ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পের কথার জবাবে যা বললেন মাক্রোঁ
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৫
•
অনলাইন সংস্করণ
ফ্রান্সের শহরগুলোয় চলা অস্থিরতা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য বিদেশি নেতারা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ‘নির্বোধ মন্তব্য’ করছেন বলে অভিযোগ প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর।
আসছে সপ্তাহিক ছুটিতে ফ্রান্সে আরও বিক্ষোভের প্রস্তুতির মুখে মাক্রোঁ এ অভিযোগ করলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, কাতারে এক সফরকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমন অভিযোগ করলেও কারও নাম নেননি।
দোহায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শনিবারের দাঙ্গার পর ‘তথ্যের কারসাজি’র ফলে ‘বিদেশি নেতাসহ অনেক মানুষের কাছ থেকে এমন মন্তব্য এসেছে, যা যেমন বোকামিপূর্ণ, তেমনই অগ্রহণযোগ্য’।
তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা বলছেন কি না, এমন প্রশ্নে মাক্রোঁ বলেন, “অন্যান্যদের মধ্যে (তিনিও আছেন) ।”
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির এক প্রচারণা সভায় ট্রাম্প ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য ‘অভিবাসী, জিহাদপন্থি ও কমিউনিস্টদের’ দায়ী করেন।
মাক্রোঁ বলেন, “কিছু নেতা যারা এই অঞ্চলে বা আটলান্টিকের ওপারে নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে রয়েছেন তারা না বুঝে এমন সব বয়ান ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার করার চেষ্টা করছে।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, “তারা তাদের নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য আমাদের দেশকে ব্যবহার করছে আর এটি আমাদের প্রয়োজন নেই। আমাদের ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে যেগুলোতে এমন দৃশ্য দেখানো হয়েছে যা ফ্রান্সে আসলে কখনও ঘটেইনি। এমন মানুষও পাওয়া গেছে যারা দাবি করেছেন যে, অভিবাসী ও ইসলামপন্থিদের দল আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে, ফ্রান্স চরমপন্থি ইসলামের অগ্রাসনের’ শিকার হয়েছে। কিন্তু ‘ফ্রান্সের বিক্ষোভের মূল কারণ অভিবাসীরা’, এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
মাক্রোঁ ও তার সরকার এমন এক সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা তার উত্তরসূরি বাছাইয়ের জন্য নির্ধারিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় মাস আগে দেখা দিয়েছে। শনিবার ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক দাঙ্গার ওপর থেকে যে তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে তা ফ্রান্সের সরকার নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মূলত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভগুলো দ্রুত ব্যাপক সহিংসতা, ভাংচুর ও লুটপাটে রূপ নিয়েছিল। বিশেষ করে রাজধানী প্যারিসসহ মার্সেই, লিওঁ ও লিমোজে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা লিমোজের টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দিলে সেটি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়।