শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​ঢাকায় বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ যাছাইয়ে যাচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত

​ঢাকায় বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ যাছাইয়ে যাচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের বদলানো ভূ-রাজনৈতিক কৌশল ও নতুন সরকারের বৈদেশি নীতি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কারভাবে বোঝার লক্ষ্যে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। 

বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ মাস পর বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এটিই হতে যাচ্ছে বিশেষ দূতের প্রথম বাংলাদেশ সফর।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বাইরে বিশেষ কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যে বিশেষ দূতদের পাঠানো হয়, যা নির্দেশ করে যে সার্জিও গোরের সফরের মূল লক্ষ্য ঢাকার নতুন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান অনুধাবন করা। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ২৮ জুলাই ঢাকা ফিরবেন এবং তার সেই সফরসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ দূতের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। 

জজ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ও সেনেটে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সরাসরি হোয়াইট হাউসে রিপোর্ট করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ঠিক এক মাস পর মার্কিন দূতের এই আগমন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ সেখানে মোংলা পোর্টের আধুনিকায়ন, তিস্তা নদী প্রকল্প, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন নিয়ে বিশেষ চুক্তি হয়েছিল। 

একই সঙ্গে সম্প্রতি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ঢাকা সফর করেছেন, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন এবং রিয়াদ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও উচ্চপর্যায়ের সফরের নিমন্ত্রণ এসেছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি রাশিয়া সফর করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন সাধারণ রুটিন বাণিজ্য নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হলেও বিশেষ এই সফরের কেন্দ্রে থাকবে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের গভীরতা। এর বাইরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে ভারতের সঙ্গে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান, পাকিস্তান সম্পর্কিত মনোভাব, রোহিঙ্গা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। 

ভূ-রাজনৈতিক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ যেভাবে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে, তা পর্যালোচনার জন্য দুপক্ষের জন্যই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz