউইয়র্ক এত দিন অভিবাসী, সে ডকুমেন্টেড বা আনডকুমেন্টেড যাই হোক, সকলের জন্যই ছিল অভয়ারণ্য। মানুষ, ভাষা, রং সবকিছু নিয়ে সবচেয়ে ডাইভার্স সিটি হিসেবে সুনামের সিটি ছিল। নিউইয়র্ক সিটির সেই মর্যাদা ও সৌন্দর্য শেষ বিচারে অক্ষুণ্ন থাকবেÑসেটাই নিউইয়র্কবাসীর প্রত্যাশা।