শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১০৬৫ • ব্যালন ডি’অরে সেরা কোচ কে, ফাঁস হয়ে গেল! • বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর • কানাডায় ভিসা জালিয়াতি : ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা • রাষ্ট্রদূতকে ফি‌রিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত সিদ্ধান্ত : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী • ইসরায়েলের নির্বাচন যেন ‘গণহত্যার’ বিচার বিলম্বিত না করে : অ্যামনেস্টি • মাদ্রাসায় বলাৎকার রোধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার • একাত্তরে দেশবিরোধী ভূমিকার জন্যই আ. লীগের সমর্থন চায় জামায়াত : রিজভী • সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও টাকা ঢুকলে সেই সরকারের দরকার নেই: জামায়াত আমির • মাঠের সাফল্য ও মানবিক কাজের স্বীকৃতি আস্তুরিয়াস পুরস্কার পেলেন মেসি

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

কানাডায় ভিসা জালিয়াতি : ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

কানাডায় ভিসা জালিয়াতি : ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) দীর্ঘ তদন্তে এক সংঘবদ্ধ অভিবাসন জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কানাডায় লোক প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ওই চক্রের পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। অপর এক সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

কানাডা সরকারের অফিশিয়াল পোর্টাল ও কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির প্রকাশিত সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড কোর্টে হাজির করা হয় অভিযুক্ত চারজনকে। তারা হলেন— রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুচ্ছাদের আলম ভূঁইয়া এবং কাজী নাফিজ আলম। এ ছাড়া এই চক্রের পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে দেশটির তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এই অভিবাসন জালিয়াতি মামলার সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই। ওই দিন মার্সিয়ার শহরের একটি বেসরকারি বাসভবনে আকস্মিক কমপ্লায়েন্স চেক পরিচালনা করে সিবিএসএ কর্মকর্তা, স্থানীয় মার্সিয়া পুলিশ বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা। সেখানে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন লক্ষ্য করার পর ওই বছরের আগস্ট মাস থেকে অভিযুক্তদের সন্দেহজনক কার্যক্রমের ওপর পূর্ণাঙ্গ অপরাধ তদন্ত শুরু করে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী।

তদন্তে বেরিয়ে আসে সুপরিকল্পিত জালিয়াতি চক্রের চিত্র। তদন্তকারীরা দেখতে পান, কানাডার স্থানীয় নাগরিকদের ‘হোস্ট’ বা আশ্রয়দাতা হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা নাগরিকদের নামে মোট ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসিক ভিসা বা ভিজিট ভিসা আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। ভুয়া কাগজপত্র, জাল নথিপত্র এবং মিথ্যা বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে একটি অভিনব জালিয়াতি চক্র গড়ে তোলা হয়েছিল, যার মাধ্যমে এসব বিদেশি নাগরিকদের কানাডায় প্রবেশ নিশ্চিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়।

তদন্তকে আরও জোরালো করতে সিবিএসএর অপরাধ তদন্তকারীরা ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে মোট চারটি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় সেখান থেকে প্রচুর নথি এবং কম্পিউটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জালিয়াতি চক্রের পরিধি এবং অপরাধের জটিলতা বিবেচনা করে তদন্তকারীরা পরবর্তীতে সবচেয়ে জোরালো ও প্রমাণযোগ্য ৭৯টি টিআরভি  আবেদনের ওপর নজর রাখেন।

সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও দালিলিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে-

১. অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইনের ১১৭(১) ধারার বিধান লঙ্ঘন করে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা বা সংগঠিত করার ষড়যন্ত্র করা, যা আইআরপিএ-র ১১৭(৩) ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য।

২. অভিবাসন আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত উপাদানগত তথ্য বা সত্য গোপনে অন্যকে জেনেশুনে প্ররোচিত করা, সাহায্য করা বা সহায়তা প্রদান করা, যা আইআরপিএ-র ১২৬ ও ১২৮(এ) ধারার পরিপন্থী।

৩. জেনেশুনে অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করতে অন্যকে প্ররোচিত করা বা সহায়তা করা, যা আইআরপিএ-র ১৩১ ও ১১৭(৩) ধারানুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মামলার বিষয়ে কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাংরি বলেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা সততা, ন্যায্যতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। যারা জালিয়াতির মাধ্যমে আমাদের এই ব্যবস্থাকে অপব্যবহার বা দুর্বল করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় অসাধারণ কাজের জন্য আমি সিবিএসএর সকল কর্মীকে ধন্যবাদ জানাই।

কুইবেক অঞ্চলের সিবিএসএর আঞ্চলিক মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের বলেন, এই তদন্তটি প্রমাণ করে যে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থাকে যারা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, সেই নেটওয়ার্কগুলোকে চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে সিবিএসএ কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের অপরাধ তদন্তকারীদের অসামান্য প্রচেষ্টা অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি জনসচেতনতা ও আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সিবিএসএ সূত্রে জানা গেছে, কানাডার কাস্টমস আইন ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও করা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা, নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রোবেশন, কারাদণ্ড এবং পাকাপাকিভাবে অপরাধমূলক রেকর্ড হওয়ার বিধান রয়েছে।

চলতি বছর কুইবেক ও এর আশপাশের অঞ্চলে এ ধরনের অপরাধ দমনে সিবিএসএ তাদের তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সিবিএসএ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৯১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছিল। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে আরও ৫৫টি নতুন ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz