সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘নির্মূল অভিযান’ চালাচ্ছে ইসরায়েল • ‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’ • শীতে হতে পারে পানিশূন্যতা, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকার প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ • রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার না হলে তারেক রহমানও একই পথে হাঁটবেন : নাহিদ ইসলাম • ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা • ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’ লিখে পোস্ট করে বহিষ্কার যুবদল নেতা • কেরাণীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে একজনের মৃত্যু • দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু • আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে : রাষ্ট্রপতি

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’

‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’

ছবি : সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে যারা বাধা দিয়েছিল, তাদেরকে সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক সোহেল রানা। ২৬ অক্টোবর (সোমবার) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সেখানে সোহেল রানা লিখেন, একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে কবর দেয়ায় বাধা সৃষ্টি করল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। হারিকেন জ্বালিয়ে তার আলোতে আলোকিত করে তার কন্যা সন্তান নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করল। আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে।

এরপর এই অভিনেতা লিখেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নাকি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। কোন আলামত তো দেখা গেল না, যারা বাধা দিয়েছিল তাদেরকে সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল। সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।

সোহেল রানা লিখেন, মুক্তিযোদ্ধারা তো জীবনের শেষ প্রান্তে। কিন্তু আমরা বোধহয় মুক্তিযুদ্ধের অগ্নি স্ফুলিঙ্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যেতে ব্যর্থ হয়েছি। নইলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কোনটাই তো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। না ফেরার দেশে চলে যাবার আগে এমনি ধরনের সংবাদ আমার মত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষরণ করে।

সবশেষে তিনি লিখেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় শক্তি সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।

উল্লেখ্য, পিরোজপুরে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করা মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করতে গিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের তীব্র বাধার মুখে পড়েছিল তার পরিবার। পরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গভীর রাতে দাফন করা হয় এই মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ। কিন্তু, তার দাফনকার্যে হাত দিতে এগিয়ে যাননি এলাকার কোনও পুরুষ; কবর খোঁড়েন তার স্ত্রী, মেয়ে ও বোন।

২৪ অক্টোবর (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে এভাবেই নিজ বাড়িতে নিভৃতে চিরশায়িত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী।

জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের মরদেহ নিয়ে গেলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে তার স্বজনেরা। এ অবস্থায় পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিরাপত্তা দিয়ে মরদেহটি ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার মরদেহটি নিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে। রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ হয়। মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে তাকে দাফন করেন।

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।’

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত ২ মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিক মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

ঠিকানা/এএস 

 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz