বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড (রেজিস্ট্রেশন কার্ড) আনতে গিয়ে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীর তিন দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার লামা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা। বুধবার পুলিশ ও নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ তিন কিশোরীর বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তারা সবাই ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একই পাড়ার বাসিন্দা এবং পরস্পরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। অন্য দুজন স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চকরিয়ার মানিকপুরের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় ওই তিন কিশোরী। তাদের মধ্যে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনার কথা ছিল। তবে তারা মানিকপুরের ওই বিদ্যালয়ে আদৌ পৌঁছেছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজ এক কিশোরীর মা জানান, পরিবারের জানামতে তাদের কারও কাছে কোনো মোবাইল ফোন থাকার কথা ছিল না। তবে যে অটোরিকশায় করে তারা চকরিয়া গিয়েছিল, সেই চালক পরিবারকে জানিয়েছেন যে কিশোরীদের কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাদের হদিস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের শরণাপন্ন হন অভিভাবকেরা।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে মুঠোফোনসহ ওই তিন কিশোরীকে অবস্থান করতে দেখেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে সেখান থেকে তারা কোন দিকে রওনা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিশোরীরা চকরিয়া কিংবা পর্যটন শহর কক্সবাজারের কোথাও থাকতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, কিশোরীদের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত ও নিরাপদে উদ্ধারের লক্ষ্যে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও সম্ভাব্য স্থানগুলোর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে পুলিশ। তাদের উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।