বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• জীবনযাত্রার ব্যয়  কতটা প্রভাব ফেলল ভোটে • নিউইয়র্ক স্টেটে পার্ক রেঞ্জার পদে নিয়োগ, আবেদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত • স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফ্রিস, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ • ভোটাররা ট্রাম্প, অর্থনীতি নিয়ে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট • যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স • নিউইয়র্ক ম্যারাথনে ফিনিশিং লাইনের দুই মাইল আগে তরুণীর মৃত্যু • ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের চিত্র • মার্কিন কংগ্রেসে সেনেটের নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা • ভাঙচুরের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করেছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা : রাশেদ খান • ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার সন্দেহে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা আটক

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
​নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ঐতিহাসিক উদ্যোগ

প্রথম ‘রেন্টাল রিপঅফ রিপোর্ট’ প্রকাশ করলেন মেয়র মামদানি

খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
প্রথম ‘রেন্টাল রিপঅফ রিপোর্ট’ প্রকাশ করলেন মেয়র মামদানি

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক সিটির ভাড়াটিয়াদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, হয়রানি ও আবাসন সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ যুগান্তকারী উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি। ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার লোয়ার ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক টেনেমেন্ট মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম ‘রেন্টাল রিপঅফ রিপোর্ট (আরআরআর)’ প্রকাশ করেন। হাজারো ভাড়াটিয়ার সাক্ষ্য, অভিযোগ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত এই প্রতিবেদনে আবাসন খাতে ব্যাপক সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রথম ‘রেন্টাল রিপঅফ রিপোর্ট’ প্রকাশ করলেন মেয়র মামদানি। খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রতিটি হিট কমপ্লেইন্টে বাধ্যতামূলক তদন্ত, ভাড়াটিয়া ইউনিয়নের আইনি স্বীকৃতি ও ভাড়া বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়েছেন।

মেয়র মামদানি বলেন, একটি শহরের মর্যাদা নির্ভর করে তার নাগরিকদের নিরাপদ ও সম্মানজনক বাসস্থানের ওপর। কিন্তু এখনও বহু নিউইয়র্কবাসী উচ্চ ভাড়া পরিশোধ করেও তেলাপোকা, ছত্রাক, ভাঙা লিফট, ফুটো পাইপ, শীতকালে পর্যাপ্ত তাপের অভাব এবং অবহেলিত ভবনে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই তার প্রশাসন এই নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ভাড়াটিয়াদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি রিপোর্ট করা হয়, মেয়র জানান, ক্ষমতায় আসার পর গত চার মাসে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতে প্রথমবারের মতো রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিংস অনুষ্ঠিত হয়। এসব শুনানিতে ২,৩০০-এরও বেশি ভাড়াটিয়া অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সেই সব সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বর্তমান ‘রেন্টাল রিপঅফ রিপোর্ট’ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এই রিপোর্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নয়; এটি হাজারো নিউইয়র্কবাসীর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। যারা নিজেদের কষ্টের কথা বলেছেন, তাদের কণ্ঠস্বরই আমাদের নীতিনির্ধারণের ভিত্তি।

চারটি প্রধান কর্মসূচি-মেয়র মামদানি জানান, নতুন পরিকল্পনা চারটি প্রধান ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।

আবাসনের মানোন্নয়ন এর ব্যাপারে বলা হয়, প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক সিটিতে জমা পড়া প্রতিটি হিট কমপ্লেইন্ট (গরমের ব্যবস্থা না থাকা সংক্রান্ত অভিযোগ) তদন্ত করবেন হাউজিং ইন্সপেক্টররা।

এছাড়া বাসিন্দারা নির্ধারিত সময়ে ইন্সপেক্টর না পেলে নিজের সুবিধামতো সময়ে পুনরায় পরিদর্শনের সময় নির্ধারণ করতে পারবেন।

মোল্ড, তেলাপোকা, ইঁদুর, ভাঙা লিফট এবং অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। শুধু দেয়ালে রং করে ছত্রাক ঢেকে দেওয়া আর চলবে না; সমস্যার মূল কারণ দূর করতেই বাড়িওয়ালাদের বাধ্য করা হবে।

খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়। প্রশাসন ফিক্স দ্য সিটি নামে নতুন একটি অভিযান শুরু করবে। এর আওতায় দীর্ঘদিন ধরে আইন লঙ্ঘনকারী ও অবহেলাকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে কাগজে-কলমে পরিচালিত ভবন নিবন্ধন, অভিযোগ ও জরিমানার পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হবে, যাতে পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং সৎ বাড়িওয়ালারাও সুবিধা পান।

ভাড়াটিয়াদের ক্ষমতায়ন এর উপর জোর দেয়া হয়েছে। মেয়র ঘোষণা দেন, নিউইয়র্ক সিটিতে ট্যানেন্ট ইউইনয়ন -কে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ফলে ভাড়াটিয়ারা সংগঠিত হয়ে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে হয়রানি বা উচ্ছেদের ভয় দেখানো যাবে না। সংগঠিত ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে সিটি প্রশাসন সরাসরি কাজ করবে এবং প্রয়োজনে সমস্যাগ্রস্ত ভবনের মালিকানা দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

ভাড়া বাজারে স্বচ্ছতা আনার উপর জোর দেয়া হয়েছে। অনলাইনে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ভাড়ার বিজ্ঞাপন বন্ধে নতুন নিয়ম আনা হবে।

যদি কোনো অ্যাপার্টমেন্টের ছবি বা ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা ডিজিটালি পরিবর্তন করা হয়, তাহলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এতে ভাড়াটিয়ারা প্রতারণার শিকার হবেন না এবং বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আগেই জানতে পারবেন।

ফিক্স দ্য সিটি ও  এনফোর্সমেন্ট ডেস-হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এইচপিডি)-এর কমিশনার ডিনা লেভি জানান, ফিক্স দ্য সিটি কর্মসূচির পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট ডেস নামে আরেকটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এর আওতায় সংগঠিত ভাড়াটিয়া সমিতির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ভবনের ছাদ থেকে বেজমেন্ট পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন করা হবে। এতে দীর্ঘদিনের আইন লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ভাড়াটিয়ার কথা বলা হয়েছে। মেয়রের অফিস টু প্রোটেক্ট টেন্যান্টস-এর নির্বাহী পরিচালক সিয়া উইভার বলেন, এই রিপোর্ট শুধু একটি নীতিপত্র নয়; এটি হাজারো ভাড়াটিয়ার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। তিনি জানান, রিপোর্টে যেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাড়িওয়ালাদের জন্যও সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে। মেয়র মামদানি বলেন, সব বাড়িওয়ালাই খারাপ নন। বিশেষ করে সাশ্রয়ী আবাসনের অনেক মালিক ক্রমবর্ধমান বীমা ব্যয়ের কারণে সমস্যায় পড়েছেন।

তাই প্রশাসন তিন বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি সিটি-সমর্থিত বীমা তহবিল গঠন করছে, যাতে সৎ বাড়িওয়ালারা কম খরচে বীমা সুবিধা পেয়ে ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন।

দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মেয়র। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মেয়র কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় নিউইয়র্কের বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকদের সতর্ক করেন।

তিনি জানান, বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই সবাইকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া, কষ্টসাধ্য শারীরিক কাজ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে কঘ৯৫ মাস্ক ব্যবহার করার আহ্বান জানান। শহরের লাইব্রেরি, পুলিশ প্রিসিঙ্কট ও ফায়ারহাউসে বিনামূল্যে কঘ৯৫ মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

আবাসন নীতিতে নতুন অধ্যায় হিসাবে এটিকে অ্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রেন্টাল রিপঅফ রিপোর্ট  নিউইয়র্ক সিটির আবাসন নীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। ভাড়াটিয়াদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন, বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভাড়াটিয়াদের আইনি সুরক্ষা—সব মিলিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শহরের আবাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

মেয়র মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কের প্রতিটি মানুষের অধিকার একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বাসযোগ্য ঘরে বসবাস করা। সেই অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের দায়িত্ব, এবং আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব।”

ঠিকানা/এসআর 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz