আহমেদ সাকলায়েন, সাউথ ক্যারোলাইনা: বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার আয়োজনে নবীনবরণ ও সাধারণ সভা সম্প্রতি লেক্সিংটনের গিবসন পন্ড পার্কের মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নানা বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশি নানা স্বাদের খাবারের পাশাপাশি বর্ণিল এই আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সব বয়সী অংশগ্রহণকারীর জন্য নানা রকম প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার ইভেন্ট। রোস্ট-পোলাওয়ের ঘ্রাণ নিতে নিতে সবাই মেতে উঠেছিলেন বেলুন রেস, পিলো পাস, মার্বেল দৌড় ও বিস্কুট দৌড়ের মতো চিরচেনা প্রতিযোগিতায়।
দুপুরের খাবারের পর নবীনদের উদ্দেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুনাভ দাসের আবৃত্তি করা কবিতার মাধ্যমে শুরু হয় নবীনবরণ পর্ব। কবিতাটি মূলত এই শহরে এবং বিএসএ পরিবারে নতুন শিক্ষার্থীদের আগমনকে হৃদয়গ্রাহী ও উষ্ণভাবে স্বাগত জানায়। বিএসএর ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার রফিকুল ইসলাম রানা সবার হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন। এ সময় তাঁরা উপস্থিত সবার কাছে সংক্ষেপে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন।
সংগঠনের ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত সভাপতি তাহরিমা মোহসিন মোহনা কমিটির অন্য কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। নতুন কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জায়বুল আনাম—সহসভাপতি, অরুনাভ দাস—সাধারণ সম্পাদক, সুস্মিতা রায়—কোষাধ্যক্ষ, তন্দ্রা ঘোষ—সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরী—ক্রীড়া সম্পাদক।
নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে এবং বার্ষিক এই আয়োজনকে সার্থক করে তোলার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মোহনা বলেন, বিএসএ আমার কাছে শুধু একটি ছাত্রসংগঠন নয়, বরং একটি কমিউনিটি, একটি পরিবার। আমরা যারা বাংলাদেশ থেকে এত দূরে এসে পড়াশোনা করছি, তাদের নিজের দেশের মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকাটা অনেক বড় ব্যাপার। আর বিএসএ সেই জায়গাটি তৈরি করে দেয়।
নতুন কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ফ্যাকাল্টি সদস্য, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং কমিউনিটির সব বাংলাদেশির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ রক্ষা করে। মূলত সেটিই সাউথ ক্যারোলাইনা বিএসএকে অন্য অনেক সংগঠন থেকে আলাদা করে তোলে।
এ সময় তিনি বিগত কমিটিগুলোকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তাঁর মতে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উদ্যম ও কঠোর পরিশ্রমের ওপরই আজকের বিএসএ প্রতিষ্ঠিত। ভবিষ্যতেও সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়োজন হবে এবং নতুন নতুন চিন্তার সমন্বয়ে সবার একসঙ্গে এগিয়ে চলার পথ আরও সুন্দর ও মসৃণ হবে।
বিভিন্ন আয়োজন, খাবার, পোশাক, হাসি-আড্ডার পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থী ঐশি জ্যোতি এবং বাবা-ছেলে তাহমিদ ও আনন্দের সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। সবকিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা মাথার ওপর উড়তে উড়তে যেন সারাক্ষণই জানিয়ে দিয়ে গেছে—এই তো বাংলাদেশ।