বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে সুস্বাগত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে সুস্বাগত

বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে সুস্বাগত। তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এসে পৌঁছেছেন ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। নিউইয়র্কে ৫ দিনের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। এ সময় বিমানবন্দরে বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। স্লোগানে মুখরিত ছিল বিমানবন্দর। বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি এখানেই অবস্থান করবেন। এ ছাড়া বিমানবন্দরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যানারে তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়।

২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বক্তব্য দেন। অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

একই দিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পৃথক সাইডলাইনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করবেন তারেক রহমান। কারণ এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিয়েছেন। জাতিসংঘের ইতিহাসে বাবা-মা ও সন্তানের ভাষণের এমন কোনো নজির নেই। এ জন্য দেশি-প্রবাসী সকল বাংলাদেশি গর্বিত, আনন্দিত। আমরা আশা করছি, বিরল এই দৃষ্টান্ত বিশ্ববাসীর কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে শক্তির ভারসাম্যে অনেক রদবদল ঘটে গেছে। দু-দুটি যুদ্ধ চলমান—যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং রাশিয়া-ইউক্রেন। অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশের মিত্রতা এখন অনেক পরাশক্তিরই কাম্য। তারেক রহমান অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, তিনি তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় জননায়কোচিত উত্তরাধিকার বহন করছেন। তিনিও তাঁর পিতা-মাতার সেই মহান পরম্পরাকে আরও উজ্জ্বল এবং মানুষের গ্রহণযোগ্যতায় আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এটাই সকলের প্রত্যাশা। বিশ্বসভায় তাঁর এই প্রথম উপস্থিতিকে একটি উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় চিহ্নিত করে রাখবেন। বাংলাদেশের মানুষ যা নিয়ে গর্ব অনুভব করতে পারেন।

এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কিছু আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী, আপনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, প্রবাসীদের কাছে এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আপনাকে শুধু বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাই নন, সাধারণ প্রবাসীরাও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন। এ যেমন তাদের কাছে অতীব আনন্দের, তেমনি প্রত্যাশারও। আপনি আমাদের মহান অতিথি। তবু আপনি তো আমাদেরই নেতা, আমাদেরই মানুষ। তাই আপনার কাছেই কিছু প্রত্যাশার কথা নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে আপনার দলের নেতা-কর্মীরা দল এবং দেশের যেকোনো দুর্যোগে, দুঃসময়ে রোদ-ঝড়-বৃষ্টি-তুষারপাতকে তুচ্ছ করে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন। দেশের হয়ে কথা বলেছেন সব প্রবাসী। অনেকে দেশেও ছুটে গেছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কোনো কিছুই তারা কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় করেননি। তবু অভিভাবক হিসেবে আপনার কাছে কিছু কথা তারা খোলামনে বলতেই পারেন।
ঠিকানা এখানে আম প্রবাসীদের মুখপত্র। প্রবাস ও দেশের মধ্যে সব সময় সেতুবন্ধের মতো কাজ করে। তাই সকল প্রবাসীর হয়ে কিছু প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই নিঃসংশয়ে। আপনি প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে কাটানোর পর দেশে ফিরে গেছেন। দেশের মানুষকে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচন করেছেন এবং ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছেন। জাতি একজন তরুণ নেতার অপেক্ষায় ছিল। আপনি জাতির সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। কিন্তু গত নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কেউই কোনো সুযোগ পাননি জনতার নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করার। বিমানের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্ক রুটে চালু হয়েছিল। তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেক দিন। চালু হবে বলে প্রবাসীদের আশার ছলনে ভোলানো হয়েছে, আজও বিমান ফিরে আসেনি। আজও একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক চালু হয়নি। জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য কিছু সংরক্ষিত আসনের দাবিও পূরণ হয়নি। এখনো দ্বৈত নাগরিকত্ব লাভে জটিলতা রয়েই গেছে। আর দেশে প্রবাসীদের সেই চিরায়ত হয়রানি আজও বন্ধ হয়নি। বিমানবন্দর থেকে এ হয়রানির শুরু, ফিরে আসা পর্যন্ত সে হয়রানি ভোগ করতে হয়। আপনি নিশ্চয় এসব বিষয়ে অবগত আছেন এবং দৃঢ় বিশ্বাস, প্রবাসীদের দুঃখ মোচনে আপনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

আপনার সফর সফল হোক সর্বাত্মক পর্যায়ে। আপনার সফল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাক। অভাবী মানুষের অভাব মোচনে আপনার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাক। আপনার নেতৃত্বে দেশ যেন গণতন্ত্রের পথে চলে। মানুষ যেন আর স্বৈরাচার, একনায়কের পদধ্বনি শুনতে না পায়।

যুক্তরাষ্ট্রে আপনার অবস্থান শান্তিময় হোক। আপনি দীর্ঘজীবী হোন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে আপনাকে উষ্ণ অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ঠিকানার পক্ষ থেকেও আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz