গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা। তার নাম আসাদুজ্জামান হিরা খান (৪৫)। তিনি কাওরাইদ ইউনিয়নের ধামলই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন খানের ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ডেপুটি জেলার স্বপন কুমার ঘোষ জানান, শুক্রবার সকালে আসাদুজ্জামানের বুকে ব্যথা শুরু হলে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি মারা যান। তিনি বলেন, আসাদুজ্জামানকে বিস্ফোরক মামলায় গত ২৯ অক্টোবর গাজীপুর জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। পরে ১০ নভেম্বর কাশিমপুর কারাগারে আনা হয়।
মৃতের স্বজনেরা জানান, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘোষিত মহাসমাবেশে যান আসাদুজ্জামান খান হিরা। পরে রাতে বাড়ি ফেরার সময় শ্রীপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকেসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক দিন পর পুলিশ একটি নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
তারা আরও জানান, তিনি কোনো নাশকতা বা ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন না। তবু পুলিশ অহেতুক গ্রেপ্তার করে বিনা কারণে কারাগারে পাঠাল। আজ কারাগারে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন।
নিহতের ছোট ভাই কামাল হোসেন খান জানান, তার অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে গাজীপুরে গিয়ে জানতে পারি মারা গেছেন। কারাগারে অসুস্থ হলে কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, তার তিনটি ছেলেসন্তান রয়েছে। আগে কোনো মামলা ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারির অভিযোগ, ২৮ অক্টোবর ঢাকার সমাবেশ থেকে ট্রেনে শ্রীপুর রেলস্টেশনে নামলে আসাদুজ্জামান খান হিরাকে গ্রেপ্তার করে শ্রীপুর থানার পুলিশ। সে সময় আরও বেশ কিছু নেতাকর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, তার নামে (হিরা) আগে কোনো মামলা নেই। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তারের পর একটি নাশকতা মামলার আসামি করে অহেতুক হয়রানি ও নির্যাতন করতে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। হয়রানি ও নির্যাতনে তার (হিরা) এমন করুণ মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা জানাই।
ঠিকানা/এনআই