প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫
•
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে ঘিরে বহু বছর ধরে চলা বিতর্কিত ‘বিয়ে ও অভিবাসন জালিয়াতি’র অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন দাবি করেছেন, ওমর তাঁর ভাইকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ফেডারেল তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়েও আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগটির পক্ষে কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত বা আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসেনি এবং ইলহান ওমর বরাবরই অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন।
ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক সম্মেলনে রক্ষণশীল পডকাস্টার বেনি জনসনের সঙ্গে আলাপকালে মুলিন বলেন, ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে তদন্ত ‘চলমান’। তাঁর ভাষ্য, ওমর তাঁর ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে বিয়ে করেছিলেন এবং ওই ব্যক্তি বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন। একই সঙ্গে ওমরের পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথকভাবে তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। বিভাগটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, চলমান তদন্ত, তদন্তের পদ্ধতি কিংবা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য না করাই তাদের নীতি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস সদস্যসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
মুলিন বলেন, কোনো মামলা এগিয়ে নেওয়া হলে সেটি যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়, বরং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত আইনি মামলা হয়, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন বা নাগরিকত্বসংক্রান্ত আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি দাবি করেন, ওমরের ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম প্রমাণিত হলে বহিষ্কারের প্রশ্নও উঠতে পারে। তবে এমন পদক্ষেপ স্বয়ংক্রিয় নয়; নাগরিকত্ব বাতিল বা বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা নিতে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণ প্রয়োজন।
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর ২০০০ সালে ১৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। পরে তিনি মিনেসোটা থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অতীতের বিয়ে নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০০৯ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন এবং ২০১৭ সালে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। পরের বছর আহমেদ আবদিসালান হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। এলমি আসলে ওমরের ভাই এবং তাঁকে অভিবাসন সুবিধা দিতেই বিয়েটি হয়েছিল— এমন অভিযোগ প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন মহলে প্রচারিত হয়ে আসছে।
ইলহান ওমর শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি এলমিকে তাঁর ভাই হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক ও আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর দপ্তরও বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম অতীতে তাঁর বৈবাহিক ইতিহাসে কিছু অসঙ্গতি ও প্রশ্নের কথা তুলে ধরলেও এলমি তাঁর ভাই ছিলেন কিংবা বিয়েটি অভিবাসন জালিয়াতির উদ্দেশ্যে হয়েছিল— এমন সিদ্ধান্তমূলক প্রমাণ জনসমক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এর আগে প্রকাশ্যে একই অভিযোগ তুলেছেন। তবে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য অভিযোগের আইনি প্রমাণ নয়। এখন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধানের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেলেও তদন্তের ফলাফল এবং কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে কি না, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ফলে ইলহান ওমরকে ‘অভিবাসন জালিয়াতিতে দোষী’ কিংবা তাঁর বহিষ্কার নিশ্চিত— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তদন্ত চলার কথা বলেছেন; অন্যদিকে ওমর অভিযোগ অস্বীকার করছেন। অভিযোগটির সত্যতা এখনো কোনো আদালত বা প্রকাশ্য সরকারি অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।