সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• এনআরবি ওয়ার্ল্ড: দেশ ও প্রবাসের সেতুবন্ধনে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে নেটওয়ার্ক • জাবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ, কক্ষে মিলেছে ‘সুইসাইড নোট’ • দলীয় এমপিদের ৬ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী • রিয়াদগামী ১০ ফ্লাইট বাতিল, শাহজালালে অনিশ্চয়তায় হাজারো প্রবাসী • সৌদি আরবে হামলার দায় স্বীকার করল হুতি • আত্মগোপনেই মারা গেলেন গোপালগঞ্জ জেলা আ.লীগের সভাপতি মাহবুব • তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষ : নিহত ১১, আহত ২৭ • কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা : প্রেমিক রাজু গ্রেপ্তার • জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া সেই ল্যাপটপ উদ্ধার • আবুধাবি টেস্ট : তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈরিতায় বাড়ল তেলের দাম

​যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈরিতায় বাড়ল তেলের দাম

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈরিতার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল শুরুর বিষয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হওয়ায় ২৮ জুন (সোমবার) আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম প্রায় ০.৯ শতাংশ বেড়েছে।

আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম জিএমটি ০৩:৩০টা পর্যন্ত প্রতি ব্যারেলে ৭৩.২১ ডলারে দাঁড়ায়, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগের দিনের চেয়ে ১২৭ সেন্ট বেশি। খবর আলজাজিরার।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্রোকারেজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইজি-এর বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান ইপ আলজাজিরাকে বলেন, ‘আজ সকালে ব্রেন্টের আংশিক মূল্যবৃদ্ধি মূলত এমন একটি বাজারের প্রতিফলন, যা সম্ভবত যুদ্ধবিরতির আশায় একটু বেশিই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।’

ফ্যাবিয়ান ইপ আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক এবং চলমান হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধের সময় বেড়ে যাওয়া তেলের দাম প্রায় আগের অবস্থায় চলে এসেছিল। বৃহস্পতিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাজারকে বাস্তবতার মুখোমুখি করে এবং এই সপ্তাহান্তের পাল্টাপাল্টি হামলা সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।’

সোমবার সকালে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে; টোকিও এবং সিউলের বাজারে পতন হয়েছে, অন্যদিকে হংকং ও তাইপের বাজারে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ প্রায় ০.৭ শতাংশ নিচে নেমেছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ১.৯ শতাংশ কমেছে।

উদীয়মান প্রযুক্তিতে টেক কোম্পানিগুলোর বিশাল বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত লাভজনক হবে কি না—তা নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারের সাথে যুক্ত জাপানি এবং কোরিয়ান শেয়ারগুলোতে সবচেয়ে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।
 
জাপানি টেক জায়ান্ট সফটব্যাংক গ্রুপ প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষার সরঞ্জাম তৈরির প্রধান প্রতিষ্ঠান অ্যাডভানটেস্ট কর্পোরেশন-এর শেয়ারের দর ৩.৭ শতাংশ কমেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মেমরি চিপ জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্স যথাক্রমে প্রায় ৫ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কমেছে। তবে হংকংয়ের প্রধান সূচক হ্যাং সেং এবং তাইওয়ানের তাইএক্স উভয়েরই উন্নতি হয়েছে, যা যথাক্রমে ২.২ শতাংশ এবং ১.৪ শতাংশ বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে আইজি-এর ফ্যাবিয়ান ইপ বলেন, ‘ত্রৈমাসিকের শেষে এসে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বিক্রির চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা একটি অসাধারণ সময় পার করার পর তাদের লাভ নিশ্চিত করছেন। এই বছর কোসপি প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং নিক্কেই ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে মূল উদ্বেগটি হলো, এআই-এর এই জোয়ার টেকসই আয়ের প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারবে কি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শুক্র ও শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার কথা উল্লেখ করে তারা এই পদক্ষেপ নেয়। উল্লেখ্য, শান্তিকালীন সময়ে এই প্রণালিটি বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাণিজ্যের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই হামলার জবাবে বাহরাইন এবং কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে ইরান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার গভীর রাতে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান তাদের হামলা বন্ধ করতে এবং যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে।

অ্যাক্সিওস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের দোহায় উভয় পক্ষ আলোচনায় বসবে।

ইরান অবশ্য হামলা বন্ধের এই কথিত চুক্তি বা পরিকল্পিত আলোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিলেন, কিন্তু বৈরিতা বৃদ্ধি এবং চুক্তির আলোকে ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে মতবিরোধের কারণে চুক্তিটি বারবার চাপের মুখে পড়েছে।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz