Thikana News
৩০ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

এক বছর কি অনেক দিন : ৩৬৫ দিন কি অনেক সময়!

এক বছর কি অনেক দিন : ৩৬৫ দিন কি অনেক সময়!
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন, তিনি ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১৯৭২ সালের সংবিধান মেনে আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সামাল দিতে না পেরে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হেলিকপ্টারে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

এরপর নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উতরাই এবং টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে কেটে গেল এক বছরÑ৩৬৫ দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যের হিসাব-নিকাশ কষে কারও মিলছে ৬০ ভাগ, কারও ৫০, কারও-বা ৪০-৪৫ ভাগ। ৮০, ৯০ বা শতভাগ কারোরই মিলছে না। অনেকের অভিমত, এক বছরে একটি খণ্ডকালীন সরকারের পক্ষে সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। সে কারণে শতভাগ মানুষকে সন্তুষ্ট করে চলাও অসম্ভব। কেউ কেউ নয়, অনেকেই বলছেন, ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার যে জঞ্জাল জমিয়ে গেছে, তা এক বছর বা ৩৬৫ দিনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে সাফ করা অসম্ভব।

কিন্তু সবার কাছে সব যুক্তি গ্রহণযোগ্য হয় না। যখন জুলাই অভ্যুত্থানের দিকে ফিরে তাকানো হয়, তখন ফিরে চাওয়া মানুষেরা এক রকম ফলাফল দেখতে পায় না-সেটা সম্ভবও নয়। সব মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, রুচি, চেতনার স্তর, যুক্তি প্রদান এবং গ্রহণ ক্ষমতা সমমানের হয় না। আরও একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে মানুষে মানুষে। কেউ মনে করতে পারেন, এক বছর খুব বেশি সময় নয়। কারও মনে হতে পারে, এক বছর অর্থাৎ ৩৬৫ দিন অনেক লম্বা সময়। আন্তরিকতা, সদিচ্ছা এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে এই সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রের কল্যাণে অনেক কাজ সম্পন্ন করে উদাহরণ সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু এই এক বছরের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে পেছন ফিরে চাইলে দেখা যাচ্ছে, কেউ সম্পূর্ণ হতাশ, কেউ আংশিক হতাশ, কেউবা বুঝতে না দেওয়ার মতো করে খুশি।

কিন্তু দল নয়, গোষ্ঠী নয়, জনগণ খুশি না হলে ষোলো আনাই মাটি। অথচ এত এত শিক্ষা হওয়ার পরও জনগণের খুশি হওয়ার দিকে কারও মন নেই। অনেক কিছুই হচ্ছে, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ হচ্ছে, হয়তো ‘সনদ’ও পাঠ করা হবে। তাতে কাজের কাজ কি কিছু হবে? হয়েছে কি অতীতে? মানুষ না করলে সবকিছু বালির বাঁধের মতো ভেসে যাবে। জনরোষ বড় ভয়ংকর। একবার সে রোষ জেগে উঠলে সব ভেসে যাবে। কিছু ধরে রাখা যাবে না। সে এক বছর খুব বেশি দিন হোক বা কম দিন হোক। দিন, রাত, বছর, ঘণ্টা, মিনিট। কাল হিসাব কাজে লাগবে না। এটা যিনি যত বেশি মনে রাখবেন, তিনি তত কাজ করতে পারবেন, কোনো ধস নামবে না। জনতা খোশ তো, সব খোশ।

কমেন্ট বক্স