শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে

সিনেটে রিপাবলিকানদের সুবিধা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কারা জিতবে

সিনেটে রিপাবলিকানদের সুবিধা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কারা জিতবে

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে আর প্রায় চার মাস বাকি। এরই মধ্যে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে-কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কোন দলের হাতে যাবে? বর্তমান জনমত জরিপ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, অর্থনীতি, নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন বিশ্লেষণ করে ছয়জন বিশিষ্ট জরিপ বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের প্রায় সবাই মনে করছেন, নির্বাচন এখন অনুষ্ঠিত হলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় চারটি আসন লাভ করা তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের মতামত বিভাগ আয়োজিত এই বিশ্লেষণে অংশ নিয়েছেন রাজনৈতিক লেখক পেরি বেকন, ইকুইস রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা কার্লোস ওডিও, ইশেলন ইনসাইটসের জরিপ বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক রাফিনি, নির্বাচনী বিশ্লেষক নেট সিলভার, মিডিয়াম ডেটার শার্লট সোয়াসি এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিন ভ্যাভরেক। তাদের পূর্বাভাস কোনো আনুষ্ঠানিক বা বৈজ্ঞানিক নির্বাচনী মডেলের ফল নয়। বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জরিপ, ঐতিহাসিক প্রবণতা এবং গুরুত্বপূর্ণ আসনের বাস্তবতা বিবেচনায় করা অভিজ্ঞতাভিত্তিক অনুমান।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা উজ্জ্বল : ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। বিশেষজ্ঞদের প্রায় সবাই মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটরা প্রয়োজনীয় আসন লাভ করে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হতে পারে।
বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের সাধারণ কংগ্রেসীয় ভোট বা জেনেরিক ব্যালটে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে। নেট সিলভারের সিলভার বুলেটিনের ১০ জুলাইয়ের গড় অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের এই ব্যবধান প্রতিনিধি পরিষদ জয়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে ২০১০ বা ২০১৮ সালের মতো বড় নির্বাচনী জোয়ার সৃষ্টি করতে তাদের ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে।
পেরি বেকনের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা বিবেচনায় রিপাবলিকানদের প্রতিনিধি পরিষদে বড় পরাজয়ের আশঙ্কা থাকার কথা। অতীতে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন হারিয়েছিল।
প্যাট্রিক রাফিনির মতে, মধ্যবর্তী সময়ে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তন না করা হলে রিপাবলিকানরা ২৫ থেকে ৩০টি আসন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারত। নতুন মানচিত্র তাদের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষার নিশ্চয়তা দেয়নি।

ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রবণতা : মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারায়। ২০০২ সালের পর অনুষ্ঠিত প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারিয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিন ভ্যাভরেক বলেন, বর্তমান সদস্যদের পুনর্নির্বাচনের সুবিধা, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব এবং ভোটার উপস্থিতিÑএসব বিষয় সাধারণত কংগ্রেস নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সূচকগুলোর বেশির ভাগই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের কিছু আসন লাভের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এতটাই মেরুকৃত ও দলীয়ভাবে স্থির হয়ে পড়েছে যে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা আগের তুলনায় কম।
শার্লট সোয়াসির মতে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা খুবই শক্তিশালী। কারণ তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র কয়েকটি আসন দূরে এবং প্রেসিডেন্টের দলের বিরুদ্ধে ভোটারদের স্বাভাবিক মধ্যবর্তী প্রতিক্রিয়া তাদের পক্ষে কাজ করছে।

সিনেটে কঠিন সমীকরণ : প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের লড়াই ডেমোক্র্যাটদের জন্য অনেক বেশি কঠিন। বর্তমানে রিপাবলিকানরা সিনেটে ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ৪৭টি আসন নিয়ন্ত্রণ করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে।
কার্লোস ওডিও মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা একটি রিপাবলিকান-প্রধান রাজ্যে অপ্রত্যাশিত জয় পেতে পারে। কিন্তু সিনেট দখলের জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক বিস্ময়কর ফলের সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না।
প্যাট্রিক রাফিনির মতে, বর্তমানে সিনেট নির্বাচনের ফল অঙ্গরাজ্যের দলীয় পরিচয়ের সঙ্গে অনেক বেশি সম্পর্কিত। কোনো রাজ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক দল ১০ শতাংশ পয়েন্ট বা তার বেশি ব্যবধানে জয়ী হলে সেখানে অন্য দলের নতুন প্রার্থীর সিনেট নির্বাচনে জয় পাওয়া অত্যন্ত বিরল।

মেইনের অনিশ্চয়তা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় বাধা : মেইনের সিনেট নির্বাচন ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে প্রার্থী-সংক্রান্ত জটিলতা দলটির সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী গ্রাহাম প্ল্যাটনার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দলটিকে নতুন প্রার্থী বাছাই করতে হচ্ছে। আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিরাভ শাহ, সাবেক স্টেট সিনেট সভাপতি ট্রয় জ্যাকসন এবং মেইনের সেক্রেটারি অব স্টেট শেনা বেলোসের নাম আলোচনায় রয়েছে।
নেট সিলভারের মতে, নতুন প্রার্থীকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সুসান কলিন্সের বিরুদ্ধে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এই অনিশ্চয়তা ডেমোক্র্যাটদের সিনেট জয়ের সম্ভাব্য সমীকরণ আরও সীমিত করছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে : মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার একটি হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা।
সিলভার বুলেটিনের হিসাবে ট্রাম্পের গড় অনুমোদন প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি, আর অনুমোদন না করার হার ৫৬ শতাংশের বেশি। জুনে এমারসন কলেজের জরিপে তার কাজের প্রতি সমর্থন ছিল ৩৯ শতাংশ এবং বিরোধিতা ৫৫ শতাংশ।
শার্লট সোয়াসির মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি গণরায়ে পরিণত হয়। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান আরও দুর্বল : প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা কম থাকলেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তিনি তুলনামূলক ভালো নম্বর পেতেন। অনেক ভোটার তার ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক আচরণ অপছন্দ করলেও অর্থনীতি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার প্রতি জনসমর্থন সামগ্রিক জনপ্রিয়তার চেয়েও নিচে নেমেছে। আলোচ্য বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ১২ জুলাই অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল প্রায় ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ।
কার্লোস ওডিওর মতে, অর্থনীতি একসময় ট্রাম্পের রাজনৈতিক নিরাপত্তাবলয় হিসেবে কাজ করেছিল। এখন সেটিই তার এবং রিপাবলিকান পার্টির অন্তর্নিহিত দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে।
গ্যাসের দাম হতে পারে নির্বাচনের দৃশ্যমান সূচক : মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দামও মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য প্রায় ৩ ডলার ৯০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
প্যাট্রিক রাফিনির মতে, গ্যাসের দাম এমন একটি অর্থনৈতিক সূচক, যা ভোটাররা প্রতিদিন সড়কের পাশে দেখতে পান। অর্থনীতির অবস্থা ভালো না খারাপ, সে বিষয়ে এটি মানুষের মনে সরাসরি ধারণা তৈরি করে। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের আগে জাতীয় গড় মূল্য ৩ ডলার ৫০ সেন্ট বা তার নিচে না নামলে রিপাবলিকানদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করা কঠিন হতে পারে।
সাধারণ ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ৬ পয়েন্টের বেশি এগিয়ে থাকা : জাতীয় পর্যায়ে ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হলে, তারা কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট না রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করবেনÑএই প্রশ্নের গড় ফলকে জেনেরিক ব্যালট বলা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই সূচকে রিপাবলিকানরা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এসে ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ৬ দশমিক ৩ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে।
পেরি বেকনের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের ফল অনুমান করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার চেয়ে জেনেরিক ব্যালট বেশি কার্যকর। কারণ প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে মানুষ সাধারণত ব্যক্তির তুলনায় দলের ভিত্তিতে বেশি ভোট দেয়।

ওহাইওতে শেরড ব্রাউনের প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা : ওহাইওর বিশেষ সিনেট নির্বাচন ডেমোক্র্যাটদের জন্য সম্ভাবনা ও সংশয়ের মিশ্র প্রতিযোগিতা। ২০২৪ সালে ট্রাম্প সেখানে প্রায় ১১ শতাংশ পয়েন্টে জয়লাভ করেন। একই নির্বাচনে অভিজ্ঞ ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান বার্নি মোরেনোর কাছে ৪ পয়েন্টে পরাজিত হন।
এবার ব্রাউন সিনেটে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর জন হাস্টেড, যিনি জেডি ভ্যান্স ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শূন্য আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
কয়েকটি জরিপে ব্রাউন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে থাকলেও ট্রাম্পের বড় ব্যবধানে জয়ী একটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটের বিজয় এখনো কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
টেক্সাসে হিস্পানিক ভোটের পরীক্ষা : টেক্সাসের ১৫তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে হিস্পানিক ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই জেলার ভোট দেওয়ার যোগ্য জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ হিস্পানিক।
২০২০ সালের আগে জেলার বর্তমান সীমানায় ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও পরবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সুবিধা পেয়েছে। হিস্পানিক ভোটাররা ২০১৮ সালের মতো ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে ফিরে এলে আসনটি দলটির দখলে যেতে পারে।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও জনপ্রিয় তেহানো সংগীতশিল্পী ববি পুলিদো নিজেকে প্রচলিত দলীয় পরিচয়ের বাইরে তুলে ধরছেন। তার প্রচারের মূল বক্তব্য, তিনি লাল বা নীল দলের নন, বরং ভোটারদের দলের।
কার্লোস ওডিওর মতে, ডেমোক্র্যাটদের সাধারণ দলীয় পরিচয় থেকে নিজেকে কিছুটা আলাদা করতে সক্ষম প্রার্থী হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ভালো করতে পারেন। মিশিগানে মধ্যপন্থী বনাম প্রগতিশীল লড়াই : মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনীতির একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
প্রগতিশীল আবদুল এল-সাইয়েদ দলের মনোনয়নের জন্য প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিদায়ী সিনেটর গ্যারি পিটার্সসহ ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা স্টিভেন্সকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে এল-সাইয়েদ বার্নি স্যান্ডার্স ও ক্রিস ভ্যান হোলেনের সমর্থন পেয়েছেন। 

আইওয়ায় নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা : আইওয়ার সিনেট নির্বাচন জাতীয়ভাবে তুলনামূলক কম আলোচিত হলেও সেখানে প্রতিযোগিতা ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে। সাবেক প্যারালিম্পিয়ান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যাশলি হিনসনের বিরুদ্ধে কয়েকটি জরিপে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন।

কানসাসে দুই দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতিফলন : কানসাসের গভর্নর নির্বাচন জাতীয়ভাবে খুব বেশি আলোচিত না হলেও দুই দলের বর্তমান অবস্থার একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে একই কাউন্টির তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গভর্নর লরা কেলির সমর্থন তার পছন্দের প্রার্থী ইথান করসনের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে পারেনি।
রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। ট্রাম্প-সমর্থিত স্টেট সিনেট প্রেসিডেন্ট টাই মাস্টারসনকেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রভাব কতটা নিরঙ্কুশ এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দলীয় নেতৃত্ব ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণ কতটা দুর্বল হয়েছে, কানসাসের নির্বাচন তার একটি পরীক্ষা।

পেনসিলভানিয়া হতে পারে প্রতিনিধি পরিষদের পূর্বাভাস : পেনসিলভানিয়ার জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শাপিরো দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচন করছেন। তার নিজের নির্বাচন খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হলেও রাজ্যের কয়েকটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসীয় আসনে তার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা সপ্তম ও দশম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট দখল করতে পারলে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। অষ্টম ডিস্ট্রিক্টও ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেলে তা হবে শ্রমজীবী ভোটারদের মধ্যে দলটির পুনরুত্থানের ইঙ্গিত।

এখনকার সম্ভাব্য চিত্র : ছয় বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের সারকথা হলো, নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সীমিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। তবে সিনেটে তারা সম্ভবত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এক বা একাধিক আসন পিছিয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz