Thikana News
১৪ জুলাই ২০২৪
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

১২ বছর পর ফাইনালে ভারত

১২ বছর পর ফাইনালে ভারত ছবি সংগৃহীত
২০১৯ বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টারে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে সেমিফাইনালেই থেমে গিয়েছিল ভারতের পথচলা। চার বছর পর মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে আরেক বিশ্বকাপের সেমিতে মুখোমুখি হয় এই দুই দল। যে ওয়াংখেড়েতে ১২ বছর আগে ভারত জিতেছিল, সেখানেই আজ কিউইদের বিপক্ষে গত বিশ্বকাপের বদলা নিল ভারতীয়রা। নিউজিল্যান্ডকে ৭০ রানে হারিয়ে সেমির ফাড়া কাটিয়ে ১২ বছর পর ফাইনালে উঠেছে রোহিত শর্মার ভারত।

৩৯৮ রানের লক্ষ্যে নেমে নিউজিল্যান্ড প্রথম ৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে করেছিল ৩০ রান। মোহাম্মদ শামি এসে কিউইদের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দেন। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে শামিকে কাট করতে যান ডেভন কনওয়ে। এজ হওয়া বল বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুল। কনওয়ে বিদায় নেওয়ার অল্প সময় পরই বিদায় নেন আরেক কিউই ওপেনার রাচিন রবীন্দ্র। অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে রবীন্দ্রকেও কট বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলেন শামি। কনওয়ে, রাচিন দুই ওপেনারই সমান ১৩ রান করেছেন। তাতে নিউজিল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ৭.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৩৯।

৮ ওভারের মধ্যে ২ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের হাল ধরেন কেন উইলিয়ামসন ও ড্যারিল মিচেল। ইনিংসের নবম ওভারে বোলিংয়ে আসা জাসপ্রীত বুমরার ওভারটা পুরো মেডেন দিয়েছেন উইলিয়ামসন। প্রথম ১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৪৬ রান। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলে খেলতে থাকেন উইলিয়ামসন ও মিচেল। রিকোয়ার্ড রান রেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলতে থাকেন এই দুই ব্যাটার। এরই মধ্যে উইকেট পাওয়ার সুযোগ পেয়েও তা পায়নি ভারত।

২৯তম ওভারের পঞ্চম বলে বুমরাকে পুল করেন উইলিয়ামসন। মিড অনে দাঁড়িয়ে থাকা শামির হাত গলে বেরিয়ে যায় সহজ ক্যাচ। ভারতীয় এই পেসার ক্যাচ ধরলে তখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর হতো ২৮.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১৮৬। উইলিয়ামসনের স্কোর তখন ছিল ৫২। উইলিয়ামসনের ক্যাচ মিসের পর নিউজিল্যান্ডের রানের চাকা বাড়তে থাকে দ্রুত গতিতে। ড্যারিল মিচেল ও উইলিয়ামসন একের পর এক বাউন্ডারি মারতে থাকেন। ৩৩তম ওভারের প্রথম বলে শামিকে মিড উইকেটে ঠেলে  সিঙ্গেল নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিচেল। মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৯৮ রান করে ফেলতে পারে এই সেমিফাইনালেই।

এখান থেকেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে থাকেন শামি। একই ওভারের দ্বিতীয় বলেই ‘জীবন পাওয়া’ উইলিয়ামসনের উইকেটই তুলে নেন শামি। কিউই ব্যাটার ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে সূর্যকুমারের তালুবন্দী হন। ৭৩ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৬৯ রান করেন উইলিয়ামসন। এই উইকেটেই শামির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেট। তাতে ভেঙে যায় তৃতীয় উইকেটে উইলিয়ামসন-মিচেলের ১৪৯ বলে ১৮১ রানের জুটি।

উইলিয়ামসনকে যে ওভারে ফিরিয়েছেন, সেই ওভারেই শামি তুলে নিয়েছেন আরও এক উইকেট। ৩৩তম ওভারের চতুর্থ বলে টম লাথামকে অসাধারণ এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন শামি। ভারতীয় এই পেসারের জোড়া আঘাতে ৩৩.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ২২০ রান। তাতে শামির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের উইকেট সংখ্যা হয়ে যায় ৫১।

এর পরই রানের চাকা তুলনামূলক ধীর গতির হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের। উইকেটে আসা গ্লেন ফিলিপস রানের জন্য সংগ্রাম করতে থাকেন। ৪১তম ওভারে গিয়ে বিস্ফোরক হয়েছেন ফিলিপস। মোহাম্মদ সিরাজের করা সেই ওভার থেকে ২০ রান নিলে কিউইদের স্কোর হয়ে যায় ৪১ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ২৮৬। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রিকোয়ার্ড রেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে উইকেট হারিয়েছেন ফিলিপস। ৪৩তম ওভারের পঞ্চম বলে ফিলিপসের উইকেট তুলে নিয়েছেন বুমরা। তাতে কিউইদের স্কোর হয়ে যায় ৪২.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯৫। ৫ম উইকেটে ফিলিপস-মিচেল ৬১ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়েন।

ফিলিপসের উইকেট পড়ার পরই নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ভাঙন ধরা শুরু হয়। মার্ক চাপম্যান, মিচেল দ্রুত ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন। যেখানে ৪৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিচেলের উইকেট তুলে নিয়ে শামি বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে ১ ইনিংসে চারবার ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন। পায়ের ব্যথা সামলে  ১১৯ বলে ৯ চার ও ৭ ছক্কায় ১৩৪ রান করেন মিচেল। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা কিউইরা ৪৮.৫ ওভারে ৩২৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। লকি ফার্গুসনের উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন শামি। ৯.৫ ওভারে ৫৭ রান খরচ করে নিয়েছেন ৭ উইকেট। বিশ্বকাপে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এটাই সেরা বোলিং। ম্যাচসেরাও হয়েছেন শামি।

ঠিকানা/এনআই

কমেন্ট বক্স