বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​নিবেদন-প্রবাসীদের দেশপ্রেমে যেন কারও সংশয় না থাকে

​নিবেদন-প্রবাসীদের দেশপ্রেমে যেন কারও সংশয় না থাকে

বিজ্ঞাপন
প্রবাসীদের হতাশা, বঞ্চনা, অপ্রাপ্তির হাহাকার নিয়ে বারবার লিখতে খুব স্বস্তি লাগে না। একই কথা বারবার লিখতে গিয়ে নিজের কাছেই নিজেকে হীনম্মন্য মনে হয়। আসলে দেশ ছেড়ে যারা চলে আসেন এবং প্রবাসে নতুন করে শিকড় গাড়েন, তাদের সেই শিকড় যত দিন শক্ত না হয়, তত দিন প্রবাসীদের বঞ্চনার শেষ হয় না। আবার স্বদেশত্যাগীরা শিকড়ের মাটি আদতে কতটা শক্ত করতে পারেন, তা নিয়েও সন্দেহ-সংশয় থেকে যায়। যে মাটিতে নাড়ি পোঁতা থাকে, সে মাটিতে নিজের শিকড় স্বাভাবিক নিয়মেই বেশ শক্ত থাকে। প্রবাসে অনেক শ্রম-ঘাম খরচ করেও অতটা শক্ত করা কঠিন।

প্রবাস-জীবনে কিছু অভিশাপ থাকে। সেই অভিশাপ মোচন করা খুব কঠিন। প্রবাসীরা সেই অভিশাপ নিয়েও কোনো দুর্যোগ, সমস্যা-সংকটে দেশের প্রতি কখনো মুখ ফিরিয়ে থাকেন না। এই বঞ্চনা নিয়েও প্রবাসীরা তাদের অন্তরে পরম মমতায় লালন করে চলেন স্বদেশকে। বুকের ভেতর পতপত করে ওড়ে লাল-সবুজ পতাকা। মুখে উচ্চারিত হয় ‘আমার সোনার বাংলা’ স্তবক। ঘুমে হোক বা জেগেÑএক মুহূর্তের জন্যও দেশ-বিস্মৃত হন না, যারা দেশ ছেড়ে প্রবাসী হয়েছেন। দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব বা করণীয় কী, এর জন্য কাউকে আহ্বান জানাতে হয় না। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই স্বদেশের প্রতি তাদের কী করণীয়, তা করেন। দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন খরা, অতিবৃষ্টি, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, সকল সংকটে প্রবাসীরা তাদের যার যার সাধ্যমতো সমষ্টিগতভাবে কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ে এগিয়ে যান দেশবাসীর সংকট মোচনে।

কথাগুলো বলতে হলো গত ১৩ জুলাই নিউইয়র্কের একটি রেস্টুরেন্টে প্রবাসী নোয়াখালীবাসীর এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সরকারের সফররত পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি প্রধান অতিথির ভাষণ দানকালে দেশের অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান রাখার আহ্বানের কথা শুনে। তিনি প্রধান অতিথির ভাষণে বলেছেন, ‘দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। যেমন ‘দেশের স্বার্থে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসী বাংলাদেশি সবাইকে কাজ করতে হবে। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ এবং অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের মাধ্যমে নয়; জ্ঞান, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।’ তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাসও দিয়েছেন।

মন্ত্রী মহোদয় যেসব সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন, তা যে কারও হৃদয় স্পর্শ করবে। কিন্তু তিনি যে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেনÑবাস্তবে সেটা কি আদৌ সম্ভব? দল-মতের ঊর্ধ্বে ওঠার পরিস্থিতি কি দেশে বা প্রবাসে আছে? দলে দলে, মানুষে মানুষে যে রকম বিভেদ-বিভাজন, সে তো বংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা। আর এ কাজটি করে রেখেছেন তো রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক নেতারা। সেই বিভাজনের বিষ তো প্রবাসীদের মনেও সংক্রমিত করে দিয়েছেন সেই রাজনৈতিক দল ও নেতারাই।

এত সব সত্ত্বেও প্রবাসীরা সব সময় দেশের প্রয়োজনে সংকটে, বিপর্যয়ে মান বা অভিমান অথবা ক্ষোভ ও রাগ থাকলেও কখনো দূরে সরে থাকতে পারেন না। ছুটে যান যার যার সাধ্যমতো, দেশের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু প্রবাসীরা যখন নির্দিষ্ট কোনো সরকারি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, তখন তো সবাইকেই মুখ ফিরিয়ে থাকতে দেখা যায়। বিপরীতে সকল অপ্রাপ্তি, বঞ্চনা ভুলে দেশের প্রয়োজনে তারা দেশ ছেড়ে থাকতে পারেন না। প্রবাসীদের এই দুঃখ কোনো দিন ঘুচবে কি না, কে জানে। তবু মন্ত্রীকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ, তিনি প্রবাসীদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা বলেছেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলেও সমস্যা সমাধানে যদি কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়, তবে প্রবাসীরা স্বস্তি পাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz