Thikana News
২৯ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে ইউএস রাষ্ট্রদূতের দূতিয়ালি

শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে ইউএস রাষ্ট্রদূতের দূতিয়ালি
সরকার ও বিএনপির মধ্যে ন্যূনতম সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় বিদেশিরা নতুন করে উদ্যোগী হয়েছে। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিবেশী একটি দেশ এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে, পর্দার আড়ালে ভূমিকা রাখছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তিনজন বিদেশি চিকিৎসক আনার অনুমতি দিয়েছে। সুপারিশ করলে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি উচ্চতর পর্যায় সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে বলে জানা গেছে। তবে এ ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত থাকবে।
বেগম খালেদা জিয়া কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে সংকটজনক অবস্থায় আছেন জানিয়ে দলীয়ভাবে গঠিত মেডিকেল বোর্ড অতিদ্রুত তাকে বিদেশে অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করে। মানবিক কারণে সরকার এ ব্যাপারে নমনীয় হলেও আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান আইনে বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। শর্তযুক্ত মুক্তি দিতে হলেও দণ্ডিত অপরাধীকে মুক্তির জন্য জেলখানায় ফিরে যেতে হবে। জেলখানা থেকে নতুন করে আবেদন করতে হবে এবং সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে। আইনগত এ বিধান অনুসরণ না করে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি বা মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার সরকারপ্রধানেরও নেই। একমাত্র বিকল্প হচ্ছে দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আবেদন করা। বিএনপির মহাসচিবকে আইনগত বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার চাইলেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে পারে, সে ক্ষেত্রে আইন কোনো বাধা নয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে বিএনপির অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং এ উদ্দেশ্যে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তোলেন। আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন। খালেদা জিয়াকে জেলখানায় ফেরত না পাঠিয়ে গুলশানে তার আবাসস্থল ফিরোজাকে অথবা হাসপাতালের কেবিনকে জেলখানা ঘোষণা করা হতে পারে। এভারকেয়ার অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালে স্থানান্তর করে সেখানে জেলখানা ঘোষণা করার প্রস্তাব রয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি বিদেশের নির্ধারিত হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে লন্ডন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ অথবা ব্যাংককের একটি উন্নত হাসপাতালে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রেও কয়েকটি শর্তে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বিদেশে তিনি সম্পূর্ণভাবে সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকবেন। শর্ত লঙ্ঘন করলে সাময়িক মুক্তির আদেশ বাতিল করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ব্যাপারে সৌদি আরব, থাইল্যান্ডে প্রাথমিক কথাবার্তা সরকারিভাবে বলা হচ্ছে বলে জানা যায়। বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্তে সরকার এ ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে বলে উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে আভাস দেওয়া হচ্ছে।


 

কমেন্ট বক্স