সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে পরিচয় দিয়ে মেয়ে কণ্ঠে কথা বলতেন ২০ বছর বয়সী তরুণ শান্ত ইসলাম। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ইতালি প্রবাসী যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। পরে মোবাইল ফোনে কথিত বিয়েও করেন ওই প্রবাসী। এরপর টাকার লোভে শান্তর বাবা নিজেকে ওই প্রবাসীর নকল শ্বশুর পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাবা-ছেলে মিলে দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার অভিযোগে শান্ত ও তার বাবাকে আটক করেছে নাটোরের লালপুর থানা পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন গন্ডবিল গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. শান্ত আলী (২০) ও তার বাবা মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)।
পুলিশ জানায়, লালপুর থানার উপপরিদর্শক (নিঃ) এ জে মিন্টুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গন্ডবিল গ্রামে শান্তর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং এবং প্রবাসীকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রবাসীকে টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছিলেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।