হাসনাতদের ঘাড়ে চড়ে বা তাদের ঘাড়ে নিয়ে কে কি কম করছে? এসব করতে করতে হাসনাতরা এখন ট্রল আইটেম। সকালে একটা বলে, দুপুরে আরেকটা বলতে হয়। করতেও হয়। কোনটা কার বুদ্ধিতে করে কখনো কখনো জানেনও না নাহিদ, হাসনাত, সারজিস এসোসিয়েটরা। নোয়াখালীর হাতিয়ায় তো ছোটদাগে মারই খেলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। এ হামলার ঘটনায় বিএনপিকে দায়ি করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে তাদের দল। সত্যি বিএনপিই মেরেছে? পরে বলা হয়েছে, বিএনপি নামধারীরা। আরো পরে বলা হয়েছে, ওরা বিএনপির বহিস্কৃত। আসলে কী? কারা মেরেছে?
অবস্থা এমন জায়গায় গেছে আসল-নকল বের করা কঠিন। এর আগে, ছক্কা হাকাতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর ওভার বাউন্ডারি নয়, ওভার স্টেডিয়াম হওয়ার অবস্থা। গোটা সেনাবাহিনীকে নিয়ে বোমা ফাটিয়ে বসলেন। অবশ্য বোমাটা ফেটেও ফাটেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে একদিনের ব্যবধানে কথা সংশোধন করে হাসনাত বলেছেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের কোনো অবস্থান নেই। বরং পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। কথার বোমা ফাটানোর পর এ কারেকশন কেন? কার বুদ্ধিতে? এর আগে, সেনাবাহিনী আওয়ামী লীগকে রিফ্রেশ বা রিফাইন্ড করতে ছাত্রদের চাপ দিচ্ছে- সেই পোস্টই বা দিয়েছিলেন কার বুদ্ধিতে?
হাসনাতের সাথে সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠকে গিয়েছিলেন সারজিসও। ঘটনা গরম হয়ে যাওয়ার পর ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, হাসনাত ওইভাবে বলে ঠিক করেননি। এ ছাড়া, সেনাপ্রধান জেনালের ওয়াকার ওই টোনে কথা বলেননি। দুয়েকদিন বাদেই সারজিসের আরেক কথা। সেনা প্রধানের সাথে বৈঠক নিয়ে তাদের দলের মধ্যে মতানৈক্য নেই জানিয়ে পরের বাক্যে বলেন, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ বা অন্য নামে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার গল্প সেনাবাহিনীসহ অন্য কেউ যাতে না শোনায়। গুজবকে ব্যাধি উল্লেখ করে, গুজববিরোধী সেল তৈরির জন্য সরকারকে অনুরোধ করেন সারজিস আলম। তারা আসলে কী বলতে গিয়ে কী খেয়ে ফেলছেন?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্ভর সমালোচনাকে তারা কাউন্টার দিচ্ছেন যে যার মতো। সেনাবাহিনী, জাতীয় নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি- এই তিন ইস্যুতে বাকযুদ্ধে মেতেছেন। নিজেদের ভেতরের বিরোধ এড়াতে রাতবিরাতে বৈঠকে বসছেন। পরে বলছেন, আরেকটা! নইলে আগের কথায়ই ফিরে যাচ্ছেন। দুই মুখ্য সংগঠক যখন সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে, তাদের উদ্দেশ্যে নতুন করে আলোচনার যোগান দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ। হাসনাত-সারজিস দুজনের কেউ একজন মিথ্যা বলছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফেসবুক নির্ভর এনসিপি নেতাদের রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জানান, সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠকের বিষয় সবার জানা ছিলো না। কথা কি এখানেই শেষ?
না, আরো কথা আছে। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এ কথাও বলেছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী ক্যান্টনমেন্টে আওয়ামী লীগের যারা আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের বিষয়ে পরিস্কার বক্তব্য না আসা পর্যন্ত কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না। প্রশ্ন উঠেছে তাদেরকেই (নাহিদ, নাসির, হাসনাত, সারজিস, মাসুদ) বিশ্বাস করা যায়? তারা এখন কার? কার ফাঁদে পড়ছেন? হচ্ছেন কার পাতের খাদ্য?
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে কেবল একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর একটি হোটেলে বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে এ আহ্বানটি জানান তিনি। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাক্সক্ষা পূরণ করতে গণপরিষদ নির্বাচন ও সেকেন্ড রিপাবলিক লাগবে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। তার সদস্য সচিব আখতার হোসেনের আহ্বান, দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রে কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি যেনো অংশ নিতে না পারে। পরিস্থিতি কোন অবস্থায় গেলে বলতে হয় এতো কথা, ভাবা যায়?
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন, ঢাকা।