কুলাউড়ার প্রথম সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুন্তাকিম চৌধুরী আর নেই
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৬
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্দুল মুন্তাকিম চৌধুরী আর নেই। ৯৭ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মেলবোর্নে বসবাস করছিলেন মুন্তাকিম চৌধুরী। বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
ব্যারিস্টার মুন্তাকিম চৌধুরীর জন্ম মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুরে। তাঁর বাবা তজম্মল আলী চৌধুরী। জন্ম কুলাউড়ায় হলেও রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে। পাকিস্তানের তৃতীয় জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলনসহ তৎকালীন বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুন্তাকিম চৌধুরী। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটিরও সদস্য। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে তাঁর যুক্তি ও অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত ছিল।
১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিলেট-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর মধ্য দিয়ে কুলাউড়ার প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন এই রাজনীতিক।
রাজনীতির পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতার পর জাপান ও জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পেশাগত জীবনেও একজন ব্যারিস্টার হিসেবে আইন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ব্যারিস্টার আব্দুল মুন্তাকিম চৌধুরীর মৃত্যুতে কুলাউড়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে দেশ হারাল ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে, যিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।