♦ দিনে ঘরে জায়গা নেই ♦ রাতে ঘুমাতে দেয় স্টোর রুমে ♦ কাজের লোকের মত খাটায়
হোমকেয়ারের আয় কমেছে, তাই কি বাবা-মায়ের কদর কমছে?
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৪:২০
•
অনলাইন সংস্করণ
নিউইয়র্কে একটি বাংলাদেশি পরিবারের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্ট। একই ছাদের নিচে তিন প্রজন্মের বসবাস-বৃদ্ধ বাবা-মা, কর্মজীবী ছেলে-মেয়ে এবং স্কুলপড়ুয়া নাতি-নাতনি। বাইরে থেকে দেখলে এটি প্রবাসজীবনের পরিচিত এক পারিবারিক ছবি। কিন্তু এই ছবির আড়ালে কখনো কখনো জমে থাকে একাকীত্ব, ক্ষোভ, আর্থিক হিসাব এবং না-বলা কষ্ট।
একসময় পরিবারের সবচেয়ে সম্মানিত সদস্য ছিলেন বাবা-মা। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁরা দেশ ছেড়েছেন, সঞ্চয় ব্যয় করেছেন, নাতি-নাতনিদের বড় করেছেন এবং প্রবাসে নতুন সংসার দাঁড় করাতে পাশে থেকেছেন। কিন্তু নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি অংশে এখন অস্বস্তিকর একটি প্রশ্ন উঠছে- প্রবীণ বাবা-মাকে কেন্দ্র করে হোম কেয়ার বা কেয়ারগিভিংয়ের আয় কমে গেলে কি তাঁদের প্রতি পরিবারের আগ্রহ, যত্ন ও সম্মানও কমে যাচ্ছে?
কমিউনিটির বিভিন্ন সদস্য, প্রবীণদের নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি এবং সামাজিক সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে এমন কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো প্রবীণ যখন হোম কেয়ারের বেশি ঘণ্টা পেতেন এবং পরিবারের একজন সদস্য তাঁর কেয়ারগিভার হিসেবে নিয়মিত আয় করতেন, তখন তাঁর প্রতি যত্ন ও গুরুত্ব ছিল বেশি। পরবর্তীতে কেয়ার আওয়ার কমে গেলে, সুবিধা বন্ধ হলে কিংবা আয় হ্রাস পেলে পরিবারের আচরণেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
তবে- এটি নিউইয়র্কের পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির চিত্র নয়। অসংখ্য পরিবার সীমিত আয়, কর্মব্যস্ততা ও আবাসন সংকটের মধ্যেও ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের যত্ন নিচ্ছেন। কিন্তু বিচ্ছিন্ন হলেও অবহেলার অভিযোগগুলোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ থেকে অনেক বাবা-মা নিউইয়র্কে আসেন সন্তানদের সঙ্গে থাকার আশায়। কেউ স্থায়ীভাবে আসেন, কেউ গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর জীবনের শেষ সময়টি সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কাছে কাটাতে চান। তাঁদের অনেকের ধারণা থাকে, প্রবাসে চিকিৎসা ভালো হবে, আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং পরিবারের মধ্যে সম্মানজনক জীবন কাটাতে পারবেন।
আকাশছোঁয়া বাসাভাড়া, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয়, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, একাধিক চাকরি এবং ছোট অ্যাপার্টমেন্টে বহু মানুষের বসবাস—সব মিলিয়ে অভিবাসী পরিবারগুলো প্রায়ই তীব্র চাপের মধ্যে থাকে।
জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস কিংবা ওজন পার্কের অনেক বাংলাদেশি পরিবারে দুই বা তিন বেডরুমের বাসায় একাধিক প্রজন্ম বসবাস করে। সেখানে ব্যক্তিগত পরিসর কম, দায়িত্ব বেশি এবং সম্পর্কের ওপর চাপও প্রবল। কিন্তু সেই চাপের সবচেয়ে নীরব শিকার হয়ে উঠছেন কি প্রবীণ বাবা-মায়েরা?
কমিউনিটিতে পাওয়া কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, আগে যেসব প্রবীণের জন্য আলাদা কক্ষ বা তুলনামূলক আরামদায়ক জায়গা রাখা হয়েছিল, পরে তাঁদের ছোট কক্ষ, বসার ঘরের কোণ কিংবা স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহৃত স্থানে থাকতে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও নাতি-নাতনির জন্য কক্ষ প্রয়োজন, কোথাও বাসা ভাগ করে ভাড়া দেওয়ার চাপ, আবার কোথাও পরিবারের আয় কমে যাওয়ার কারণে বাসস্থানের বিন্যাস বদলে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা কঠিন হতে পারে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও স্থান সংকটের অজুহাতে প্রবীণদের মর্যাদা ও আরামকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কোনো কোনো বাবা-মাকে বলা হচ্ছে, “আপনি তো সারাদিন বাসায় থাকেন”, “এইটুকু জায়গাতেই তো থাকা যায়” কিংবা “নিউইয়র্কে এত জায়গা কোথায়?” শুধু থাকার জায়গা নয়, তাঁদের ব্যবহৃত ভাষা, পারিবারিক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং দৈনন্দিন সম্মানেও পরিবর্তন আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারে দাদা-দাদি বা নানা-নানিরা প্রায়ই নাতি-নাতনিদের দেখাশোনায় বড় ভূমিকা রাখেন। কর্মজীবী মা-বাবা যখন কাজে যান, তখন প্রবীণরা শিশুদের স্কুলে নেওয়া-আনা, খাবার তৈরি, বাসায় রাখা কিংবা অসুস্থ হলে দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। অনেক প্রবীণ ভালোবেসেই এসব করেন। নাতি-নাতনির সঙ্গে সময় কাটানো তাঁদের প্রবাসজীবনের আনন্দও হতে পারে। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, কোনো কোনো পরিবারে এই সহযোগিতা ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক দায়িত্বে পরিণত হচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতা, হাঁটাচলার সমস্যা বা ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ওপর শিশু দেখাশোনা, রান্না, কাপড় ভাঁজ, বাসা পরিষ্কার এবং অন্যান্য গৃহস্থালি কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একজন বৃদ্ধ মা বা বাবার সাহায্য গ্রহণ এবং তাঁকে বিনা পারিশ্রমিকে সার্বক্ষণিক গৃহকর্মী হিসেবে ব্যবহার করা এক বিষয় নয়।
নিউইয়র্কে ডে-কেয়ারের ব্যয় বেশি, বেবিসিটার রাখা কঠিন এবং কর্মজীবী পরিবারের সময় সীমিত—এটি সত্য। কিন্তু সেই ব্যয়ের বোঝা একজন অসুস্থ বা দুর্বল প্রবীণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মানবিক হতে পারে না।
নিউইয়র্কে হোম কেয়ার ব্যবস্থা অনেক বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্যতা অনুযায়ী একজন প্রবীণ নির্দিষ্টসংখ্যক সেবাঘণ্টা পেতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একজন সদস্যও কেয়ারগিভার হিসেবে তাঁর সেবা দিয়ে আয় করার সুযোগ পান।
এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো প্রবীণ ব্যক্তিকে নিরাপদে ঘরে রাখা, ব্যক্তিগত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, খাবার, চলাফেরা এবং দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করা। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়, যখন প্রবীণ ব্যক্তিকে পরিবারের সদস্যের পরিবর্তে একটি “হোম কেয়ার কেস” হিসেবে দেখা হয়।
কমিউনিটিতে এমন অভিযোগ রয়েছে যে, কোনো প্রবীণের কেয়ার আওয়ার বেশি থাকলে তাঁকে ঘিরে পরিবারের আগ্রহও বেশি থাকে। কে তাঁর কেয়ারগিভার হবেন, কে কত ঘণ্টা কাজ করবেন কিংবা মাসে কত আয় হবে-এ নিয়ে পরিবারে প্রতিযোগিতা বা বিরোধও তৈরি হয়। কিন্তু চিকিৎসাগত পুনর্মূল্যায়ন, ইন্স্যুরেন্স পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো কারণে কেয়ার আওয়ার কমে গেলে সেই প্রবীণের প্রতি আগ্রহও কমে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ তখন প্রশ্ন করেন- “তাঁকে রেখে লাভ কী?” “এত ঝামেলা কে সামলাবে?” অথবা “ঘণ্টা যদি না থাকে, এত সময় দেব কীভাবে?” এই ধরনের চিন্তাভাবনা শুধু অমানবিক নয়; এটি হোম কেয়ার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যেরও পরিপন্থী।
প্রবীণের জন্য বরাদ্দ সেবা তাঁর প্রয়োজন ও অধিকারের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। এটি পরিবারের কারও স্থায়ী আয় নিশ্চিত করার কর্মসূচি নয়।
নিউইয়র্কের প্রবাসজীবনে একাকীত্ব প্রবীণদের বড় সমস্যা। বাংলাদেশে তাঁদের আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিত বাজার, মসজিদ, সামাজিক পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। নিউইয়র্কে এসে তাঁদের অনেকেই ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, চলাচলের সমস্যা এবং পরিবহনব্যবস্থার জটিলতার কারণে প্রায় গৃহবন্দী হয়ে পড়েন। সন্তানরা সকালে কাজে যান, রাতে ফেরেন। নাতি-নাতনিরা স্কুল, কলেজ বা নিজেদের জীবনে ব্যস্ত থাকে। প্রবীণ বাবা-মা দিনের বেশিরভাগ সময় একা কাটান।
অনেকে ইংরেজি বলতে পারেন না। বাসে বা সাবওয়েতে একা চলতে ভয় পান। চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ওষুধ, সরকারি কাগজপত্র কিংবা ফোনকলের জন্যও সন্তানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরশীলতাই তাঁদের আরও নীরব করে তোলে। অনেক প্রবীণ বলেন না যে তাঁরা অসম্মানিত হচ্ছেন। কারণ তাঁরা ভয় পান, সন্তান বিরক্ত হবে, বাড়ি থেকে চলে যেতে বলবে কিংবা বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। কেউ আবার সামাজিক লজ্জার কারণে মুখ খোলেন না। বাংলাদেশি সমাজে সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা এখনো অনেক বাবা-মায়ের কাছে প্রায় অকল্পনীয়। ফলে একই বাসায় থেকেও তাঁরা গভীর মানসিক একাকীত্বে ভোগেন।
পারিবারিক বিরোধের পর অনেক প্রবীণ আবেগের বশে বলেন, তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের অনেকের আর ফেরার মতো স্থায়ী বাড়ি নেই। কেউ সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন, কারও ভাইবোন মারা গেছেন, কারও চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে থাকার পর বাংলাদেশেও তাঁদের সামাজিক অবস্থান বদলে গেছে। ফলে তাঁরা একধরনের মাঝামাঝি জীবনে আটকে পড়েন—বাংলাদেশে পুরোপুরি ফেরার সুযোগ নেই, আবার নিউইয়র্কের পরিবারের মধ্যেও নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত নয়। এই অসহায়ত্ব কখনো কখনো পরিবারের সদস্যদের হাতে তাঁদের আরও নির্ভরশীল করে তোলে।
প্রবীণ অবহেলা শুধু খাবার, বাসস্থান বা কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্থিক নিয়ন্ত্রণও প্রবীণ নির্যাতনের একটি বড় অংশ। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো পরিবারের সদস্য প্রবীণের সোশ্যাল সিকিউরিটি, এসএসআই, পেনশন, ব্যাংক হিসাব বা অন্যান্য সুবিধার অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। প্রবীণ ব্যক্তি কত টাকা পাচ্ছেন, কোথায় খরচ হচ্ছে কিংবা তাঁর নামে কী কাগজপত্র করা হচ্ছে—তিনি নিজেই তা জানেন না। কেউ কেউ নিজের প্রয়োজনের জন্য সামান্য অর্থ চাইতেও অস্বস্তি বোধ করেন।
হোম কেয়ার থেকে উপার্জিত অর্থ কে পাচ্ছেন, প্রবীণের জন্য কতটা ব্যয় হচ্ছে এবং তাঁর নামে পাওয়া সুবিধা তাঁর কল্যাণে ব্যবহার হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য হওয়া মানেই প্রবীণের অর্থ বা সরকারি সুবিধার ওপর স্বয়ংক্রিয় অধিকার পাওয়া নয়।
নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা সন্তান বা নাতি-নাতনিদের জীবনধারা এবং বাংলাদেশ থেকে আসা প্রবীণদের মূল্যবোধের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় চর্চা, সন্তান পালনের পদ্ধতি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। কোনো কোনো পরিবারে প্রবীণদের মতামতকে “পুরোনো চিন্তা” বলে বাতিল করা হয়। আবার প্রবীণরাও নতুন প্রজন্মের জীবনধারা মেনে নিতে পারেন না। এই প্রজন্মগত দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক। কিন্তু মতের অমিলকে কেন্দ্র করে কাউকে অপমান করা, কথা বলা বন্ধ করা, আলাদা করে রাখা কিংবা চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
নিউইয়র্কে প্রবীণদের প্রতি শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতন এবং অবহেলা গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। কাউকে প্রয়োজনীয় খাবার, চিকিৎসা, ওষুধ, নিরাপদ বাসস্থান বা ব্যক্তিগত পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত করা অবহেলার পর্যায়ে পড়তে পারে। ভয় দেখানো, গালিগালাজ, অপমান, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা কিংবা অর্থ নিয়ন্ত্রণ করাও নির্যাতনের অংশ হতে পারে।
কোনো প্রবীণের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি সেবার সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসক, সমাজকর্মী, আইনজীবী, পুলিশ কিংবা প্রবীণ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করা উচিত নয়। প্রবীণের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সম্মান রক্ষা করেই প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করা জরুরি।
নিউইয়র্কে জীবন কঠিন। একটি পরিবারের মাসিক বাসাভাড়া কয়েক হাজার ডলার হতে পারে। সঙ্গে রয়েছে খাবার, গাড়ি, ইন্স্যুরেন্স, চিকিৎসা, শিশুদের খরচ এবং দেশে আত্মীয়দের সহায়তার চাপ।
অনেক অভিবাসী পরিবারের সদস্য সপ্তাহে ছয় বা সাত দিন কাজ করেন। কেউ ট্যাক্সি চালান, কেউ রেস্টুরেন্টে, কেউ গ্রোসারি বা অফিসে দীর্ঘ সময় কাটান। কেউ একই সঙ্গে দুই চাকরিও করেন। এই বাস্তবতায় প্রবীণদের সার্বক্ষণিক যত্ন নেওয়া সহজ নয়। কিন্তু অর্থনৈতিক চাপ কাউকে অপমান, অবহেলা বা ব্যবহার করার অনুমতি দেয় না।
পরিবারের পক্ষে সেবা দেওয়া কঠিন হলে দায়িত্ব ভাগ করা, কমিউনিটির সহায়তা নেওয়া, সামাজিক সেবা খোঁজা কিংবা পেশাদার কেয়ার ব্যবস্থার দিকে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রবীণের প্রতি সম্মান কমিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়।
প্রবাসে আজকের প্রজন্মের প্রতিষ্ঠার পেছনে অনেক বাবা-মায়ের ত্যাগ রয়েছে। কেউ সন্তানের পড়াশোনার জন্য জমি বিক্রি করেছেন। কেউ নিজের সঞ্চয় তুলে দিয়েছেন। কেউ নাতি-নাতনি দেখাশোনা করতে জীবনের শেষ বয়সে দেশ ছেড়েছেন। তাঁরা হয়তো ইংরেজি জানেন না। হয়তো নিউইয়র্কের দ্রুতগতির জীবনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেন না। হয়তো পরিবারের আয় বাড়াতে এখন আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। কিন্তু বাবা-মায়ের মূল্য কখনোই হোম কেয়ারের ঘণ্টা, সরকারি চেক কিংবা মাসিক আয়ের অঙ্ক দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। হোম কেয়ার আয় কমতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। কেয়ার আওয়ার কমে যেতে পারে। কিন্তু সন্তানের জীবনে একজন মা বা বাবার মর্যাদা কমে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁদের প্রয়োজন শুধু খাবার ও মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়। প্রয়োজন সম্মান, সময়, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং আপনজনের ভালোবাসা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউইয়র্কভিত্তিক একটি হোমকেয়ারের অন্যতম অংশীদার ঠিকানাকে জানান, নিউইয়র্কে প্রায় দেড় লাখ হোম কেয়ার সেবা গ্রহীতা রয়েছেন, যাদের ৮০ শতাংশ সিডিপ্যাপের আওতায় ছিলেন। কিন্তু সিডিপ্যাপ্য বন্ধ হওয়ার পর পিপিএল এবং পিসিএ-এর অধীনে তারা সেবা নিচ্ছেন। কিন্তু সিডিপ্যাপে পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আর্থিক সুবিধা পেতেন। এখন সেটি অনেংকাংশে কমে গেছে। এই আর্থিক সুবিধা যতটুকু আছে তা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। তিনি বলেন, এক কথায় হোম কেয়ারের আয় কমে গেছে। তবে, এ কারণে বয়স্ক বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা চরম অমানবিক।