রহমান আতাউর
তিমির ত্রিযামা শেষে নয়নযুগ্ম অনিমেষে,
শারদীয় অরোরা সাজে মনোহরণ বেশে।
শিউলি ঝরে অঝোরে চরণ ধূলার ’পরে,
মম চিত্ত লয় যে ’হরে মণিদীপ প্রদোষের দেশে।
আলোছায়া আঁধারে, শরৎ আলোর প্রভাকরে।
শরৎ আলোয় দেখেছিলেম তাহারে, পথের ধারে।
শুভ্র কমলা শ্যামতারা, যূথিকা তরু সারে সারে।
মহালয়া শেষে জ্যোতিপ্রকাশ হৃদাকাশে।
আশ্বিনের আঙিনাতে গাঁথন নিয়ে হাতে,
গাঁথিয়া লও জুঁই মালিকা,
ঝরে পড়া, রজত শেফালিকা।
আজি এই শরৎ প্রভাত, যখন তখন অনুখন
দিব্যোদক ঝিরঝির বৃষ্টিপাত,
মাঝে মাঝে শারদীয় অশ্রুপাত।
মধুর রসে মঞ্জুরিল, নন্দী অশ্রুর জলপ্রপাত।
শারদ প্রাতে শিশিরধারা নিভিল আকাশ তারা,
চিত্ত আজি বাঁধনহারা।
কুঞ্জবনের ছায়ায় ছায়ায়,
চপল আলো আলোকধারা।
আমি হয়েছি আজি উন্মুখ,
কানে কানে কী কথা কয়ে যায় শিলীমুখ।
প্রিয়ার সৃক্বণে ভরা থাক
কোমলতায় কমলারাঙা, শিউলি হাসিমুখ।
দোলে দোলে মৃদু সমীরণে
শশিকরে স্নিগ্ধ শেফালিকা।
শ্যামরি ঝামরি দেহা,
নীলাভ্র চন্দ্রালোকে দীপ্ত দীপালিকা।
পুষ্পিত যুথীকার শোভা প্রিয়ার কর্ণলতিকা,
নয়নোৎসবে নাচারী কনীনিকা।
হেরো শরৎ আভাস,
বনবীথি মূর্ছা হয়ে মরে নভোরজঃ হিমেল বাতাস।
হিমকণা আবিল করে নকাসি নীলিম আকাশ।
হৃদয়কুঞ্জ তিথিবালিকা, তুমি শরৎ শেফালিকা।