২৪২ রান করতে নেমে ১৫৪ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের প্রহর গুনছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্বাগতিকরা। আট নম্বরে নেমে শাদাব খানের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং শেষ উইকেটে হারিস রউফের সঙ্গে গড়ে ওঠা ৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন বিশ্বরেকর্ড জুটিতে ১ উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পৌঁছে গেছে পাকিস্তান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচে বেন ডাকেটের সেঞ্চুরিতে ২৪১ রানের পুঁজি পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে ১৭ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্য টপকে যায় পাকিস্তান।
২৪২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের তোপে বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। বাবর আজম, ফখর জামান ও সালমান আলি আঘার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
১০৩ রানে ৬ উইকেট পতনের পর উইকেটে আসেন শাদাব খান। একদিকে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে পরাজয় যখন নিশ্চিত প্রায়, তখন একা হাতে দলের দায়িত্ব নেন এই অলরাউন্ডার। আরাফাত মিনহাস, শাহীন আফ্রিদি ও রেজাউল্লাহর বিদায়ে ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ক্রিজে আসেন পেসার হারিস রউফ। এক প্রান্তে শাদাব পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন, আর অন্য প্রান্তে হারিস দাঁতে দাঁত চেপে উইকেট আগলে রেখে দারুণ সঙ্গ দেন তাকে।
আট নম্বরে নেমে সেঞ্চুরির কীর্তি ও রিভিউ নাটক
ওয়ানডে ক্রিকেটে আট নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি করার কীর্তি এর আগে ছিল মাত্র দুজনের—আয়ারল্যান্ডের সিমি সিং এবং বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজের। লাহোরে আজ সেই অভিজাত ক্লাবে নাম লেখালেন শাদাব খান। ৯৬ বলে ১৩ চার ও ৫ ছক্কায় ১১৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি।
ম্যাচের একপর্যায়ে চরম নাটক দেখা যায়। দলের জয় থেকে মাত্র ২০ রান দূরে থাকাকালীন ৪৫তম ওভারে গাস অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউর আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। শাদাব নিজেও আউট ভেবে হতাশায় মাঠ ছাড়ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন। আল্ট্রাএজে দেখা যায়, বল পায়ে লাগার আগে ব্যাটে স্পর্শ করেছিল! অতি নাটকীয়ভাবে বেঁচে গিয়ে পরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। শেষ ওভারে হারিস রউফের বাউন্ডারিতে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের। হারিস ৭ রানে অপরাজিত থেকে মহাগুরুত্বপূর্ণ ১৯ বল মোকাবিলা করেন।