বসনিয়ায় অবৈধ সীমান্ত পারাপারে শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৮
•
অনলাইন সংস্করণ
বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিকেরা। এ সময়ে ৬৮ জন বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও তুরস্ক।
দেশটির সীমান্ত পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার বা এ ধরনের চেষ্টার সময় ১ হাজার ১৯৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৬ শতাংশ বেশি।
বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গৃহীত ‘দেশটির অভিবাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মিশরের নাগরিক ১৩৬ জন, আফগানিস্তানের ১১৫, পাকিস্তানের ১১৩, বাংলাদেশের ৬৮ এবং তুরস্কের ৬৩ জন।
এদিকে, দেশটির বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৬ শতাংশ বেশি।
অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতেও অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এসব কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৯২৪ জন অবস্থান করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫৮১ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রথম তিন মাসে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। এসব অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিল কর্মসংস্থান।
এদিকে, মন্ত্রিপরিষদ দেশটির সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা এবং সংগঠিত অপরাধ দমনের অগ্রগতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত প্রতিবেদনও গ্রহণ করেছে। সীমান্ত নজরদারি, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এসব কর্মপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশলের আওতায় গত বছর ৫১টি কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯টি বা ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ সম্পূর্ণ এবং বাকি ২২টি বা ৪৩ দশমিক ১৪ শতাংশ আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রসমূহের জোট (গ্রেকো) ২০২৪ সালের নভেম্বরে জানিয়েছিল, বসনিয়া-হারৎসেগোভিনা তাদের ২৫টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র দুটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছে। ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আটটি বাস্তবায়িত হয়নি। আগামী নভেম্বরে সুপারিশ বাস্তবায়নে দেশটির অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে।