জিবুতির উপকূলে গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও প্রায় ১১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ১১ অক্টোবর (রবিবার) জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি সংস্থা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে ৩৫০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি যাত্রা করেছিল। পথে জিবুতির ওবক শহরের উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়।
বিবৃতিতে জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেকজান্দ্রে কোয়েসাক বলেন, ‘এটি প্রাণহানির এক মর্মান্তিক ঘটনা। যারা বেঁচে গেছেন এবং যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে কিংবা এখনও স্বজনদের কোনো খবর পায়নি, তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।’
আলেকজান্দ্রে কোয়েসাক জানান, জরুরি সহায়তা দিতে আইওএমের দলগুলো জিবুতির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনা অভিবাসীদের জন্য এই অভিবাসনপথে থাকা বিপদের একটি স্পষ্ট স্মারক। অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে তারা বাব আল-মানদেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে ইয়েমেনে এবং সেখান থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।’
আইওএমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা ১০৯টি মরদেহের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী এবং ১৫ শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে নয়জন মেয়ে ও ছয়জন ছেলে।
নৌকাডুবির ঘটনায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ বেঁচে গেছেন। তারা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক।
আইওএম বলেছে, দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব অনেক মানুষকে এই বিপজ্জনক যাত্রায় নামতে বাধ্য করছে। অথচ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা ক্রমেই বাড়ছে।
সৌদি আরব-সমর্থিত সরকার এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ে ইয়েমেন বিপর্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ইরানের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতেও হুথিরা যুক্ত হয়েছে।
আইওএম জানিয়েছে, ওবকের একটি অভিবাসী কেন্দ্রে ৬৪ জন জীবিত ব্যক্তিকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় জিবুতির কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া হতে জিবুতিতে আসা ২০ হাজারেরও বেশি অভিবাসীর যাত্রাপথ শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইয়েমেনগামী সমুদ্রপথে ৯০০ জনেরও বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে অথবা তারা নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে এই যাত্রায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করা মানুষের সংখ্যা ১৮ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় নয়জন নিহত হন এবং ৪৫ জন নিখোঁজ হন।
এ সপ্তাহে এএফপিকে আইওএমের মুখপাত্র কেনেডি ওমোন্দি ওকোথ বলেন, এই বিপজ্জনক যাত্রায় অংশ নেওয়ার চেষ্টাকারীদের অধিকাংশই ইথিওপিয়া অথবা সোমালিয়ার নাগরিক। তিনি জানান, তাদের অনেকেই জিবুতিতে আটকা পড়ছেন।