বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থি রাজাপাকসে গ্রেপ্তার • নাটোর রেলস্টেশনে বসে কাঁদছিলেন জার্মান পর্যটক • ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী মির্জা ফয়সল • উত্তাল দিল্লি : ফের আটক রাহুল গান্ধীসহ কয়েক সাংসদ • বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত • ১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করল বিমান • ক্যানসার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী • এল নিনোয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করবে আইএমএফ • আবরার হত্যার প্রতিবাদই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে তীব্র করেছিল : রিজভী • শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নিজের শাস্তি চেয়ে রোনালদোর পাঁচ পাতার চিঠি

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের কাছে রেকর্ড পরিমাণ ধংসাত্মক বোমা বিক্রি পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ইসরায়েলের কাছে রেকর্ড পরিমাণ ধংসাত্মক বোমা বিক্রি পরিকল্পনা ট্রাম্পের

কয়েকটি বিষয় নিয়ে ইসরায়েল ও ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপড়েন থাকলেও অস্ত্রের বড় চালান বিক্রিকে সমর্থন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: রয়টার্স

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার এক বিশাল চালান বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত এই সমরাস্ত্রের সবচেয়ে বড় একক চালান হতে যাচ্ছে বলে খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ২৮০ কোটি ডলারের এই অস্ত্র চুক্তির আওতায় দুই হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার বোমা দেওয়া হবে, যার মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা।

এছাড়া এই বিক্রয় তালিকায় ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও থাকছে।

পশ্চিমা সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম ধ্বংসাত্মক এই এমকে-৮৪ বোমা বিস্ফোরণের পর এর ধাতব টুকরোগুলো কয়েক হাজার ফুট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এটি পুরু কংক্রিট ও লোহা ভেদ করতে পারে এবং মাটিতে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি করে।

বিএলইউ-১১৭ বোমা হল এমকে-৮৪ এর একটি বিশেষ রূপ। এতে তাপ প্রতিরোধী প্রলেপ থাকে, যা নৌবাহিনীর গুদামে নিরাপদে সংরক্ষণের উপযোগী। আর আই-২০০০ বোমা ভূগর্ভস্থ বা সুরক্ষিত কাঠামো ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।

এসব অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা এবং দুই দেশের সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপড়েনের মধ্যে এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে।

যদিও এটিকে 'বিক্রি' বলা হচ্ছে, বাস্তবে 'ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং'-এর মাধ্যমে এই লেনদেনের অর্থায়ন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, যে অর্থে ইসরায়েল এই অস্ত্র কিনবে, তা যুক্তরাষ্ট্রই তাদের সরবরাহ করবে। আর তা মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, "বিদেশে অস্ত্র বিক্রির সব সিদ্ধান্তই যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। আমরা প্রক্রিয়াধীন কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করি না।"

এ বিষয়ে ইসরায়েলি দূতাবাসও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এই চুক্তির আকার বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের আগের সব ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিক্রির রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে ২০২৫ সালে কংগ্রেসের সাধারণ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে ২.০৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতর্কিত চালান পাঠিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

গাজা ও লেবাননে শত শত বার ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ওইসব বোমা ব্যবহার করেছে ইসরায়েল, যা বিপুল প্রাণহানির অন্যতম কারণ।

গাজায় নিজেদের ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চলেও নিয়মিত এমকে-৮৪ বোমা ফেলেছে ইসরায়েল, যা নিয়ে তারা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ট্রেভর বল বলেন, কোনো ভবনে হামলা করতে চাইলে তারা এ বোমা ব্যবহার করতে পছন্দ করে। কারণ একটি এমকে-৮৪ বোমা পুরো ভবনটি ধসিয়ে দিতে পারে।

প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন পাইলটদের কাছে ‘হ্যামার’ বা হাতুড়ি নামে পরিচিতি পায় এ বোমা।

গাজা যুদ্ধ চলাকালে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহতের আশঙ্কায় এ ধরনের বোমা ইসরায়েলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল জো বাইডেনের প্রশাসন। ২০২৪ সালে এর একটি চালান স্থগিত করা হয়েছিল।

তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার প্রথম মাসেই সেই নীতি উল্টে দেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন বলেন, "ইসরায়েল গাজা এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যেভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে, তাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইসরায়েল আসলে কাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু মনে করে, তা নিয়েই প্রশ্ন আছে।"

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের মধ্যে টানাপড়েন থাকার পরও এই অস্ত্র বিক্রির পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

গাজায় ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিপরীতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব ছিল।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি স্বল্পস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছালে নেতানিয়াহুর মিত্ররা এর কঠোর সমালোচনা করেছিল এবং চুক্তিতে মধ্যস্থতা করায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সমালোচনায় মুখর হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের হতাশা ক্রমশ বাড়ছে। কারণ নেতানিয়াহু দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন।

ফিনুকেন বলেন, নতুন চুক্তির আওতায় এসব অস্ত্র সরবরাহ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে এ চুক্তির অনুমোদন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা দেয়।

"পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি আনা যদি ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হয়, তাহলে এই চুক্তি অস্বাভাবিক। তারা চাক বা না চাক, এর মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতি একটি আস্থার বার্তাই দেওয়া হচ্ছে।"

সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটি এবং হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির নেতাদের এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিতে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক নেতারা অতীতে এ ধরনের অস্ত্র বিক্রিতে সমর্থন দিয়ে এলেও গাজা ও ইরানের যুদ্ধের হতাশাজনক ফলাফলের কারণে তারা এখন সাধারণ সদস্যদের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে যুদ্ধের বিপক্ষে, যা জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদের ১০০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য জুলাই মাসে ইসরায়েলকে সব ধরনের মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, তিনি এই অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবেন।

"ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন করদাতাদের অর্থে এমন এক সরকারের কাছে বোমা পাঠাচ্ছেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন ওয়ান্টেড যুদ্ধাপরাধী। অথচ নেতানিয়াহু সরকার গাজা ও লেবাননে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমেরিকানদের হত্যার জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথ আটকে দিচ্ছে।"

তিনি বলেন, "এটি 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি নয়। আমরা এটি বন্ধ করার চেষ্টা করব।"

ইসরায়েলের প্রতি রিপাবলিকানদের সমর্থন থাকলেও মেগিন কেলি, টাকার কার্লসন এবং ক্যান্ডেস ওয়েন্সের মত রক্ষণশীল বিশ্লেষকরা ইসরায়েলকে পাঠানো বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz