শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা, উদ্বেগ জাতিসংঘের • মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী • সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার কঠোর নিন্দা জানাল বাংলাদেশ • জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন • ভূমধ্যসাগরে ঝুঁকিতে পড়া ১০১ অভিবাসীকে উদ্ধার • বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ • প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১ মাসের ক্ষমতা চাইলেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব • হলিউডের সম্মাননা আসরে গাইবেন পপ তারকা টেইলর সুইফট • যে ৫ ভিটামিনের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে • কুমিল্লায় তাজমিন হত্যায় সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক আটক

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​পাওয়ার ম্যাজিক ট্রিপে জামায়াত-আ.লীগ

​পাওয়ার ম্যাজিক ট্রিপে  জামায়াত-আ.লীগ

বিজ্ঞাপন
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত নয়, নানান চাপে চ্যাপ্টা রাখতে চায় জামায়াতে ইসলামী। এ সময়ে কাকতালীয়ভাবে একই চাওয়া আওয়ামী লীগেরও। সরকার যে দশায় চলছে, তাতে আগামীতে ক্ষমতার চৌহদ্দি নিশ্চিত ভাবছে দল দুটিই। ভাবনাদৃষ্টেই চলছে তাদের এগিয়ে চলা। জামায়াত একদিকে ১১ দলীয় ব্যানারে লংমার্চে দেশ গরম করছে, আরেকদিকে দলটির ৩৪ সংসদ সদস্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য ট্রিপে মশগুল। আর আওয়ামী লীগ মাঠ তাতাচ্ছে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফিরে আসার আওয়াজে। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা সামনে রেখে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। 
আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশের দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার আগে আন্দোলনকে ধীরে ধীরে জোরদার করে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো হবে। এর অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 
এদিকে জামায়াতের সফরকারী দলে এমপিরা ছাড়াও দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং এমপিদের পরিবারের সদস্যসহ সংখ্যায় তারা ৭১ জন। জামায়াতের ভাষায় এটি ‘শিক্ষাসফর’। কিন্তু জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের এত সদস্যের একসঙ্গে এমন সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে যেনতেন ঘটনা নয়। এ সফরে তারা বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বিরোধী দল, ইসলামিক রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
মালয়েশিয়া সফর শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের সফরকারী দলটি সিঙ্গাপুরে পৌঁছায় এবং সেখানে তারা এক সিম্পোজিয়ামে অংশ নেন। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিঙ্গাপুরে সফর শেষে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরেক দেশ ফিলিপাইনে পৌঁছান। ফিলিপাইনের মধ্য দিয়ে তাদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর শেষে হবে। এরপর শুরু হবে তাদের মধ্যপ্রাচ্য সফর। প্রথমে তারা বাহরাইন যাবেন এবং শেষে সৌদি আরবে ওমরা পালন করবেন। দুই দেশেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে সফরকারীদের। সৌদি আরবে ওমরা পালন শেষে ১ অক্টোবর দেশে ফিরবেন তারা। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু এ সফর নয়, ভবিষ্যতে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দলটির সফর চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্য যখন আট দফা দাবিতে লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত, তখন জামায়াতের ৩৪ জন এমপি বিদেশ সফরে রয়েছেন। দেশে এত বড় কর্মসূচি চলাকালে দলের একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ নেতার এই বিদেশ সফর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। আর এমন একটা ফাঁকা ময়দানে আরেক ম্যাটিকুলাসে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বইকে কেন্দ্র করে জামায়াতের ক্ষমাপ্রার্থনা ইস্যু। জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তার বইয়ে লিখেছেন, একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে একাধিকবার ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নেতৃত্বের আপত্তি ও অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী : ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ নামের বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ডে বইটির প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। সেখানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ এবং ঢাকায় সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ আলোচনায় অংশ নেন। আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ তার শুভানুধ্যায়ী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও জামায়াতের কেউ ছিলেন না।
পুরো বিষয়টিই রহস্যঘেরা। সমান্তরাল রহস্য আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের মধ্যে ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ও লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির বই ‘নেক্সাস’ ঢুকে পড়া। বইটি হাতে পাওয়ার তিন দিনের মাথায় সেটি আবার ফেরত নিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বইটি দেওয়া নিয়ে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের সমালোচনা ও আপত্তির পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বই ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ম্যাজিকের মতো পুরো ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের বিভিন্ন উপহারের সঙ্গে হারারির ‘নেক্সাস’ বইও দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পর হেফাজতে ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো আপত্তি জানায়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রশ্নের অবসান হয়নি। কীভাবে বইটি পুশ হলো সেই জবাব মেলেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz